মধুপুর(টাঙ্গইল) প্রতিনিধি
প্রেম ঘটিত জটিলতায় টাঙ্গাইলের ধনবাড়ী সরকারি কলেজের লিমা আক্তার নামের এইচএসসি স্তরের এক শিক্ষার্থী ফাঁসিতে ঝুলে আত্মহত্যা করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
ধনবাড়ী থানা পুলিশ রোববার দুপুরে তার লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে এসে মর্গে পাঠানোর উদ্যোগ নিয়েছে।
ধনবাড়ী উপজেলার পাইস্কা ইউনিয়নের ধুকেরকুল গ্রামের মো.সুরুজ আলীর মেয়ে লিমা ধনবাড়ী সরকারি কলেজের এইচএসসি স্তরের শিক্ষার্থী। চার বোনের মধ্যে লিমা তৃতীয়।
স্থানীয়রা জানায়, ধনবাড়ী পৌর এলাকার বন্দ-টাকুরিয়া গ্রামের দুবাই প্রবাসি মন্জু মিয়ার ছেলে মো. মারুফ হোসেন শান্তর সাথে প্রেমের সম্পর্ক লিমার। শনিবার (১১ জুলাই ) সকালে এই যুগল মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করে বেড়াতে বের হয়ে সারাদিন অজ্ঞাত স্থানে দিন কাটায়।
লিমার পরিবারের দাবি, বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর ছেলেপক্ষ স্থানীয় কয়েকজন নেতার মাধ্যমে মীমাংসার চেষ্টা করা হয়। পরে রাত আনুমানিক ১১টার দিকে লিমাকে তার বড় বোনের জামাই কাবেলের বাড়িতে জোরপূর্বক রেখে যাওয়া হয়। পরদিন রোববার বেলা ১১টার দিকে বড় বোনের জামাইয়ের বাড়ির একটি কক্ষে ওড়না দিয়ে গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় লিমাকে ঝুলতে দেখা যায়। লজ্জায় লিমা আত্নহত্যা করতে পারে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।এলাকাবাসীর খবরে ধনবাড়ী থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে ঝুলন্ত লাশ নামিয়ে ময়নাতদন্তের জন্য থানায় নিয়ে যায়।
নিহতের মা শাহিদা বেগম বলেন, “ মারুফ হোসেন শান্ত আমার মেয়েকে ফোন করে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যায়। এরপর আমার মেয়ের সঙ্গে কী ঘটেছে, তা সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে উদঘাটন করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।”
এদিকে বাড়ি থেকে গা ঢাকা দেয়ায় মারুফ হোসেন শান্তর পরিবারের কারো সাথে কথা বলা যায়নি।
ধনবাড়ী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নুরুস সালাম সিদ্দিক লিমা আক্তারের আত্মাহত্যার ঘটনাটির সত্যতা নিশ্চিত করেন।ঘটনায় একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে জানিয়ে উল্লেখ করেন,
ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে। তখন প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
প্রেম ঘটিত কারণ কিনা তদন্ত সাপেক্ষে জানা যাবে বলে জানিয়েছেন। লাশ ময়না তদন্তের জন্য ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।