চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে বাস-মাইক্রোবাসের সংঘর্ষে শিশুসহ ১০ জন নিহত হয়েছেন। বুধবার (২ এপ্রিল) সকাল ৭টার দিকে চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার জাঙ্গালিয়া চুনতি বন রেঞ্জ কর্মকর্তার কার্যালয়ের সামনে মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতদের মধ্যে তিনজনের বাড়ি ঝিনাইদহের শৈলকূপা উপজেলার বোয়ালিয়া গ্রামে। তারা হলেন—দিলীপ বিশ্বাস, তার স্ত্রী সাধনা রাণী ও মেয়ে আরাধ্য বিশ্বাস (৬)।
চট্রগ্রামের দোহাজারি হাইওয়ে থানার উপপরিদর্শক মনজুর হোসেন বলেন, চট্টগ্রামমুখী রিলাক্স পরিবহনের একটি বাসের সঙ্গে কক্সবাজারগামী মাইক্রোবাসের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলে এক শিশুসহ সাতজন নিহত হন। আহত হন পাঁচজন। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও তিনজনের মৃত্যু হয়।
তিনি জানান, আহতদের স্থানীয় হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। নিহতদের পরিচয় জানার চেষ্টা চলছে। সম্ভবত মাইক্রোবাসটি কক্সবাজারে যাচ্ছিল।
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ বক্সের ইনচার্জ উপপরিদর্শক নুরুল আলম আশেক বলেন, লোহাগাড়া উপজেলায় চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে বাস-মাইক্রোবাসের সংঘর্ষে আহত অজ্ঞাত একজনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় লোহাগড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে আনা হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
দোহাজারী হাইওয়ে থানার উপপরিদর্শক মো. মতিন বলেন, দুর্ঘটনায় এখন পর্যন্ত মোট ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিহত তিনজনের পরিচয় শনাক্ত করা গেছে। বাকিদের পরিচয় শনাক্তের কাজ চলছে।
এদিকে গণমাধ্যমে মর্মান্তিক এ দুর্ঘটনার খবর প্রকাশের পরই নিহত দিলীপ বিশ্বাসের গ্রামের বাড়ি ঝিনাইদহের শৈলকূপা উপজেলার বোয়ালিয়া গ্রামে চলছে শোকের মাতম। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে গ্রাম। নিহত দিলীপ বিশ্বাস একটি বেসরকারি সংস্থায় চাকরি করতেন। তারা ঈদের ছুটিতে স্ত্রী-সন্তানসহ কয়েকজন মিলে কক্সবাজারে ঘুরতে যাচ্ছিলেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।
শৈলকূপা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাসুম খান ঢাকা পোস্টকে বলেন, মর্মান্তিক দুর্ঘটনার খবর শুনেছি। তবে চট্টগ্রাম থেকে এখনো অফিসিয়ালি আমরা কোনো তথ্য পাইনি। যোগাযোগ করার চেষ্টা করছি। আপডেট তথ্য পেলেই গণমাধ্যমকে আমরা বিস্তারিত জানাতে পারব।