টাঙ্গাইলের মধুপুর বনে সরকারের প্রস্তাবিত ইকোপার্ক প্রকল্পের বিরুদ্ধে গড়ে ওঠা বনবাসী গারো আন্দোলনে নিহত গারো নেতা পীরেন স্নালকে স্মরণ করে নানা কর্মসূচি পালিত হয়েছে।
শনিবার (৩ জানুয়ারি) ‘পীরেন স্নালের ২২তম হত্যা দিবস’ উপলক্ষে গারো সম্প্রদায়ের ছাত্র, নারী সংগঠনসহ অন্তত ১০টি সংগঠন যৌথভাবে এসব কর্মসূচির আয়োজন করে।
ভূমির অধিকার নিশ্চিত না করেই মধুপুর বনের অভ্যন্তরে ইকোপার্ক বাস্তবায়নের লক্ষ্যে প্রাচীর নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হলে অস্তিত্ব সংকটের আশঙ্কায় বনবাসী গারোরা এর বিরুদ্ধে আন্দোলনে নামে। আন্দোলনের অংশ হিসেবে ২০০৪ সালের ৩ জানুয়ারি একটি বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। ওই সময় পুলিশ ও বন বিভাগের বনরক্ষীদের যৌথ প্রতিরোধে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং একপর্যায়ে গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে।
এতে জয়নাগাছা গ্রামের যুবক পীরেন স্নাল জালাবাদা এলাকায় মিছিল চলাকালে গুলিবিদ্ধ হন এবং ঘটনাস্থলেই তিনি নিহত হন।পীরেন জয়নাগাছা গ্রামের নেজেন নকরেকের ছেলে।
এ ঘটনার প্রতিবাদে তীব্র আন্দোলনের মুখে সরকার শেষ পর্যন্ত মধুপুর বনের ইকোপার্ক প্রকল্প থেকে সরে আসতে বাধ্য হয়।
সেই থেকে প্রতি বছর ৩ জানুয়ারি মধুপুরের বনবাসী গারো জনগোষ্ঠী দিনটিকে ‘পীরেন স্নাল হত্যা দিবস’ হিসেবে পালন করে আসছে।
এ বছর দিবসটি উপলক্ষে
“শাল বৃক্ষের মতো সিনা টান করে সে, মানুষ হয়ে বাঁচতে পীরেন স্নাল দিয়েছে ”—
এই স্লোগানে জয়েনশাহী আদিবাসী উন্নয়ন পরিষদ, আদিবাসী ফোরাম, টিডব্লিওএ মধুপুর শাখা, গারো স্টুডেন্ট ফেডারেশন (জিএসএফ) মধুপুর শাখা, গাসু মধুপুর শাখা, আচিক মিচিক সোসাইটি, কোচ আদিবাসী সংগঠনসহ ১০টি সংগঠন যৌথভাবে কর্মসূচি পালন করে।
কর্মসূচির অংশ হিসেবে প্রথমে জয়নাগাছা মিশনারি স্কুলের পাশে পীরেন স্নালের সমাধিতে ফুলেল শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। পরে তাঁর আত্মার শান্তি কামনায় বিশেষ প্রার্থনা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর জালাবাদা এলাকায় গুলিবিদ্ধ হওয়ার স্থানে নির্মিত স্মৃতিস্তম্ভে দ্বিতীয় দফা শ্রদ্ধা ও প্রার্থনা করা হয়।
এ সময় স্মৃতিচারণমূলক বক্তব্য দেন জয়েনশাহী আদিবাসী উন্নয়ন পরিষদের সভাপতি ইউজিন নকরেক, ট্রাইবাল ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান রঞ্জিত নকরেক, গারো স্টুডেন্ট ফেডারেশনের সভাপতি লিয়াং রিচিল, অ্যাডভোকেট জনযেত্রা, গারো নেতা প্রবীণ চিসিম, আচিক মিচিক সোসাইটির নির্বাহী পরিচালক সুলেখা ম্রং প্রমুখ।