টাঙ্গাইল জেলায় ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষার ফলে সেরা সাফল্য দেখিয়েছে মধুপুর শহীদ স্মৃতি উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়। এ প্রতিষ্ঠানের ৩৬০ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৩৫০ জন উত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৯৭ দশমিক ২২ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৬০ জন।
জেলার অন্যান্য কলেজের ফলাফলের তুলনায় শহীদ স্মৃতি উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের এ সাফল্য বেশ ঈর্ষণীয়। এমনকি জেলার অন্যতম সেরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান মির্জাপুর ক্যাডেট কলেজের ফলাফলের সঙ্গেও তুলনীয়। মির্জাপুর ক্যাডেট কলেজের ৪১ জন পরীক্ষার্থীর সবাই জিপিএ-৫ পেয়েছে। অন্যদিকে মধুপুর শহীদ স্মৃতি উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ৬০ জন শিক্ষার্থী এ কৃতিত্ব অর্জন করেছে।
জেলার বেশ কয়েকটি নামকরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাসের হার শহীদ স্মৃতি উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের চেয়ে অনেক কম। সরকারি কুমুদিনী কলেজের পাসের হার ৭৯ দশমিক ৭৭ শতাংশ, টাঙ্গাইল সরকারি মহিলা কলেজের (শেখ ফজিলাতুন্নেছা সরকারি কলেজ) ৫৩ দশমিক ২০ শতাংশ, সরকারি এমএম আলী কলেজের ৩৪ দশমিক ৪৭ শতাংশ এবং সৃষ্টি কলেজ অব টাঙ্গাইলের ৮০ দশমিক ৮৭ শতাংশ। মধুপুর সরকারি কলেজসহ নিজ উপজেলার অর্ধডজনের বেশি কলেজের ফলাফলও শহীদ স্মৃতির ধারে কাছে নেই।
ঢাকা বিভাগে সেরা দশে স্থান পাওয়ার রেকর্ড এবং মহামান্য রাষ্ট্রপতির কাছ থেকে পুরস্কার অর্জন করা এ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি এবারও তার ধারাবাহিক সাফল্যের স্বাক্ষর রেখেছে।
বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নিজাম উদ্দিন তরফদার বলেন, শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের ঐকান্তিক প্রচেষ্টা, সমন্বিত উদ্যোগ এবং শিক্ষার্থীদের অধ্যবসায়ের কারণেই প্রতিষ্ঠানটি বরাবর ভালো ফল করে আসছে। এবারের ফলাফল আরও ভালো হতে পারত। চারজন শিক্ষার্থী পরীক্ষা চলাকালে মাঝপথে পরীক্ষা দেওয়া বন্ধ করে দেয়। তাদেরও অকৃতকার্য হিসেবে গণনা করা হয়েছে। বাকি ছয়জনের মধ্যে যারা অকৃতকার্য হয়েছে, তাদের অধিকাংশই তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিষয়ে ভালো করতে পারেনি। তারা পাস করলে জিপিএ-৪ দশমিক ৫০-এর বেশি পাওয়ার সম্ভাবনা ছিল। তারপরও জেলার মধ্যে আমরাই সেরা ফল করেছি।
মধুপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, মধুপুর শহীদ স্মৃতি উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে সাধারণত মেধাবী শিক্ষার্থীরাই ভর্তি হয়। তাই এখানে অকৃতকার্য হওয়ার ঘটনা প্রত্যাশিত নয়। যারা অকৃতকার্য হয়েছে, তাদের প্রতি আরও যত্নবান হতে হবে। তাদের বিষয়ে শিক্ষকদের বিশেষ নজর দেওয়া প্রয়োজন।