ঢাকা ১১:৩২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০১ জানুয়ারি ২০২৬, ১৮ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

নতুন বছরে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয়

খন্দকার বদিউজ্জামান বুলবুল
  • আপডেট সময় : ০৮:০৪:৫২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ জানুয়ারি ২০২৬ ৩৬ বার পড়া হয়েছে

দেখতে দেখতে আরো একটি বছরের পরিসমাপ্তি। ক্যালেন্ডারের পাতায় যুক্ত হয়েছে নতুন পালক। মনে হচ্ছে সময়গুলো খুব দ্রুতই চলে যাচ্ছে। এইতো সেদিন ছাত্র জনতার ঐক্যবদ্ধ প্রয়াসে বাংলাদেশ ফ্যাসিবাদ মুক্ত হয়েছে। ছাত্র জনতার সেই জ্বালাময়ী স্লোগান এখনোও কানে ভাসে, হূদয়ে দোলা দেয়। গেলো নভেম্বর মাসে ফুটবল খেলায় ভারতকে কাঁদিয়ে দীর্ঘ ২২ বছর পর জয় ছিনিয়ে নেয় হামজা চৌধুরীরা। যার রেস এখনো বিদ্যমান। বাংলাদেশের ছাত্র রাজনীতির নতুন ইতিহাস রচিত হয়েছে ২০২৫ সালে। গেলো সেপ্টেম্বর মাসে শিক্ষার্থীদের প্রত্যক্ষ ভোটে ডাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় সেই সাথে ৩৩ বছর পর অনুষ্ঠিত হয় জাকসু নির্বাচন। এছাড়াও রাকসু ও চাকসু নির্বাচন ছাত্র রাজনীতির ইতিবাচক পরিবর্তন সূচিত করে। তবে বছরের শেষের দিকে ঘটে যায় হৃদয় বিদারক ঘটনা। আধিপত্যবাদ বিরোধী অগ্র সেনানী ও ইনকিলাব মঞ্চের মূখ্যপাত্র শরীফ ওসমান বিন হাদিকে হারিয়ে গোটা দেশ শোক সাগরে নিমজ্জিত হয়। সেই সাথে তিন বারের সফল প্রধানমন্ত্রী ও আপোষহীন নেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে আমরা এই বছরই হারিয়ে ফেলি। এভাবেই আশা ও হতাশার দোলাচালে কেটে যায় ২০২৫। বিদায়ি বছরে রয়েছে পাওয়া না পাওয়ার গল্প, রয়েছে প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তির হিসাব। আলোচনা ও সমালোচনার মধ্য দিয়ে বিদায় নিচ্ছে ২০২৫ সাল।

নতুন বছর আমাদের সামনে সমাগত। বরাবরের মতো বর্ণিল আয়োজনে দেশে দেশে বরণ করা হবে নতুন বছরকে। ইংরেজি নববর্ষের আনন্দে ভাসবে গোটা পৃথিবী। নতুন বছর আমাদের সামনে আসে নতুন নতুন সম্ভবনা ও আসা নিয়ে। নতুন করে দেশকে সাজানোর সুযোগ নিয়ে। অতীতের প্রাপ্তি আর অপ্রাপ্তির বেড়াজালে আমাদের মাঝে অত্যাসন্ন ইংরেজি নববর্ষ। ক্যালেন্ডারের পাতায় সংযোজন হবে নতুন আরেকটি বছর। নতুন বছরে আমাদের সুন্দর পরিকল্পনা প্রণয়নের পাশাপাশি তা বাস্তবায়নে সক্ষমতা অর্জনে সচেষ্ট থাকতে হবে। কেননা পরিকল্পনা ব্যতিত কোন কাজ সুন্দর ও সুচারুরূপে সম্পন্ন হয় না। বছরের শুরুতেই আমাদের পরিকল্পনা মাফিক প্রস্তুত থাকতে হবে। কেননা দেশের অতি গুরুত্বপূর্ণ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন কিন্তু ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারী মাসে। নতুন বছরে জাতীর সামনে রয়েছে সঠিক নেতৃত্ব নির্বাচনের সুযোগের হাতছানি পাশাপাশি হাতে হাত রেখে দেশ বিনির্মানের অবারিত সুযোগ। পুরনো দিনের সব প্রাপ্তি আর অপ্রাপ্তি সেই সাথে পাওয়া না পাওয়ার স্মৃতি মাড়িয়ে নতুন বছর যেন চলে দেশবাসীর স্বপ্নের সাথে তাল মিলিয়ে এটাই চাওয়া। যদিও রাতারাতি সব পরিবর্তন হয়ে যাবে না তবে আমাদের নতুন ভোরের স্বপ্ন দেখতে তো ক্ষতি নেই। নতুন বছর শুরু হোক তারুণ্যের অপ্রতিরোধ্য উদ্দামতায়। নতুন বছরে সহস্র প্রাণ হাসবে, গাইবে, পূর্ণোদ্দমে বিনির্মান করবে জুলাই স্পিরিটের অদম্য বাংলাদেশ। নতুন বছরে নিজেদের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক জোরদার করার পাশাপাশি সহমর্মিতা ও সহযোগিতার পরিবেশ সৃষ্টি করে আমাদের এগিয়ে যেতে হবে। সেই সাথে সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে ঘাপটি মেরে থাকা অনিয়ম ও দূর্নীতিকে নির্মূল করে ন্যায় ও ইনসাফ ভিত্তিক বাংলাদেশ বিনির্মানে আমাদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। আমরা প্রত্যাশা করি নতুন বছরে বাংলাদেশের বেকার সমস্যা নিরসনের পাশাপাশি শিশুর মানসিক বিকাশে নতুন বন্দোবস্তের আলোকে সরকার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করবেন। নতুন বছরে নির্বাচিত সরকারের নিকট আমাদের প্রত্যাশা থাকবে সমাজের ফাক ফোকড়ে চাঁদাবাজি ও মাদকদ্রব্যের অবাধ প্রবাহ বন্ধে কার্যকর ভূমিকা রাখা। আমরা প্রায়ই সড়ক দুর্ঘটনার সংবাদ শুনি। নতুন বছরে নির্বাচিত সরকারের নিকট আমাদের আর্যি থাকবে যেন সড়ক দূর্ঘটনায় আর কোন মা’য়ের বুক খালি না হয়, আর কোন বাবা যেন সন্তান হারা না হয়। সেই সাথে দেশপ্রেমে উদ্বেলিত হয়ে নতুন বছরে নতুন করে আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশকে সাজানোর প্রতিঞ্জা করতে হবে।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!

নতুন বছরে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয়

আপডেট সময় : ০৮:০৪:৫২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ জানুয়ারি ২০২৬

দেখতে দেখতে আরো একটি বছরের পরিসমাপ্তি। ক্যালেন্ডারের পাতায় যুক্ত হয়েছে নতুন পালক। মনে হচ্ছে সময়গুলো খুব দ্রুতই চলে যাচ্ছে। এইতো সেদিন ছাত্র জনতার ঐক্যবদ্ধ প্রয়াসে বাংলাদেশ ফ্যাসিবাদ মুক্ত হয়েছে। ছাত্র জনতার সেই জ্বালাময়ী স্লোগান এখনোও কানে ভাসে, হূদয়ে দোলা দেয়। গেলো নভেম্বর মাসে ফুটবল খেলায় ভারতকে কাঁদিয়ে দীর্ঘ ২২ বছর পর জয় ছিনিয়ে নেয় হামজা চৌধুরীরা। যার রেস এখনো বিদ্যমান। বাংলাদেশের ছাত্র রাজনীতির নতুন ইতিহাস রচিত হয়েছে ২০২৫ সালে। গেলো সেপ্টেম্বর মাসে শিক্ষার্থীদের প্রত্যক্ষ ভোটে ডাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় সেই সাথে ৩৩ বছর পর অনুষ্ঠিত হয় জাকসু নির্বাচন। এছাড়াও রাকসু ও চাকসু নির্বাচন ছাত্র রাজনীতির ইতিবাচক পরিবর্তন সূচিত করে। তবে বছরের শেষের দিকে ঘটে যায় হৃদয় বিদারক ঘটনা। আধিপত্যবাদ বিরোধী অগ্র সেনানী ও ইনকিলাব মঞ্চের মূখ্যপাত্র শরীফ ওসমান বিন হাদিকে হারিয়ে গোটা দেশ শোক সাগরে নিমজ্জিত হয়। সেই সাথে তিন বারের সফল প্রধানমন্ত্রী ও আপোষহীন নেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে আমরা এই বছরই হারিয়ে ফেলি। এভাবেই আশা ও হতাশার দোলাচালে কেটে যায় ২০২৫। বিদায়ি বছরে রয়েছে পাওয়া না পাওয়ার গল্প, রয়েছে প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তির হিসাব। আলোচনা ও সমালোচনার মধ্য দিয়ে বিদায় নিচ্ছে ২০২৫ সাল।

নতুন বছর আমাদের সামনে সমাগত। বরাবরের মতো বর্ণিল আয়োজনে দেশে দেশে বরণ করা হবে নতুন বছরকে। ইংরেজি নববর্ষের আনন্দে ভাসবে গোটা পৃথিবী। নতুন বছর আমাদের সামনে আসে নতুন নতুন সম্ভবনা ও আসা নিয়ে। নতুন করে দেশকে সাজানোর সুযোগ নিয়ে। অতীতের প্রাপ্তি আর অপ্রাপ্তির বেড়াজালে আমাদের মাঝে অত্যাসন্ন ইংরেজি নববর্ষ। ক্যালেন্ডারের পাতায় সংযোজন হবে নতুন আরেকটি বছর। নতুন বছরে আমাদের সুন্দর পরিকল্পনা প্রণয়নের পাশাপাশি তা বাস্তবায়নে সক্ষমতা অর্জনে সচেষ্ট থাকতে হবে। কেননা পরিকল্পনা ব্যতিত কোন কাজ সুন্দর ও সুচারুরূপে সম্পন্ন হয় না। বছরের শুরুতেই আমাদের পরিকল্পনা মাফিক প্রস্তুত থাকতে হবে। কেননা দেশের অতি গুরুত্বপূর্ণ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন কিন্তু ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারী মাসে। নতুন বছরে জাতীর সামনে রয়েছে সঠিক নেতৃত্ব নির্বাচনের সুযোগের হাতছানি পাশাপাশি হাতে হাত রেখে দেশ বিনির্মানের অবারিত সুযোগ। পুরনো দিনের সব প্রাপ্তি আর অপ্রাপ্তি সেই সাথে পাওয়া না পাওয়ার স্মৃতি মাড়িয়ে নতুন বছর যেন চলে দেশবাসীর স্বপ্নের সাথে তাল মিলিয়ে এটাই চাওয়া। যদিও রাতারাতি সব পরিবর্তন হয়ে যাবে না তবে আমাদের নতুন ভোরের স্বপ্ন দেখতে তো ক্ষতি নেই। নতুন বছর শুরু হোক তারুণ্যের অপ্রতিরোধ্য উদ্দামতায়। নতুন বছরে সহস্র প্রাণ হাসবে, গাইবে, পূর্ণোদ্দমে বিনির্মান করবে জুলাই স্পিরিটের অদম্য বাংলাদেশ। নতুন বছরে নিজেদের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক জোরদার করার পাশাপাশি সহমর্মিতা ও সহযোগিতার পরিবেশ সৃষ্টি করে আমাদের এগিয়ে যেতে হবে। সেই সাথে সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে ঘাপটি মেরে থাকা অনিয়ম ও দূর্নীতিকে নির্মূল করে ন্যায় ও ইনসাফ ভিত্তিক বাংলাদেশ বিনির্মানে আমাদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। আমরা প্রত্যাশা করি নতুন বছরে বাংলাদেশের বেকার সমস্যা নিরসনের পাশাপাশি শিশুর মানসিক বিকাশে নতুন বন্দোবস্তের আলোকে সরকার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করবেন। নতুন বছরে নির্বাচিত সরকারের নিকট আমাদের প্রত্যাশা থাকবে সমাজের ফাক ফোকড়ে চাঁদাবাজি ও মাদকদ্রব্যের অবাধ প্রবাহ বন্ধে কার্যকর ভূমিকা রাখা। আমরা প্রায়ই সড়ক দুর্ঘটনার সংবাদ শুনি। নতুন বছরে নির্বাচিত সরকারের নিকট আমাদের আর্যি থাকবে যেন সড়ক দূর্ঘটনায় আর কোন মা’য়ের বুক খালি না হয়, আর কোন বাবা যেন সন্তান হারা না হয়। সেই সাথে দেশপ্রেমে উদ্বেলিত হয়ে নতুন বছরে নতুন করে আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশকে সাজানোর প্রতিঞ্জা করতে হবে।