রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকার অভিজাত হোটেল-রেস্তোরাঁয় মাংস সরবরাহের উদ্দেশ্যে ঘোড়া জবাইয়ের অভিযোগে টাঙ্গাইলের মধুপুর বন এলাকায় অভিযানের আট মাস পর একই জেলার পাশের গোপালপুর উপজেলা-র চোরের ভিটা গ্রামে অনুরূপ আরেকটি ঘটনা ঘটেছে। এবার ৮ ঘোড়া জবাই করে মাংস সরবরাহের প্রস্তুতি চলছিল। এ ঘটনায় চার ব্যক্তি আটক ও চার জীবিত ঘোড়া উদ্ধার হয়েছে।
সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) রাতে গোপালপুর উপজেলার ধোপাকান্দি ইউনিয়নের চোরের ভিটা গ্রামে এ ঘোড়া জবাইয়ের ঘটনা ঘটে।
গ্রামবাসীর অভিযোগ, ট্রাকে করে ১২টি ঘোড়া এনে একটি নির্জন গোশালায় রাখা হয়। মঙ্গলবার ভোরে এর মধ্যে ৮টি ঘোড়া জবাই করে মাংস প্যাকেটজাত করা হচ্ছিল। জবাইকৃত ঘোড়ার মধ্যে দুটি গর্ভবতী ছিল বলে জানা গেছে। ঘটনা টের পেয়ে এলাকাবাসী বাড়িটি ঘেরাও করলে মূল অভিযুক্ত হাফিজুর রহমানসহ আটজন পালিয়েছেন। তবে চারজন কসাইকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছে জনতা।
আটকরা হলেন—ঢাকার আশুলিয়ার জামগড়ার জাহিদ হোসেনের ছেলে সুমন, তৈয়বপুর গ্রামের ওয়াজেদ আলীর ছেলে আমিনুর, সাভারের আবু তাহেরের ছেলে ফরহাদ এবং রংপুরের কাউনিয়ার জাহিদ হোসেনের ছেলে সুমন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, চোরের ভিটা গ্রামের আমজাদ হোসেনের ছেলে হাফিজুর রহমান দীর্ঘদিন ধরে ঘোড়া কেনাবেচার আড়ালে জবাইকৃত ঘোড়ার মাংসের ব্যবসা করে আসছিলেন। জামালপুর সদর উপজেলার তুলসিপুর হাটসহ উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন এলাকা থেকে ঘোড়া কিনে ঢাকার গাজীপুর ও সাভারের বিভিন্ন মার্কেটের মাধ্যমে অভিজাত হোটেলে সরবরাহ করা হতো।
গোপালপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আব্বাস গণমাধ্যম কে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, আটক চারজন ও উদ্ধারকৃত ঘোড়াগুলোর বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
এদিকে গত বছরের ২৭ জুন রাতে একই ধরণের খবরে মধুপুর জঙ্গলের ভেতরে অভিযান চালায় মধুপুর থানা পুলিশ। অরণখোলা পুলিশ ফাঁড়ির নেতৃত্বে পরিচালিত ওই অভিযানে রাতের আঁধারে ঘোড়া জবাই করে মাংস প্রস্তুতের সময় একজনকে হাতেনাতে আটক করা হয়।
টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশে মোনারবাইদ(শেরফাতলা) এলাকায় ১১টি ঘোড়া নিয়ে জবাইয়ের প্রস্তুতি চলছিল। এর মধ্যে চারটি জবাই করা হয়। অভিযানের সময় ৭টি জীবিত ঘোড়া এবং জবাইকৃত ৩টি ঘোড়ার মাংস, চামড়া, মাথা ও ভুঁড়ি উদ্ধার করা হয়।
ওই সময় আটক ব্যক্তি প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানান, ঢাকার গাজীপুরে বিক্রির উদ্দেশ্যে ঘোড়াগুলো আনা হয়েছিল। স্থানীয়দের সহযোগিতায় জীবিত ৭টি ঘোড়া উদ্ধার করে থানায় নেওয়া হয়। আইনি জটিলতার কারণে প্রায় এক মাস থানার মাঠে ঘোড়াগুলো লালন-পালন করতে হয়, যা নিয়ে বিপাকে পড়েছিল পুলিশ।
মধুপুর ও গোপালপুর—দুই উপজেলার সীমানা এলাকায় ঘোড়া জবাইয়ের পুনরাবৃত্তির ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। সচেতন মহল চক্রটির সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।