বিদ্রোহের দীপ্তি, সাম্যের আহ্বান আর অসাম্প্রদায়িক মানবতার অমোঘ বাণী—জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সেই শাশ্বত চেতনাকে নতুন প্রজন্মের হৃদয়ে ছড়িয়ে দিতে টাঙ্গাইলের মধুপুরে পালিত হয়েছে ‘নজরুল বর্ষ ২০২৬’-এর বর্ণিল আয়োজন। সাহিত্য ও সংস্কৃতির নানা প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে পুরস্কার। পাশাপাশি অনুষ্ঠিত হয়েছে আলোচনা সভা ও মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) দিনব্যাপী মধুপুর উপজেলা পরিষদ হলরুমে মধুপুর সাংস্কৃতিক ঐক্য জোটের আয়োজনে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মধুপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম। উদ্বোধন করেন মধুপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. জাকির হোসেন সরকার। বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ মফিজুল হক।
আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন ডা. শামছুল হক ও নজরুল একাডেমি মধুপুর শাখার সাধারণ সম্পাদক সবুজ মিয়া। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মধুপুর সাংস্কৃতিক ঐক্য জোটের আহ্বায়ক ওস্তাদ আসাদুজ্জামান মন্টু। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সংগঠনের সদস্য সচিব ও দৈনিক যুগান্তরের মধুপুর প্রতিনিধি এস. এম. শহীদ।
আলোচনা পর্বে বক্তারা নজরুলের সাহিত্য, সংগীত ও মানবতাবাদী দর্শনের বহুমাত্রিক দিক তুলে ধরেন। তারা বলেন, নজরুল শুধু বিদ্রোহের কবি নন, তিনি ছিলেন সাম্য, মানবতা ও অসাম্প্রদায়িকতার কবি। ধর্ম-বর্ণের বিভেদ ভুলে মানুষের মর্যাদা প্রতিষ্ঠা এবং অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার যে চেতনা নজরুল তাঁর সৃষ্টিতে ধারণ করেছেন, তা আজও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক।
বক্তারা আরও বলেন, প্রযুক্তিনির্ভর এই সময়ে নতুন প্রজন্মকে নজরুলের সাহিত্য, সংগীত ও জীবনদর্শনের সঙ্গে পরিচিত করা জরুরি। নজরুলের সৃষ্টির আলো যত বেশি ছড়িয়ে পড়বে, সমাজে মানবিকতা, সাম্য ও সম্প্রীতির বন্ধন ততই দৃঢ় হবে। এ ধরনের সাংস্কৃতিক আয়োজন তরুণ প্রজন্মের মধ্যে নজরুলচর্চার নতুন দ্বার উন্মোচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

অনুষ্ঠানে ৬ দশকের বেশি সময় ধরে মধুপুরের সাংস্কৃতিক অঙ্গণে বিশেষ অবদান রাখার স্বীকৃতি হিসেবে আয়োজক প্রতিষ্ঠান মধুপুর সাংস্কৃতিক ঐক্য জোট ওস্তাদ আছাদুজ্জামান মন্টুকে সম্মাননা স্মারক ও মানপত্র প্রদান করে।
পরে নজরুল বর্ষ উপলক্ষে আয়োজিত গত ২২ ও ২৩ আগস্টে অনুষ্ঠিত বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার ও সনদ বিতরণ করা হয়। পুরস্কার হাতে বিজয়ীদের মুখে ফুটে ওঠে আনন্দের ঝিলিক; আর সেই আনন্দ যেন মিশে যায় নজরুলের অমর সৃষ্টির সুরে।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে স্থানীয় শিল্পীদের পরিবেশনায় অনুষ্ঠিত হয় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। গান, আবৃত্তি ও নানা সাংস্কৃতিক পরিবেশনায় হলরুমজুড়ে সৃষ্টি হয় উৎসবমুখর আবহ। নজরুলের সাম্য, প্রেম, মানবতা ও বিদ্রোহের চেতনায় মুখর হয়ে ওঠে পুরো আয়োজন।
অনুষ্ঠানে সাংস্কৃতিক অঙ্গনের শিল্পী, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।