টাঙ্গাইল-১ (মধুপুর-ধনবাড়ী) আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ফকির মাহবুব আনাম স্বপনকে মন্ত্রিসভায় দেখতে চান বিএনপির নেতাকর্মী, সমর্থক ও সাধারণ ভোটাররা। দীর্ঘ ২৫ বছরের রাজনৈতিক সংগ্রামের পর আসনটি পুনরুদ্ধার করায় তাকে মন্ত্রীত্ব দেওয়ার দাবি স্থানীয়ভাবে জোরালো হয়েছে।
ফলাফল ঘোষণার পর এলাকায় আনন্দ-উচ্ছ্বাস দেখা গেলেও এখন স্থানীয়দের প্রধান আলোচ্য বিষয়—নবনির্বাচিত এমপি মন্ত্রিসভায় জায়গা পান কি না। নেতাকর্মী ও সাধারণ ভোটারদের প্রত্যাশা, দীর্ঘ রাজনৈতিক অধ্যবসায়ের স্বীকৃতি হিসেবে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব তাকে মন্ত্রীত্ব দিয়ে মধুপুর-ধনবাড়ীর উন্নয়নে আরও গতিশীল ভূমিকা রাখার সুযোগ করে দিবে।
স্থানীয়রা বলছেন, স্বাধীনতার পর বিভিন্ন সময়ে এ আসন থেকে একাধিক মন্ত্রী দায়িত্ব পালন করেছেন। ১৯৯৬ সালের ওই নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নির্বাচিত এমপি আবুল হাসান চৌধুরী কায়সার আওয়ামী লীগ সরকারের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হন। ২০০৯ সালে গঠিত আওয়ামী লীগ সরকারে ড. আব্দুর রাজ্জাক খাদ্য এবং দুর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পান। পরবর্তীতে ২০১৮ সালে একই সরকারের কৃষিমন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন তিনি।
তবে ১৯৭৯ সালে বিএনপির প্রার্থী নবাবজাদা হাসান আলী চৌধুরী এমপি নির্বাচিত হয়ে এমপি থাকা অবস্থায় তিনি মারা যান। ১৯৮৩তে উপ নির্বাচনে তার মেয়ে আশিকা আকবর এমপি হন। ওই নির্বাচনের পর দীর্ঘ সময় এ আসনে বিএনপি জয় পায়নি। বিশেষ করে এ আসন থেকে বিএনপির তৎকালীন মহাসচিব ব্যারিস্টার সালাম তালুকদার ১৯৯৬ সালের ৭ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হয়ে পরাজিত হন। তাকে পরাজিত করে এমপি হয়ে মন্ত্রী হন আবুল হাসান চৌধুরী। তবে একই বছরের ১৫ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে তিনি এ আসনে এমপি হয়ে ছিলেন। এ হিসাব ছাড়া গত সাড়ে চার দশক পর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষের প্রার্থী হিসেবে জয় এনে দিলেন ফকির মাহবুব আনাম স্বপন।ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ১ লাখ ৫৩ হাজার ৯৩২ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন তিনি ।
স্থানীয়দের ভাষ্য, “যে নেতা ধৈর্য্য ও ত্যাগের মাধ্যমে ৪৫ বছর পর আসনটি উদ্ধার করেছেন, তাকে যথাযথ মূল্যায়ন করা উচিত।”
মধুপুর পৌর এলাকার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা সমাজবিজ্ঞান বিভাগের মাস্টার্স শিক্ষার্থী মাজহারুল বলেন, “দীর্ঘদিন ধৈর্য্য ধরে রাজনীতি করে আসনটি উদ্ধার করেছেন স্বপন ফকির। মধুপুর-ধনবাড়ীর উন্নয়নে তাকে মন্ত্রী করা প্রয়োজন।”
মধুপুরের গাংগাইর এলাকার গনেশ মজুমদার, পরিতোষ দেবনাথ, জাঙ্গালিয়ার ফেরদৌস, গারো নারী লিলি মাংসাং, ধনবাড়ীর হবিপুরের শরাফত, যদুনাথ পুরের লিয়াকত, নতুন বাজারের ময়নাল, কয়ড়ার আনিসুলসহ অনেকে স্বপন ফকিরের মন্ত্রীত্ব প্রত্যাশা করেছেন।
বিএনপি উপজেলা কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক ও শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদীন চারুকলা ইনস্টিটিউটের সহকারী অধ্যাপক ফরহাদ তরফদার বলেন, “দলের প্রতি নিবেদিত ও এলাকার গুরুত্ব অনুধাবনে স্বপন মন্ত্রী হওয়ার যোগ্য।”
ব্যবসায়ী সরকার ফারুকের ভাষ্য, “দল তার ত্যাগের মূল্যায়ন করুক—স্বপন ফকিরকে মন্ত্রীত্ব উপহার দেওয়া হোক।”
ধনবাড়ী উপজেলা বিএনপির সভাপতি সাবেক অধ্যক্ষ এম আজিজুর রহমান, মধুপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি জাকির হোসেন সরকার, পৌর বিএনপির সভাপতি খুররম খান ইউসুফজী প্রিন্স, সাধারণ সম্পাদক খন্দকার মোতালিব হোসেনসহ নেতৃবৃন্দ একই প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন। তাদের মতে, টাঙ্গাইল -১ আসনটি ভিআইপি। দলের তৎকালীন মহাসচিব বৃহত্তর ময়মনসিংহ অঞ্চলের বিএনপির সেরা নেতা ব্যারিস্টার সালাম তালুকদারকে প্রার্থী করে বিজয়ী করা যায়নি। যারা বিজয়ী হয়েছেন তারা মন্ত্রী হয়েছেন। ৪৫ বছর পর আসন পুনরুদ্ধারের নায়ক হিসেবে স্বপন ফকিরের মন্ত্রিসভায় স্থান পাওয়া সময়ের দাবি। যোগ্য এই কেন্দ্রীয় নেতাকে মন্ত্রী সভার আসনে বসাতে বিএনপির চেয়ারপারসন ও ভাবী প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্র নায়ক তারেক রহমানের প্রতি তারা আবেদন জানিয়েছেন।
নির্বাচিত হওয়ার পর ফকির মাহবুব আনাম ওরফে স্বপন ফকির বলেন, “এই জয় মধুপুর ও ধনবাড়ীবাসীর। এখন লক্ষ্য—এলাকার সার্বিক উন্নয়ন ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। আমার উপর অর্পিত দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করতে সবার সহযোগিতা চাই। মহান আল্লাহর কৃপা চাই।"