টাঙ্গাইলের মধুপুর পৌরসভায় বেল পাড়তে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে বেলা রাণী (৪০) নামে এক পরিচ্ছন্নকর্মীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। সোমবার (১১ মে) সকাল ৭টার দিকে পৌরসভা কার্যালয়ের তিন তলার এক কক্ষে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত বেলা রাণী মধুপুর পৌরসভার আউটসোর্সিং (মাস্টার রোল) ভিত্তিক পরিচ্ছন্নকর্মী ছিলেন। তিনি পৌরসভার পাশের ঋষিপল্লীর মৃত নিরঞ্জন ঋষির স্ত্রী। দুই প্রতিবন্ধী মেয়েকে নিয়ে তার কষ্টের সংসার ছিল।
জানা যায়, প্রতিদিনের মতো সকালে পৌর ভবনের বিভিন্ন কক্ষ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করার কাজ করছিলেন বেলা রাণী। একপর্যায়ে ভবনের তৃতীয় তলায় কাজ করার সময় প্রায় ১৫ থেকে ২০ ফুট দূরে অবস্থিত উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তার ভবনের একটি বেল গাছে পাকা বেল দেখতে পান। কয়েকবার চেষ্টা করে বেল পাড়ার সময় পাশ দিয়ে যাওয়া উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন বিদ্যুতের তারে একটি লম্বা পাইপ বা দণ্ড স্পর্শ করলে তিনি বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন। এতে মুহূর্তেই তার শরীরে আগুন ধরে যায় এবং ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন মধুপুর পৌর প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মির্জা জুবায়ের হোসেন। তিনি জানান, ঘটনাটি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক। নিহতের পরিবারকে সহায়তা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মানবিক দিক বিবেচনায় বেলার এক মেয়েকে পৌরসভায় কর্মসংস্থানের সুযোগ দেওয়ার বিষয়েও ভাবা হচ্ছে ।
মধুপুর ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের স্টেশন কর্মকর্তা বোরহান আলী জানান, খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। তিনি বলেন, উচ্চ ভোল্টেজের তারে জড়িয়ে বেলা রাণীর মৃত্যু হয়েছে। বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়ার কিছু সময় পর স্থানীয়রা বিষয়টি টের পান।
প্রতিবেশী ও স্থানীয় একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক খন্দকার নুরজাহান লেবু জানান, পরিবারের এক শিশুর পছন্দের ফল সংগ্রহ করতে গিয়েই ঝুঁকি নিয়ে বেল পাড়ার চেষ্টা করেছিলেন বেলা রাণী। সেই চেষ্টাই শেষ পর্যন্ত তার মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়ায়। ১০/১২ আগে এক দুঃখজনক ঘটনায় স্বামী হারিয়ে দুই সন্তানকে নিয়ে কষ্টের সংসার করছিলেন তিনি।
এ ঘটনায় মধুপুর পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সহকর্মীরা জানান, বেলার মৃত্যুতে পুরো পৌর পরিবার গভীরভাবে মর্মাহত।