টাঙ্গাইলের মধুপুরের শাল-গজারির বন রক্ষার আন্দোলন, আদিবাসী মানুষের অধিকার এবং প্রকৃতি সংরক্ষণের আহ্বান—সব মিলিয়ে এক অনন্য সংগীত বার্তা নিয়ে হাজির হয়েছে ব্যান্ড ‘বংসাঁই’। তাদের নতুন পরিবেশনা ‘পাখির স্বভাব’ গানটি ইতোমধ্যে দর্শক-শ্রোতাদের মাঝে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।
২০০৪ সালের ৩ জানুয়ারি- বাংলাদেশের সমতলের আদিবাসী জনগোষ্ঠীর ইতিহাসে এক শোকাবহ দিন। সেদিন গারো আদিবাসীরা তাদের প্রথাগত ভূমি ও বন রক্ষার দাবিতে শান্তিপূর্ণ মিছিল বের করলে বনরক্ষীদের গুলিতে শহীদ হন পীরেন স্নাল। সেই ঘটনায় আহত হন অর্ধশতাধিক আন্দোলনকারী, যাদের অনেকেই আজও বয়ে বেড়াচ্ছেন সেই ক্ষতচিহ্ন।
দুই দশক পেরিয়ে গেলেও পীরেন স্নালের আত্মত্যাগ আজও সংগ্রামের প্রতীক হয়ে আছে। সেই ইতিহাস ও বনের প্রতি মানুষের গভীর সম্পর্ককে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতেই ‘পাখির স্বভাব’ গানটি নতুনভাবে পরিবেশন করেছে বংসাঁই ব্যান্ড।
গানটির মূল বার্তা-পাখির যেমন স্বভাব আকাশে উড়ে বেড়ানো, তেমনি অরণ্যের মানুষের স্বাভাবিক অধিকার বনের সাথে মিশে স্বাধীনভাবে বেঁচে থাকা। উন্নয়নের নামে বন উজাড়, ইকো পার্ক নির্মাণ কিংবা প্রাকৃতিক ভারসাম্য নষ্টের বিরুদ্ধে এই গান যেন এক জোরালো প্রতিবাদ।
গানের আবেগঘন লাইনে উঠে এসেছে সেই সংগ্রামের প্রতিধ্বনি— "সেই নাড়ি ধরে কারা যেন টান দিয়েছে / তাই রুখতে পীরেন স্নাল জান দিয়েছে।"
ব্যান্ডের সদস্যরা জানান, মধুপুরের শালবনের কোনো কৃত্রিম সীমানা নেই; এটি প্রকৃতির নিজস্ব বিস্তার। অথচ কিছু অসাধু গোষ্ঠী উন্নয়নের নামে বন ধ্বংসে লিপ্ত। এই পরিস্থিতিতে পরিবেশ রক্ষা এবং নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে সবাইকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান তারা।
সংগীতায়োজনে ছিলেন তরুণ শিল্পীরা ভোকালে নাঈম ও মাহাদী মিঠু, গিটারে খোকন ও নাঈম, বাঁশিতে স্বাধীন এবং ড্রামসে সানজিদুল ইসলাম রিজন। তাদের পরিবেশনায় গানের সুরে যেমন বিষণ্ণতা, তেমনি রয়েছে প্রতিবাদের শক্তিশালী আবেদন। অডিও প্রযোজনা ও মিক্সিং করেছেন রয় প্রতীক।
ব্যান্ডের ম্যানেজার রিফাত জানান, এই গানটি শুধুমাত্র একটি সংগীত নয়, বরং এটি একটি সামাজিক বার্তা-বন ও মানুষ একে অপরের পরিপূরক। বন ধ্বংস হলে মানবতার অস্তিত্বও হুমকির মুখে পড়বে।
পীরেন স্নালের প্রতি শ্রদ্ধা এবং মধুপুরের শালবন রক্ষার আহ্বান নিয়ে বংসাঁই ব্যান্ডের এই উদ্যোগ নতুন করে ভাবিয়ে তুলছে সচেতন মহলকে। তাদের এই সুরেলা প্রতিবাদ যেন মনে করিয়ে দেয়- “বন বাঁচলে তবেই বাঁচবে মানুষ।”