অর্গানিক খাদ্যপণ্যের বিক্রয়কেন্দ্র ‘প্রযত্ন’-এর অষ্টম বর্ষে পদার্পণ উপলক্ষে টাঙ্গাইলের ধনবাড়ী উপজেলার পাতলাচড়া গ্রামে বসেছিল বাউল ও পালাগানের মনোমুগ্ধকর আসর। ভরা পূর্ণিমার রাতে গ্রামীণ লোকসংস্কৃতির এ আয়োজনে মেতে ওঠেন নানা বয়সী মানুষ। বিশেষ করে রাতভর অনুষ্ঠানে গ্রামের নারী ও মায়েদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ছিল চোখে পড়ার মতো।
শুক্রবার রাত সাড়ে ৮টা থেকে রাত পৌনে ৩টা পর্যন্ত ‘প্রযত্ন’-এর ঘানিঘরের সামনের আঙিনায় এ আয়োজন চলে। ‘প্রযত্ন’-এর আয়োজনে এবং পাতলাচড়া গ্রামবাসীর সার্বিক সহযোগিতায় অনুষ্ঠানের শুরু হয় বাউল মুক্তার হোসেন ও তাঁর দলের ভাব-বৈঠকী গানের মধ্য দিয়ে।
রাত সাড়ে ১০টার দিকে শুরু হয় লোকজ কিচ্ছা গানের পালা। ‘গহর বাদশাহ-বানেছা পরীর গল্পগাথা’ অবলম্বনে এ পালাগান পরিবেশন করেন মধুপুর উপজেলার আঙ্গারিয়া গ্রামের কিতাব আলী ও তাঁর দল। গভীর রাত পর্যন্ত চলে তাঁদের পরিবেশনা। গানের সুর, কাহিনি আর অভিনয়ের আবহে দর্শক-শ্রোতারা যেন হারিয়ে যান লোককথার সেই চেনা জগতে।
ভরা পূর্ণিমার আলোয় দুঃখ-কষ্ট ও দৈনন্দিন জীবনের ব্যস্ততা ভুলে গ্রামের মানুষ সারারাত উপভোগ করেন গহর বাদশাহ ও বানেছা পরীর প্রেমকাহিনিনির্ভর এ লোকগাথা। শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে বয়োজ্যেষ্ঠ এবং বিশেষ করে গ্রামীণ নারীদের উপস্থিতি ও আগ্রহে পুরো আয়োজন হয়ে ওঠে প্রাণবন্ত।
অনুষ্ঠান শেষে গ্রামের সবার জন্য ছিল চামারা চাল দিয়ে রান্না করা সবজি-ডালের খিচুড়ি বিতরণের আয়োজন।
‘প্রযত্ন’-এর পরিচালক ইকবাল হোসেন জুপিটার বলেন, “পাতলাচড়া গ্রামের মানুষ অনুষ্ঠানটিকে সর্বাত্মকভাবে সমর্থন ও সহযোগিতা করেছেন। সবচেয়ে আনন্দের বিষয় ছিল—রাতব্যাপী এই আয়োজনে গ্রামের নারী ও মায়েদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ। তাঁদের উপস্থিতি অনুষ্ঠানটিকে আরও প্রাণবন্ত করে তুলেছে।”
আধুনিক বিনোদনের নানা মাধ্যমের ভিড়ে এমন বাউল, ভাব-বৈঠকী গান ও পালাগানের আয়োজন গ্রামীণ লোকঐতিহ্যকে ধরে রাখার পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের কাছে লোকসংস্কৃতির শিকড়ের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ তৈরি করে।