ঢাকা ০৬:৩৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ নভেম্বর ২০২৫, ১৫ অগ্রহায়ণ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

মীমাংসা বৈঠকে ৩ লাখ টাকায় রফা

মধুপুরে সিজারিয়ান ভুলে প্রসূতির মৃত্যুর অভিযোগ

মধুপুর করেসপন্ডন্ট, শালবনবার্তা২৪.কম
  • আপডেট সময় : ০৬:২৪:২৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ নভেম্বর ২০২৫ ৫ বার পড়া হয়েছে

মধুপুরে সিজারিয়ান অপারেশনের পর অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে খাদিজা খাতুন (২০) নামে এক তরুণীর মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে সিজারে জন্ম নেয়া শিশুটি(মেয়ে) বেঁচে আছে। এ ঘটনায় মধ্য রাতে মীমাংসা বৈঠকে ৩ লাখ টাকায় রফা হওয়ার তথ্য জানা গেছে। এক লাখ নগদ, বাকিটা খাদিজার দাফনের পর।

শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে মধুপুর হাসপাতাল রোডের প্রাইভেট ক্লিনিক এশিয়া হাসপাতালে এ ঘটনাটি ঘটে। মৃত খাদিজা ময়মনসিংহ ফুলবাড়িয়া উপজেলার কেশোরগঞ্জ এলাকার বাকতা গ্রামের সৌদি প্রবাসী শাহীন মিয়ার স্ত্রী।
মধুপুর উপজেলার আউশনারা ইউনিয়নের চৌরাস্তা এলাকার মেয়ে সে।এর আগে খাদিজার তিন বছর বয়সী একটি মেয়ে রয়েছে।

পরিবার সূত্র জানায়, খাদিজার এটি ছিল দ্বিতীয় সিজার। অপারেশন করেন ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চাকরিরত (শুক্রবার মধুপুরে চেম্বার করেন) সহকারী অধ্যাপক ডা. শিমলা আফতাব শাওন। সিজার সম্পন্ন হওয়ার পরই খাদিজার শরীরে প্রচুর রক্তক্ষরণ শুরু হয়। দুই ব্যাগ রক্ত দেওয়া হলেও অবস্থার উন্নতি হয়নি।

স্বজনরা অভিযোগ করেন, অপারেশনের পর দীর্ঘ সময় রোগীর কাছে যেতে দেওয়া হয়নি। ভুল চিকিৎসা এবং অবহেলার কারণেই তার মৃত্যু হয়েছে।
সন্ধ্যার দিকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানোর কথা বলে নিজেরাই অ্যাম্বুলেন্সে তোলে দেয়। ততক্ষণে খাদিজা মারা গিয়েছিলেন বলে দাবি পরিবারের।

এ বিষয়ে হাসপাতালের অন্যতম পরিচালক মানিক সাহা জানান, অভিযোগ সত্যি নয়।অপারেশনের পর রোগীকে পোস্ট অপারেটিভ রুমে রাখা হয় সেখানে কাউকে যেতে দেয়া হয় না। তিনি আরও জানান,রোগীর আগে থেকেই শ্বাসকষ্ট ছিল। রক্তক্ষরণ ও শ্বাসকষ্টের কারণে তাকে আইসিইউতে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। দুই ব্যাগ রক্ত দেওয়া হলেও অবস্থার অবনতি ঘটে। তার দাবি—ময়মনসিংহে নিতে দেরি হওয়াতেই রোগী মারা গেছে।
এদিকে খাদিজার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে স্বজন ও স্থানীয়রা এশিয়া হসপিটাল প্রাঙ্গণে ভীড় করে আহাজারী করেন। এ সময় হাসপতালের সামনে প্রচন্ড ভিড় জমে। স্বজনরা চিকিৎসার কাগজপত্র চাইলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তা না দেওয়ায় উত্তেজনা আরও বাড়ে।

খাদিজার চাচা তোতা মিয়া ও নানা ভুট্টো মিয়া,স্বজন অ্যাডভোকেট আমিনুল ইসলাম জানান, “চিকিৎসার স্পষ্ট অবহেলাতেই খাদিজার মৃত্যু হয়েছে।”
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে অবস্থান নিলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। পরে রাতে স্থানীয় নেতৃবৃন্দের মধ্যস্থতায় হাসপাতালের মালিক পক্ষ ও মৃতের পরিবারের মধ্যে মীমাংসার আলোচনায় বসা হয়। মধ্যরাত পর্যন্ত আলোচনা চলাকালীন হাসপাতালের সামনেই লাশ নিয়ে অ্যাম্বুলেন্স অবস্থান করছিল।

খাদিজার এক স্বজন জানান, তিন লাখ টাকা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ প্রদান করবে। যার এক লাখ নগদ প্রদান করা হয়। খাদিজার জানাজা ও দাফন শেষে বাকি দুই লাখ দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়।
এদিকে হাসপাতালের সামনে গিয়ে দেখা যায়, সিজারের জন্য হাসপাতালে ভর্তি থাকা একাধিক রোগী হাসপাতাল থেকে চলে যাচ্ছেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!

মীমাংসা বৈঠকে ৩ লাখ টাকায় রফা

মধুপুরে সিজারিয়ান ভুলে প্রসূতির মৃত্যুর অভিযোগ

আপডেট সময় : ০৬:২৪:২৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ নভেম্বর ২০২৫

মধুপুরে সিজারিয়ান অপারেশনের পর অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে খাদিজা খাতুন (২০) নামে এক তরুণীর মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে সিজারে জন্ম নেয়া শিশুটি(মেয়ে) বেঁচে আছে। এ ঘটনায় মধ্য রাতে মীমাংসা বৈঠকে ৩ লাখ টাকায় রফা হওয়ার তথ্য জানা গেছে। এক লাখ নগদ, বাকিটা খাদিজার দাফনের পর।

শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে মধুপুর হাসপাতাল রোডের প্রাইভেট ক্লিনিক এশিয়া হাসপাতালে এ ঘটনাটি ঘটে। মৃত খাদিজা ময়মনসিংহ ফুলবাড়িয়া উপজেলার কেশোরগঞ্জ এলাকার বাকতা গ্রামের সৌদি প্রবাসী শাহীন মিয়ার স্ত্রী।
মধুপুর উপজেলার আউশনারা ইউনিয়নের চৌরাস্তা এলাকার মেয়ে সে।এর আগে খাদিজার তিন বছর বয়সী একটি মেয়ে রয়েছে।

পরিবার সূত্র জানায়, খাদিজার এটি ছিল দ্বিতীয় সিজার। অপারেশন করেন ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চাকরিরত (শুক্রবার মধুপুরে চেম্বার করেন) সহকারী অধ্যাপক ডা. শিমলা আফতাব শাওন। সিজার সম্পন্ন হওয়ার পরই খাদিজার শরীরে প্রচুর রক্তক্ষরণ শুরু হয়। দুই ব্যাগ রক্ত দেওয়া হলেও অবস্থার উন্নতি হয়নি।

স্বজনরা অভিযোগ করেন, অপারেশনের পর দীর্ঘ সময় রোগীর কাছে যেতে দেওয়া হয়নি। ভুল চিকিৎসা এবং অবহেলার কারণেই তার মৃত্যু হয়েছে।
সন্ধ্যার দিকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানোর কথা বলে নিজেরাই অ্যাম্বুলেন্সে তোলে দেয়। ততক্ষণে খাদিজা মারা গিয়েছিলেন বলে দাবি পরিবারের।

এ বিষয়ে হাসপাতালের অন্যতম পরিচালক মানিক সাহা জানান, অভিযোগ সত্যি নয়।অপারেশনের পর রোগীকে পোস্ট অপারেটিভ রুমে রাখা হয় সেখানে কাউকে যেতে দেয়া হয় না। তিনি আরও জানান,রোগীর আগে থেকেই শ্বাসকষ্ট ছিল। রক্তক্ষরণ ও শ্বাসকষ্টের কারণে তাকে আইসিইউতে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। দুই ব্যাগ রক্ত দেওয়া হলেও অবস্থার অবনতি ঘটে। তার দাবি—ময়মনসিংহে নিতে দেরি হওয়াতেই রোগী মারা গেছে।
এদিকে খাদিজার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে স্বজন ও স্থানীয়রা এশিয়া হসপিটাল প্রাঙ্গণে ভীড় করে আহাজারী করেন। এ সময় হাসপতালের সামনে প্রচন্ড ভিড় জমে। স্বজনরা চিকিৎসার কাগজপত্র চাইলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তা না দেওয়ায় উত্তেজনা আরও বাড়ে।

খাদিজার চাচা তোতা মিয়া ও নানা ভুট্টো মিয়া,স্বজন অ্যাডভোকেট আমিনুল ইসলাম জানান, “চিকিৎসার স্পষ্ট অবহেলাতেই খাদিজার মৃত্যু হয়েছে।”
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে অবস্থান নিলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। পরে রাতে স্থানীয় নেতৃবৃন্দের মধ্যস্থতায় হাসপাতালের মালিক পক্ষ ও মৃতের পরিবারের মধ্যে মীমাংসার আলোচনায় বসা হয়। মধ্যরাত পর্যন্ত আলোচনা চলাকালীন হাসপাতালের সামনেই লাশ নিয়ে অ্যাম্বুলেন্স অবস্থান করছিল।

খাদিজার এক স্বজন জানান, তিন লাখ টাকা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ প্রদান করবে। যার এক লাখ নগদ প্রদান করা হয়। খাদিজার জানাজা ও দাফন শেষে বাকি দুই লাখ দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়।
এদিকে হাসপাতালের সামনে গিয়ে দেখা যায়, সিজারের জন্য হাসপাতালে ভর্তি থাকা একাধিক রোগী হাসপাতাল থেকে চলে যাচ্ছেন।