টাঙ্গাইলে পৃথক অভিযানে ক্লুলেস হত্যা মামলা ও অপহরণ মামলার দুই পলাতক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)-১৪, সিপিসি-৩, টাঙ্গাইল ক্যাম্প। শনিবার (১ আগস্ট) রাতে ও দুপুরে টাঙ্গাইলের সখীপুর এবং রাজধানীর উত্তরা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
র্যাব-১৪, সিপিসি-৩ টাঙ্গাইল ক্যাম্প থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
র্যাব জানায়, প্রথম অভিযানে গ্রেপ্তার হওয়া মো. রিপন তরফদার (৩৮) টাঙ্গাইল জেলার বাসিন্দা। তিনি কালিহাতী থানার একটি চাঞ্চল্যকর ক্লুলেস হত্যা মামলার পলাতক আসামি।
মামলার তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ মে সন্ধ্যায় গরুর ভুষি কিনতে বাড়ি থেকে বের হন এক ব্যক্তি। এরপর তিনি আর বাড়ি ফেরেননি। পরদিন সকালে স্থানীয়রা কালিহাতী উপজেলার বল্লা ইউনিয়নের মাজেদের পুকুরপাড়ে তার জুতা, মোবাইল ফোন ও ভুষির ব্যাগ পড়ে থাকতে দেখেন। পরে ২৬ মে বউলা বিল এলাকা থেকে বস্তাবন্দী অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
এ ঘটনায় নিহতের বাবা বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে কালিহাতী থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরের পর থেকেই র্যাব-১৪ ছায়া তদন্ত ও গোয়েন্দা নজরদারি শুরু করে। তদন্তে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে শনিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে সখীপুর উপজেলার সোলা প্রতিমা দরিয়াপুর এলাকা থেকে রিপন তরফদারকে গ্রেপ্তার করা হয়।
অপরদিকে দ্বিতীয় অভিযানে ভূঞাপুর থানার একটি অপহরণ মামলার পলাতক আসামি মো. সাব্বির মিয়া (১৯)কে গ্রেপ্তার করা হয়।
র্যাব জানায়, ভুক্তভোগী স্থানীয় একটি মাদ্রাসার দশম শ্রেণির ছাত্রী। মাদ্রাসায় যাতায়াতের পথে সাব্বির প্রায়ই তাকে প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে উত্ত্যক্ত করতেন। প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় গত ২৩ জুন দুপুরে ক্লাস শেষে বাড়ি ফেরার পথে সহযোগীদের নিয়ে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় জোরপূর্বক তুলে ওই ছাত্রীকে অপহরণ করা হয়।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর বাবা ভূঞাপুর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন। ঘটনার পর থেকেই সাব্বির আত্মগোপনে ছিলেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে র্যাব-১, সিপিসি-২, উত্তরা ক্যাম্পের সহায়তায় শনিবার দুপুরে রাজধানীর উত্তরা পশ্চিম থানার আনোয়ার খান মডার্ন ইউনিভার্সিটি এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
র্যাব জানিয়েছে, গ্রেপ্তার দুই আসামিকে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।