‘মাদক ছাড়ো, না হয় শোলাকুড়ী ছাড়ো’ এ স্লোগানে মাদকের বিরুদ্ধে এবার রাস্তায় নেমেছেন টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলার শোলাকুড়ী ইউনিয়নের বাসিন্দারা। মাদক কারবার বন্ধের পাশাপাশি মাদকের বিরুদ্ধে কথা বলায় নিরীহ মানুষকে হয়রানি, মারধর ও মামলা দেওয়ার অভিযোগ তুলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তারা। বক্তাদের দাবি, মাদকের বিস্তার ঠেকাতে এখনই কঠোর পদক্ষেপ না নিলে এর ভয়াবহ প্রভাব পড়বে পুরো এলাকার তরুণ সমাজে।
রোববার (৩০ আগস্ট) সকাল ১০টায় শোলাকুড়ী বাজারের কেন্দ্রস্থলে এলাকাবাসী ও মাদকবিরোধী জনতার যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশে এ ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়। কর্মসূচিতে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী, সামাজিকভাবে সচেতন মানুষসহ শত শত মানুষ অংশ নেন।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, শোলাকুড়ী ইউনিয়নে মাদকের কারবার কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার এখনই সময়। একটি চিহ্নিত চক্র মাদকের মাধ্যমে এলাকার যুবসমাজকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তারা।
সমাবেশে বক্তারা প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে প্রকৃত মাদক কারবারিদের শনাক্ত করতে হবে। একই সঙ্গে মাদকের বিরুদ্ধে কথা বলায় যারা হয়রানির শিকার হয়েছেন, তাদের বিষয়টিও তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।
প্রতিবাদ সমাবেশে সংহতি প্রকাশ করে বক্তব্য দেন শোলাকুড়ী ডিগ্রি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. ফজলুল হক, প্রভাষক আরিফুল ইসলাম মহব্বত, শোলাকুড়ী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোকাদ্দেছ আলী, সহকারী প্রধান শিক্ষক সোহেল আরমান এবং স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সমাজসেবক সিরাজুল ইসলাম।
বক্তারা অবিলম্বে মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তার ও আইনের আওতায় আনার দাবি জানান। পাশাপাশি মাদকবিরোধী আন্দোলনে অংশ নেওয়া সাধারণ মানুষ যাতে কোনো ধরনের ভয়ভীতি, হয়রানি বা আইনি হয়রানির শিকার না হন, সে বিষয়েও প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ কামনা করেন।