মধুপুরের ঐতিহ্যবাহী শালবন রক্ষায় স্থানীয় জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে একটি মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার বিকেলে মধুপুর বনাঞ্চলের শোলাকুড়ি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এ সভার আয়োজন করা হয়।
মধুপুর শালবন রক্ষায় শোলাকুড়ি এলাকায় আয়োজিত এ মতবিনিময় সভায় বন বিভাগের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, পরিবেশকর্মী, শিক্ষক, জনপ্রতিনিধি এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন।
পরিবেশকর্মী রাতুল মুন্সীর সঞ্চালনায় সভায় বক্তব্য রাখেন সহকারী বন সংরক্ষক রানা দেব, দোখলা রেঞ্জ কর্মকর্তা সৈয়দ আমিনুর রহমান, সিএমসি সভাপতি মো. আবদুল মোতালেব, শোলাকুড়ি কলেজের প্রভাষক বকুল হোসেন, বাপেক্সের ডেপুটি ম্যানেজার হাসনাত নাহিদ, শোলাকুড়ি উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক সুহেল রানা, প্রযত্নের পরিচালক ইকবাল হোসেন জুপিটার, ইউপি সদস্য রঞ্জিত নকরেক, বিএনপি নেতা মাহবুবুর আনাম লেবু, লাল মিয়া সরকার এবং সমাজকর্মী হাসনাত জোবায়েরসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
বক্তারা বলেন, এক সময়ের অপরূপ প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের আধার মধুপুর শালবন বর্তমানে নানা কারণে অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে। প্রভাবশালী দখলবাজ ও অসাধু চক্রের কারণে বনভূমি দখল, নির্বিচারে গাছ কাটা এবং জীববৈচিত্র্যের ক্ষয় ক্রমেই বাড়ছে। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে বনাঞ্চলকে অবৈধ দখলমুক্ত করা, বনায়নের নামে প্রকৃতি ধ্বংসের কার্যক্রম বন্ধ করা এবং বন বিভাগের সঙ্গে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সমন্বয় ও অংশীদারিত্ব বৃদ্ধি করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
সভায় আরও বলা হয়, শালবন রক্ষা শুধু বন বিভাগের একার দায়িত্ব নয়; বরং পরিবেশ সংরক্ষণ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় স্থানীয় জনগণকে সম্পৃক্ত করে একটি সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। সচেতনতা বৃদ্ধি, সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলা এবং আইনগত পদক্ষেপের মাধ্যমে বন রক্ষায় কার্যকর ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান বক্তারা।
মতবিনিময় সভার শেষে পরিবেশবাদী, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও সাধারণ মানুষ মধুপুর শালবন রক্ষায় ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার এবং বন ধ্বংসের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় সামাজিক ও আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।