রাতে যে কোনো ভাবে বীর্যপাত হয়ে গেলে ( হস্তমৈথুন, , স্বপ্নদোষ , সহবাস ) যত দ্রুত সম্ভব ফরজ গোসল করে সেহেরী খাবেন ৷ যদি গোসল করতে যাওয়ার কারনে সেহেরী খাওয়ার সময় সংকীর্ণ হয়ে যায় বা সময় না থাকার সম্ভাবনা জাগে অথবা কোনো ভাবেই গোসল করা সম্ভব না হয় , তবে প্রথমে প্রস্রাব করে লজ্জাস্থান ধুয়ে নিবেন, তারপর কাপড় পরিবর্তন করে নাকের ভিতর পানি দেওয়া সহ গড়গড়ার সহিত অযু করে সেহেরী খাবেন ৷ সেহেরী খাওয়ার পর সেহেরীর সময় উত্তীর্ন হলে যতদূর সম্ভব তাড়াতাড়ি গোসল করার চেষ্টা করবেন ৷ তবে তখন গোসলের সময় নাকে সাবধানে পানি দেবেন আর গড়গড়া সহ কুলি করবেন না ৷
সহবাসের ক্ষেত্রে বীর্যপাত হোক বা না হোক , পুরুষাঙ্গের অগ্রভাগ স্ত্রী লিঙ্গে প্রবেশ করলেই গোসল ফরজ হয়ে যাবে ৷
স্বপ্ন দেখলেন যে সহবাস করতেছেন কিন্তু জাগ্রত হয়ে দেখলেন যে বীর্যপাত ঘটেনি অথবা আপনি উত্তেজিত আছেন গোসল ফরজ হবেনা ৷ :
আপনি স্বপ্ন দেখলেন আপনার বীর্যপাত ঘটেছে কিন্তু জাগ্রত হয়ে দেখলেন যে বীর্যপাত হয়নি , গোসল ফরজ হবেনা ৷
রোযা অবস্থায় হস্তমৈথুন এবং সহবাস করলে রোযা ভঙ্গ হয়ে যাবে ৷ স্বপ্নদোষ হলে রোযা ভঙ্গ হবেনা , তবে গোসল ফরজ হবে ৷ এক্ষেত্রে সাবধানে নাকে পানি দিবেন ও গড়গড়া করে কুলি করা ব্যতীত গোসল করতে হবে ৷
হস্তমৈথুন করলে রোযা ভঙ্গ হবে এবং ঐসময় হতে না খেয়ে থাকতে হবে ৷ পরবর্তীতে ঐদিনের রোযা কাযা করতে হবে , কাফফারা দিতে হবেনা ৷ সহবাস করলে কাযা কাফফারা দুটোই করতে হবে ৷
রোযা অবস্থায় স্বাভাবিক কুলি করবেন , গড়গড়া করবেন না ৷ আর নাকের ভিতর পানি দিতে না পারলেও আঙ্গুল দিয়ে নাকের ভিতরের পাতা ভিজিয়ে পরিস্কার করে নিবেন ৷
কামাসক্তি ব্যতীত ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশে স্ত্রীকে স্বাভাবিক চুম্বন করা যাবে , তবে কামাসক্তির উদ্রেগ জাগার সম্ভাবনা থাকলে চুম্বনও করা যাবেনা ৷ পরনারীকে কোনো ক্রমেই নয় ৷ রোযা ভঙ্গ হয়ে যাবে ৷
রোজা অবস্থায় নারীদের পিরিয়ড ( হায়েজ) আরম্ভ হলে বা সন্তান প্রসব হলে (নেফাস দেখা দিলে ) রোজা ভেঙে যাবে। তবে সক্ষম হলে ওইদিন রোজার সম্মানার্থে ইফতার পর্যন্ত পানাহার থেকে বিরত থাকা ভালো ৷ একান্তই পানাহারের প্রয়োজন হলে লোকচক্ষুর অন্তরালে করা উচিত ৷ পরে এ রোজা কাজা আদায় করে নিতে হবে ৷ আর যারা উপযুক্ত ওজরের কারণে রোজা রাখতে পারবেন না, তারা রমজানের সম্মানার্থে অন্যদের সামনে পানাহার করবেন না। এটা তাকওয়ার পরিচায়ক। (সুরা হজ : ৩২)।
অনুরূপভাবে রোযা থাকা অবস্থায় দিনের বেলায় নারীদের পিরিয়ড বন্ধ হলে বা নেফাস হতে পবিত্র হলে সেদিনের অবশিষ্ট সময় পানাহার থেকে বিরত থাকবেন। এটি রোজার সম্মানে, রোজা হিসেবে নয় । এ দিনের রোজা পরে আদায় করতে হবে। পরদিন থেকে রোজা পালন করবেন ৷ এমতাবস্থায় নারীরা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকবেন ৷ সবার সঙ্গে স্বাভাবিকভাবেই চলাফেরা করতে পারবেন। রান্নাবান্না করা, দোয়া-দুরুদ পড়া, তাসবিহ-তাহলিল—সবই স্বাভাবিকভাবে করবেন। সেহরি-ইফতারেও শরিক হতে পারবেন।
উল্লেখ্য যে হায়েজ-নেফাস অবস্থায় নামাজ কাযা হলে তা পরে আদায় করতে হবেনা ৷ তবে অবশ্যই রমযানের রোযা কাযা আদায় করতে হবে ৷
পবিত্র রমযান মাসের উসিলায় আল্লাহ সকলকে হেফাযত করুক, আমীন......