টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ৫০ শয্যা থেকে ১০০ শয্যায় উন্নীত হলেও প্রয়োজনীয় জনবল, ও অর্থ বরাদ্দের অভাবে এখনো পূর্ণাঙ্গ ১০০ শয্যার সেবা কার্যক্রম চালু করা সম্ভব হয়নি। তবে হাসপাতালের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য প্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম।
ঈদের পরের দিন শুক্রবার বিকেলে তিনি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শনে যান। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মির্জা মো. জুবায়ের হোসেন, বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট শামসুজ্জামান সুরুজ, উপজেলা বিএনপির সভাপতি জাকির হোসেন সরকার, সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিনসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দকে সঙ্গে নিয়ে মধুপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শন করেন তিনি। হাসপাতাল ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতেই উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সাইদুর রহমান মন্ত্রীকে ফুল দিয়ে বরণ করেন। এ সময় ওসি একেএম ফজলুল হক,বিএনপি নেতা জয়নাল আবেদিন খান বাবলু, উপজেলা বিএনপির
সহসভাপতি এম রতন হায়দার, হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. সজিব কান্তি পালসহ' চিকিৎসক, নার্স, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।
হাসপাতালে প্রবেশ করে তিনি ভর্তি রোগীদের সাথে কথা বলে চিকিৎসার খোঁজ খবর নেন। শিশু রোগীদের আদর করেন। পরে নতুন ভবনের দ্বিতীয় তলার সেমিনার কক্ষে মতবিনিময়ে অংশ নেন। মতবিনিময়কালে হাসপাতালের পক্ষ থেকে মন্ত্রীকে জানানো হয়, মধুপুর, ধনবাড়ী ও গোপালপুর উপজেলা থেকে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতাল অনেক দূরে হওয়ায় প্রতিদিন বিপুল সংখ্যক রোগী মধুপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে আসেন। এছাড়াও ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা, জামালপুরের সরিষাবাড়ী এবং ঘাটাইল উপজেলার বিভিন্ন এলাকার রোগীরাও এ হাসপাতালের সেবা গ্রহণ করেন।
কর্তৃপক্ষ আরও জানায়, ২০২০ সালে সরকারি অনুমোদনের মাধ্যমে হাসপাতালটি ৫০ শয্যা থেকে ১০০ শয্যায় উন্নীত করা হলেও এখনো ১০০ শয্যার জন্য প্রয়োজনীয় রাজস্ব জনবল সৃষ্টি হয়নি। একই সঙ্গে এমএসআর, বিদ্যুৎ বিল, পৌরকর, ভূমি উন্নয়ন করসহ বিভিন্ন খাতে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দও দেওয়া হচ্ছে না।
বর্তমানে স্থানীয় ব্যবস্থাপনায় ৫০ শয্যার জনবল ও বরাদ্দ দিয়েই ১০০ শয্যার স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। এর ফলে চিকিৎসক, নার্স ও অন্যান্য কর্মচারীদের অতিরিক্ত চাপের মধ্যে দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আরও উল্লেখ করে, পূর্ণাঙ্গ ১০০ শয্যার হাসপাতাল পরিচালনার জন্য নতুন স্টোর ভবন, সীমানা প্রাচীর, সোলার প্যানেল,সাবমারসিবল মোটর ও পানির লাইন, পয়ঃনিষ্কাশন ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা পিট, চিকিৎসকদের ডরমিটরি এবং কর্মচারীদের কোয়ার্টার নির্মাণ অত্যন্ত জরুরি। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় চিকিৎসা যন্ত্রপাতি ও আসবাবপত্র ক্রয়ের দাবিও জানানো হয়।
এদিকে নানা সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও মধুপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এইচএসএস স্কোরিংয়ে একাধিকবার দেশের সেরা হাসপাতালের স্বীকৃতি অর্জন করেছে বলেও জানানো হয়। প্রয়োজনীয় জনবল ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন হলে এটি আশপাশের চারটি উপজেলার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ রেফারেল হাসপাতালে পরিণত হতে পারে বলে মত দেন সংশ্লিষ্টরা।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সাইদুর রহমান জানান, হাসপাতালের বিভিন্ন চাহিদা ও সমস্যার বিষয় তুলে ধরে গত ২১ মে ২০২৬ মন্ত্রী মহোদয় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর কাছে একটি ডিও লেটার পাঠিয়েছেন। তিনি ব্যক্তিগতভাবে বিষয়গুলো তদারকি করে দ্রুত বাস্তবায়নের চেষ্টা চালিয়ে যাবেন বলেও আশ্বাস দিয়েছেন।
পরিদর্শনকালে মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম হাসপাতালের বিদ্যুৎ সংকট নিরসনে সোলার প্যানেল স্থাপনের প্রতিশ্রুতি দেন। সোলার প্যানেল স্থাপনের আগ পর্যন্ত হাসপাতালের জেনারেটরের বিল ব্যক্তিগতভাবে পরিশোধের আশ্বাসও দিয়েছেন মন্ত্রী ।