টাঙ্গাইলের ধনবাড়ীর বীরতারা ইউনিয়ন ভূমি অফিসের প্রসেস সার্ভার (জারী কারক) নুরুন্নাহার কে উপজেলা ভূমি অফিস ঘাটাইলে বদলি করা হলেও তিনি এখনও পুরোনো কর্মস্থলে দাপ্তরিক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন।
বদলির সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে তার এই কার্যক্রম এলাকায় ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। প্রশ্ন উঠেছে প্রশাসনিক শৃঙ্খলা এবং নীতিমালার যথাযথ বাস্তবায়ন নিয়েও।
টাঙ্গাইল জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের রাজস্ব শাখা হতে ১৬ অক্টোবরের অফিস আদেশের এক বদলীর চিঠিতে বলা হয়, প্রসেস সার্ভার (জারী কারক) নুরুন্নাহার কে বীরতারা ইউনিয়ন ভূমি অফিস থেকে উপজেলা ভূমি অফিস ঘাটাইলে বদলী করা হয় সেখানে যোগদানের জন্য বলা হয়। কিন্তু চিঠিতে বদলীকৃত নুরুন্নাহারের স্থানে অন্য আরেকজন যোগদান করলেও অদৃশ্য কোন প্রভাবের কারণে তিনি রয়ে গেছেন বহাল তবিয়তে।
এই ঘটনায় এলাকাবাসীর মধ্যে চলছে নানা গুনজন। তবে বুধবার (৪মার্চ২৬) দুপুরে তাকে আবারও বীরতারা ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তার কার্যালয়ে অফিস করতে দেখা যায়।
এ বিষয়ে কয়েক জনপ্রতিনিধি সহ স্থানীয় কয়েক ব্যাক্তি নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, বদলির পরও জারী কারক নুরুন্নাহার কে রিলিজ না করায় তিনি বিগত ফ্যাস্টিস্টের আমল থেকেই জমি খারিজের কাজে সরকারী ফি’র চাইতে অতিরিক্ত নিয়ে অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে।
এতে করে জমির মালিকগনকে সরকারী নির্ধারিত ফি’র চাইতে অতিরিক্ত অর্থ দন্ড দিতে হচ্ছে এই দালাল নামক জারীকারক নুরুন্নাহারের হাতে। সে বর্তমানে অবৈধ অর্থ উর্পাজন করে অবৈধ বিশাল অর্থের মালিক বনে যাচ্ছে। বর্তমান মাননীয় ভূমি মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী মহোদয় যেখানে ভূমি অফিসে ঘুষ মুক্ত করতে চাচ্ছেন সেখানে তারই উল্টোচিত্র ফুটে ওঠেছে বীরতারা ইউনিয়ন ভূমি অফিসে।
স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা জারীকারক নুরুন্নাহারের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরে অভিযোগ জানিয়েছেন।
অভিযোগ রয়েছে, তিনি সাবেক কৃষিমন্ত্রী আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ড. আব্দুর রাজ্জাকের সুপারিশে চাকরিপ্রাপ্ত হন। তার পর থেকেই তিনি ক্ষমতার দাপটে জমির খাজনা খারিজ করতে কোন লোক অফিসে গেলেই তিনি উৎকুচ নিয়ে খারিজের কাজে নিয়ম কে অনিয়ম ও অনিয়ম কে নিয়ম করেন। কিন্তু স্থানীয় কোন অদৃশ্য প্রভাব খাটিয়ে এসব অনিয়ম চালিয়ে যাচ্ছেন।
এ ব্যাপারে নূরুন্নাহার বলেন, আমার বদলী হয়েছে ঠিকই আমার ছোট বাচ্চা থাকায় এখানে আমি অফিস করছি। এবং এ বিষয়টি এসিল্যান্ড স্যার জানেন বলে খবর প্রচার না করার অনুরোধ করে দৌড়ে অফিস থেকে বের হয়ে যান।
এবিষয়ে বীরতারা ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা আওয়াল উদ্দিন সাংবাদিকদের জানান, জারী কারক নূরুন্নার বদলী হলেও তিনি উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি (এসিল্যান্ড) স্যারের মৌখিক অনুমতি নিয়ে নিয়মিত অফিস করে যাচ্ছে। তবে তার বিরুদ্ধে যে খারিজের নামে সরকারী ফি’র চাইতে অতিরিক্ত অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি কোন মন্তব্য করেনি।
ধনবাড়ী উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি সায়েম ইমরান সাংবাদিকদের জানান, বীরতারা ইউনিয়ন ভূমি অফিসের প্রসেস সার্ভার (জারী কারক) নুরুন্নাহারের বদলী হয়েছে ঠিকই তবে তাকে রিলিজ দেওয়া হয়নি। তবে গত ২২ ফেব্রুয়ারী নুরুন্নাহারের স্থানে মিজানুর রহমান নামের একজন যোগদান করেছেন। নুরুন্নাহারের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।