বাঙ্গালির প্রাণের উৎসব পহেলা বৈশাখ এ উপলক্ষ্যে টাঙ্গাইলের ধনবাড়ীর নওয়াব ইনস্টিটিউশন মঠে বসেছে তিন দিন ব্যাপী বৈশাখী মেলা। এ মেলায় সরকারী নিদের্শনা সকাল থেকে চলবে সন্ধ্যা ৭ সাত টা পর্যন্ত। মেলায় কোন প্রকার জুয়া অশ্লীলতা হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুশিয়ারী দিয়েছেন প্রশাসন।
মঙ্গলবার(১৪ এপ্রিল) থেকে শুরু হয়েছে তিন দিন ব্যাপী ঐতিহ্যবাহী এ মেলা। এছাড়া উপজেলার বীরতারার রাজার হাট, কেন্দুয়া বাজার, বানিয়াজান ইউনিয়নের পঞ্চাশী বটতলা এলাকা ও বলিভদ্র ইউনিয়নের কেরামজানি বাজারে প্রশাসনের অনুমতি ছাড়াই চলছে মেলা। তবে সুশীল সমাজ বলছে গ্রামীণ মেলার নামে সন্ধ্যার পর থেকেই চলে রমরমা জুয়ার আসর। রাত গভীর হলে পুতুল নাচের নামে মেয়ে দিয়ে অর্ধউলঙ্গ করে অশ্লীল মানব নৃত্য পরিবেশন করিয়ে কমিটির লোকজন শত টাকা জন প্রতি টিকিট বিক্রি করে। এতে করে স্থানীয় এলাকার ছাত্র ও যুব সমাজ খারাপের দিকে ধাবিত হয়। এমন চিত্রই ফুটে উঠেছিলো গত ২১মার্চ তারিখে বানিয়াজানের পঞ্চাশী বটতলা এলাকায় আনন্দ মেলার নামে স্থানীয় বিএনপি’র কয়েক নেতা কর্মীরা তারা এমন কর্মকান্ড চালায়। শুধু তাই নয় ২৫ শে মার্চ কালো রাত্রি তে চালায় অশ্লীল নৃত্য ও জুয়া। এঘটনায় ধনবাড়ীর বীরমুক্তিযোদ্ধারা ক্ষোভে ফুসে উঠেন। উপজেলা প্রশাসন কর্তৃক আয়োজিত ২৬ শে মার্চ মহান স্বাধীনতা দিবসে মুক্তিযোদ্ধাদের সংর্ধ্বধনা অনুষ্ঠানের মঞ্চে বুকফাটা ক্ষোভে ফুলের মালার বদলে জুতার মালা দিয়ে বের করে দেয়ার কথার বলে বন্ধে প্রশাসন ও বর্তমান সরকারসহ সাংবাদিকদের দৃষ্টি আর্কষণ করেন ধনবাড়ী উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমান্ডের আহবায়ক মুক্তিযোদ্ধা শাহাজান আলী, হযরত আলীসহ অন্যরা। এনিয়ে জাতীয় দৈনিক নয়া দিগন্ত পত্রিকায় গত ২৭ শে মার্চ “ধনবাড়ীতে মেলায় জুয়ার আসর ক্ষোভে ফুসছেন মুক্তিযোদ্ধা” শিরোনামে ও নাগরিক টেলিভিশনসহ বিভিন্ন গনমাধ্যমে বিভিন্ন শিরোনোমে সংবাদ প্রকাশিত হয়। পরে মেলা বন্ধ করে দেন ধনবাড়ী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মিজ্ নূরজাহান আক্তার সাথী। বর্তমানেও শুরু হয়েছে ধনবাড়ীর ঐতিহ্যবাহী তিন দিন ব্যাপী বৈশাখী মেলা। এবারো অনুমতিবিহীন মেলায় যাতে অশ্লীল কোন নৃত্য বা জুয়া মাদক কেনাবেচাসহ লটারি না চলে এমন দাবী ধনবাড়ীবাসীর।
ধনবাড়ীর জুলাই যোদ্ধা রেজাউল করিম জানান, ধনবাড়ীর মেলা একটি পুরনো ঐতিহ্য। এ মেলায় যাতে কোন প্রকার জুয়া বা অশ্লীল কোন কর্মকান্ড না ঘটে এজন্য প্রশাসনের জোর হস্তক্ষেপ কামনা করছি।
উপজেলা প্রশাসন কৃর্তৃক আয়োজিত মেলার প্রস্তুতি সভায় বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক এনামুল হক ভিপি তার বক্তব্যে বলেন, মেলাটি প্রাচীন ঐতিহ্য ধনবাড়ীর। এ মেলায় কোন প্রকার জুয়া বা অশ্লীন কোন কিছু না হয় এজন্য প্রশাসনকে সার্বিক খোঁজ খবর রেখে ব্যবস্থা নেয়ার অনুরোধ করছি।
ধনবাড়ী উপজেলা বিএনপি’র সভাপতি অধ্যক্ষ এম আজিজুর রহমান সাংবাদিকদের জানান, ধনবাড়ীর মেলা একটি ঐতিহ্যবাহিবাহী মেলা। এ মেলাটি জমিদারী আমল থেকেই যুগযুগে চলে আসছে। মেলায় সার্বিক নিরাপত্তার জন্য পুলিশ প্রশাসনকে কঠোর হওয়ার জন্য অনুরোধ করছি। তবে, মেলায় যদি কেউ কোন ধরণের অশ্লীল কোন কিছু চালায় সে দায়ভার তাকেই বহন করতে হবে। এ মেলায় যাতে কোন প্রকার জুয়া, অশ্লীল নৃত্য মাদক কেনা বেচাসহ অনৈতিক অপরাধমূলক কর্মকান্ড সংগঠিত না হয় এজন্য উপজেলা ও থানা প্রশাসন কে ব্যবস্থা নেয়ার আহবান জানান তিনি।
ধনবাড়ী প্রেসক্লাবের সভাপতি রফিকুল ইসলাম স্বপন বলেন, মেলা একটি প্রাচীন এতিহ্য বহন করে। তবে মেলায় যাতে কোন প্রকার জুয়া,মাদকসহ অশ্লীল কিছু না ঘটে এজন্য প্রশাসনের ব্যবস্থা নেওয়া দরকার।
থানার ওসি নুরুস সালাম সিদ্দিক মেলার প্রস্তুতি সভায় তিনি বলেন, গত ২৫ মার্চের রাতে বানিয়াজানের পঞ্চাশীতে আনন্দ মেলার নামে যা ঘটনা ঘটেছিলো তা খুবই ন্যাক্কারজনক। খবর পাওয়া মাত্রই মেলাটি বন্ধ করে দেয়া হয়। আমরা জানতে পারছি যে, ধনবাড়ী উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ছোট ছোট আকারে মেলার আয়োজন করা হচ্ছে। যাতে করে সেই মেলায় কোন প্রকার জুয়ার আসর বা অশ্লীল নৃত্য বা অনৈতিক কিছু না হয় তার জন্য পুলিশ তৎপর রয়েছে। এরকম কিছু ঘটা মাত্রই দ্রæত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
ধনবাড়ী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মিজ্ নূরজাহান আক্তার সাথী সাংবাদিকদের কে জানান, মেলায় কোন ধরণের যাতে জুয়া, লটারি বা অশ্লীল নৃত্য না হয় এজন্য মেলা কমিটিকে বলা হয়েছে। সেই সাথে প্রশাসনিক ভাবে বিষয়টি নজরদারিতে রাখতে থানা প্রশাসনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সরকারী নির্দেশনা অনুযায়ী সন্ধ্যা ৭ পর্যন্ত মেলা চালানোর জন্য কমিটিকে বলা হয়েছে। এবং কী ধনবাড়ীর বীরতারার রাজার হাট, কেন্দুয়া বাজার, বানিয়াজানের পঞ্চাশী বটতলা, বলিভদ্রের কেরামজানি মেলার কোন অনুমতি নেই।