জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সৃষ্টিকর্মের সঙ্গে শিশু-কিশোরদের পরিচয় ঘটানো এবং মধুপুর ও আশপাশের এলাকার প্রতিভাবান নজরুলশিল্পীদের খুঁজে বের করার প্রত্যয়ে আয়োজিত দুই দিনব্যাপী সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা শেষ হয়েছে।
‘নজরুল বর্ষ’ উপলক্ষে মধুপুর সাংস্কৃতিক ঐক্য জোট আয়োজিত এ কর্মসূচির শেষ দিনে শনিবার (২২ আগস্ট) দুপুরে অনুষ্ঠিত হয় শিশুদের নজরুলের গানে নৃত্য প্রতিযোগিতা। এর মধ্য দিয়ে শেষ হয় দুই দিনব্যাপী এ আয়োজন। মধুপুর শহীদ স্মৃতি উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের স্কুল শাখায় এ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়।
একই দিনে ‘খ’ ও ‘গ’ গ্রুপের শিক্ষার্থীদের মধ্যে অনুষ্ঠিত হয় নজরুলসংগীত প্রতিযোগিতা। এর আগে শুক্রবার (২১ আগস্ট) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত ‘ক’ গ্রুপের শিশুদের নজরুলসংগীত প্রতিযোগিতা এবং ‘খ’ ও ‘গ’ গ্রুপের প্রতিযোগীদের মধ্যে নজরুলের কবিতা আবৃত্তি প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়।
দুই দিনের আয়োজনে শিশু-কিশোরদের প্রাণবন্ত অংশগ্রহণে মুখর হয়ে ওঠে অনুষ্ঠানস্থল। নজরুলের গান, কবিতা ও নৃত্যের মধ্য দিয়ে নতুন প্রজন্মের শিল্পীরা তুলে ধরে জাতীয় কবির সৃষ্টিশীলতার নানা দিক।
প্রতিযোগিতার বিভিন্ন ইভেন্টে বিচারকের দায়িত্ব পালন করেন ঘাটাইল, গোপালপুর, ধনবাড়ী ও মধুপুরের বিশিষ্ট শিল্পী ও শিক্ষকরা। বিচারকদের মূল্যায়নের ভিত্তিতে বিজয়ীদের নাম নির্ধারণ করা হয়েছে।
আয়োজকরা জানান, প্রতিযোগিতার ফলাফল প্রকাশ, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের জীবন ও সাহিত্যকর্ম নিয়ে আলোচনা সভা এবং বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হবে কবির মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত বিশেষ কর্মসূচিতে। অনুষ্ঠানে অতিথিদের মাধ্যমে বিজয়ী শিল্পীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হবে। একই দিন সাংস্কৃতিক পর্বে বিজয়ী শিল্পীদের পাশাপাশি বিশিষ্ট শিল্পীরা সংগীতসহ শিল্প-সাহিত্যের বিভিন্ন পরিবেশনা উপস্থাপন করবেন।
কর্মসূচি সম্পর্কে এসব তথ্য নিশ্চিত করেন মধুপুর সাংস্কৃতিক ঐক্য জোটের সদস্য সচিব এস. এম. শহীদ। পুরো আয়োজনের সার্বিক দায়িত্বে ছিলেন সংগঠনের আহ্বায়ক ওস্তাদ আসাদুজ্জামান মন্টু।
আয়োজনে সহযোগিতা করেন বিপ্লব দে সরকার, আব্দুল করিম মন্ডল, আবু কাওছার খোকন ও সুজিত সরকার।
বিচারকদের মধ্যে ছিলেন গোপালপুরের বেতারের নিয়মিত নজরুলসংগীত শিল্পী ওস্তাদ শহীদ সরকার, ধনবাড়ীর হাসমত আলী, ঘাটাইলের জজ মিয়া, গোপালপুরের যন্ত্রশিল্পী রতন ঘটকসহ বিভিন্ন এলাকার বিশিষ্ট শিল্পী ও শিক্ষকরা।
আয়োজকদের প্রত্যাশা, এমন উদ্যোগের মধ্য দিয়ে মধুপুর ও আশপাশের এলাকার শিশু-কিশোরদের মধ্যে নজরুলের সাহিত্য, সংগীত ও সংস্কৃতির প্রতি আগ্রহ আরও বাড়বে এবং নতুন প্রজন্মের প্রতিভাবান শিল্পীরা নিজেদের বিকাশের সুযোগ পাবে।