টাঙ্গাইলের মধুপুরে শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিনামূল্যে বিতরণের জন্য বরাদ্দ করা নবম ও দশম শ্রেণির প্রায় ৮০০ কেজি সরকারি পাঠ্যবই ভাঙারির ঘর থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় ভাঙারি ব্যবসায়ী ইব্রাহীম হোসেনকে আটক করা হয়েছে। উদ্ধার করা বইয়ের সংখ্যা ২ হাজার ২৬২টি।
বুধবার সন্ধ্যায় মধুপুর পৌর এলাকার নরকোণা গ্রামের ভাঙারি ব্যবসায়ী ইব্রাহীম হোসেনের বাড়িতে এ অভিযান চালানো হয়। স্থানীয় কয়েকজন তরুণের সন্দেহের ভিত্তিতে বিষয়টি পুলিশকে জানানো হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বইগুলো জব্দ এবং ইব্রাহীমকে আটক করে।
উদ্ধার করা বইগুলো ২০২৫ শিক্ষাবর্ষের নবম ও দশম শ্রেণির সরকারি পাঠ্যবই। এর মধ্যে রয়েছে—‘English Grammar and Composition’ ৬০০টি, ‘বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি’ ৪৬৮টি, ‘গণিত’ ৩১২টি, ‘বাংলা সাহিত্য’ ১৫০টি এবং ‘বাংলা সহপাঠ’ ৪২০টি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ইব্রাহীম হোসেন দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বিনামূল্যের পাঠ্যবই সংগ্রহ করে ভাঙারি হিসেবে বিক্রি করে আসছিলেন। মঙ্গলবারও তিনি মধুপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের শহীদ স্মৃতি উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের কলেজ শাখার বিজ্ঞান ভবনের নিচ তলার রুম ব্যবহৃত গুদাম থেকে কয়েক ভ্যান বই নিয়ে আসেন বলে স্থানীয়দের দাবি। বুধবার সেগুলো অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার সময় স্থানীয়দের সন্দেহ হয়। পরে তারা খোঁজ নিয়ে বইগুলো সরকারি পাঠ্যবই বলে শনাক্ত করে পুলিশকে খবর দেন।
তবে ভাঙারি ব্যবসায়ী ইব্রাহীম হোসেন দাবি করেন, শিক্ষা অফিসের অনুমোদন সাপেক্ষে নৈশপ্রহরী তোফায়েল আহমেদের মাধ্যমে তিনি গুদাম থেকে প্রতি কেজি ২০ টাকা দরে বইগুলো কিনেছেন। অন্যদিকে বই সংরক্ষণ ও বিতরণের দায়িত্বে থাকা একাডেমিক সুপারভাইজার মো. মহিউদ্দীন আহমেদ দাবি করেন, তার অগোচরে নৈশপ্রহরী এসব বই সরিয়ে থাকতে পারেন।
ধনবাড়ী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ও মধুপুরের অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বাবুল হাসান জানান, সরকারি পাঠ্যবই কীভাবে গুদাম থেকে বাইরে গেল এবং কারা এর সঙ্গে জড়িত—তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
ঘটনার খবর পেয়ে মধুপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. নঈম উদ্দীন ঘটনাস্থলে যান। তাদের উপস্থিতিতে বইগুলো জব্দ করা হয় এবং ইব্রাহীম হোসেনকে মধুপুর থানায় পাঠানো হয়।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিনামূল্যে বিতরণের জন্য বরাদ্দ করা বই কোথা থেকে এবং কীভাবে বাইরে এসেছে, তা তদন্ত করে দেখা হবে। তদন্তে যার সম্পৃক্ততা পাওয়া যাবে, তার বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ ঘটনায় মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বাবুল হাসান বাদী হয়ে মধুপুর থানায় নিয়মিত মামলা করেছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। সরকারি গুদাম থেকে বই বের হওয়ার ঘটনায় আরও কেউ জড়িত কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।