দীর্ঘ অনিশ্চয়তা ও জটিলতা কাটিয়ে অবশেষে আজ বুধবার (১৫ এপ্রিল) শুরু হচ্ছে পঞ্চম শ্রেণির বৃত্তি পরীক্ষা। তবে এ বছরের এই পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে বর্তমানে ষষ্ঠ শ্রেণিতে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীরা, যা নিয়ে সৃষ্টি হয়েছে এক ভিন্ন বাস্তবতা ও নানা উদ্বেগ।
নতুন শিক্ষা বর্ষে প্রায় সাড়ে তিন মাস ষষ্ঠ শ্রেণির পাঠ্যক্রমে অংশ নেওয়ার পর শিক্ষার্থীরা এখন অংশ নিচ্ছে তাদের পূর্বের শ্রেণি—পঞ্চম শ্রেণির বৃত্তি পরীক্ষায়।
উল্লেখ্য, গত বছরের শেষ দিকে শিক্ষার্থীরা বৃত্তি পরীক্ষার জন্য ফি জমা দিয়েছিল। তবে বেশ কয়েক বছর বন্ধ থাকার পর বৃত্তি পরীক্ষা পুনরায় চালুর ঘোষণা দেয় অন্তর্বর্তী সরকার, যা নিয়ে তৈরি হয় বিভ্রান্তি ও জটিলতা। কিন্ডারগার্টেন শিক্ষার্থীদের অংশ গ্রহণ করা না করার প্রশ্নে সৃষ্ট সমস্যায় বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়ায় এবং শেষ পর্যন্ত আদালতের রায়ে পরীক্ষার পথ সুগম হয়।
নিয়ম অনুযায়ী, প্রতিটি বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির মোট শিক্ষার্থীর ৪০ শতাংশ এ পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও কিন্ডারগার্টেনের মধ্যে সমন্বয় করতে বৃত্তি বণ্টনেও রাখা হয়েছে আলাদা কোটা—সরকারি প্রাথমিকের শিক্ষার্থীরা পাবে ৮০ শতাংশ বৃত্তি এবং কিন্ডারগার্টেন শিক্ষার্থীদের জন্য বরাদ্দ ২০ শতাংশ।
এদিকে শিক্ষার্থীদের পরীক্ষায় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে শিক্ষকরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে তাদের উদ্বুদ্ধ করেছেন। অনেক ক্ষেত্রে অভিভাবকদের সঙ্গেও কথা বলে শিক্ষার্থীদের পুনরায় পড়াশোনায় ফিরিয়ে আনতে হয়েছে। জানা গেছে, দীর্ঘ বিরতির কারণে অনেক শিক্ষার্থী ইতোমধ্যে তাদের বইপত্র কেজি ধরে বিক্রি করে দিয়েছে। ফলে বই ছাড়া শিক্ষার্থীদের শিক্ষকদেরই নতুন করে বই সরবরাহ করতে হয়েছে।
তবে এত প্রচেষ্টার পরও শিক্ষকদের মধ্যে রয়ে গেছে শঙ্কা—শেষ পর্যন্ত অনেক শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নাও নিতে পারে, ফলে ব্যাপক হারে অনুপস্থিতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
একাধিক শিক্ষক জানান, শিক্ষার্থীদের ষষ্ঠ শ্রেণির পাঠ্যসূচির পড়াশোনা ও বৃত্তি পরীক্ষার পড়াশোনা একসাথে চালিয়ে যাওয়া ছিল কঠিন।ফলে বৃত্তি পরীক্ষায় অংশ নিতে তেমন আগ্রহ তাদের মধ্যে দেখা যায়নি। সামনের পরীক্ষায় ভালো করার আশায় অভিভাবকগণও ছিলেন একই।
মধুপুর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হাফিজুর রহমান এমন বাস্তবতার সত্যতা স্বীকার করেছেন।
টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলায় মোট ১১০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও অর্ধশতাধিক কিন্ডারগার্টেন থেকে সর্বমোট ৯৩৯ জন শিক্ষার্থীর পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এর মধ্যে সরকারি প্রাথমিকের ৮০৭ জন এবং কিন্ডারগার্টেনের ১৩২ জন।
চার দিনব্যাপী এ পরীক্ষায় পাঁচটি বিষয়ে মূল্যায়ন করা হবে। আজ প্রথম দিন বাংলা বিষয়ের মাধ্যমে পরীক্ষার সূচনা হচ্ছে।
শিক্ষা সংশ্লিষ্টদের মতে, এই ব্যতিক্রমী পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীদের মানসিক প্রস্তুতি ও উপস্থিতি নিশ্চিত করাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম খান জানান, এটি একটা নতুন বাস্তবতায় এই বৃত্তি পরীক্ষার আয়োজন। শিক্ষকরাসহ আমরা মিলে এই সমস্যা উত্তরণের চেষ্টা করেছি। দেখি শেষ পর্যন্ত কি হয়।