প্রয়াত সরকার সহিদের ৩য় মৃত্যুবার্ষিকী
মধুপুরে বিএনপি’র স্মরন সভা ও দোয়া মাহফিল
- আপডেট সময় : ০৬:৫৩:৫১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৪ জানুয়ারি ২০২৬ ৩০ বার পড়া হয়েছে

টাঙ্গাইলের উত্তর অঞ্চলের শীর্ষ জনপ্রিয় নেতা মধুপুর পৌরসভার তিন বারের মেয়র, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষের প্রার্থী উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক প্রয়াত সরকার শহীদুল ইসলাম ওরফে সরকার সহিদের ৩য় মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষ্যে স্মরণসভা এবং দোয়া মাহফিল করেছে উপজেলা ও পৌর বিএনপি।
মঙ্গলবার বিকেলে মধুপুর পৌর শহরের নতুন বাজার এলাকার সরকার বাড়ির (সরকার সহিদের বাস ভবন)আঙ্গিণায় এ স্মরণসভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।
এতে প্রধান অতিথি ছিলেন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে টাঙ্গাইল -১ (মধুপুর -ধনবাড়ী) আসনের ধানের শীষের প্রার্থী কেন্দ্রীয় বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য ফকির মাহবুব আনাম স্বপন।
স্মরণসভায় সভাপতিত্ব করেন মধুপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি বৃহত্তর অরণখোলা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান জাকির হোসেন সরকার। যুবনেতা মেহেদী হাসান মিনজুর সঞ্চালনায়
স্মরণসভায় প্রয়াত নেতা সম্পর্কে স্মৃতিচারণ করে বক্তৃতা করেন বীর মুক্তিযোদ্ধা এম এ সামাদ , বিশেষ অতিথি উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দিন,টাঙ্গাইল জেলা বিএনপির সাবেক পল্লী উন্নয়ন বিষয়ক সম্পাদক গোলাবাড়ী ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবির তালুকদার,
পৌর বিএনপির সভাপতি খুররম খান ইউসুফজী প্রিন্স,সাধারণ সম্পাদক খন্দকার মোতালিব হোসেন,
প্রয়াত সরকার সহিদের স্ত্রী লিলি সরকার, পৌর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আ.লতিফ পান্না, আসাদ সরকার,বিকাশ চন্দ্র ঘোষ প্রমুখ।
তারা বলেন, সরকার সহিদ ছিলেন এ জনপদের জননন্দিত নেতা। মানবিক গুণের অধিকারী। ২০২৩ সালের ১৩ জানুয়ারিতে তাঁর মৃত্যুর খবরে মধুপুরের অসংখ্য নারী পুরুষ আবেগ আপ্লুত হয়ে কান্নায় গড়গড়ি করেছেন। মধুপুর ও তার আশপাশের উপজেলায় তাঁর মৃত্যুর খবরে শোক বয়ে যায়। পরের দিন ১৪ জানুয়ারিতে মধুপুর রাণী ভবানী মডেল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত নেতার জানাজায় জন মানুষের যে ঢল নেমে ছিল তা কল্পনাতীত। অনেক জেলা উপজেলা ও বিভাগীয় শহর থেকে তাঁর জানাযায় অংশ নিতে বহু ভক্ত ছুটে এসেছিলেন। উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক প্রয়াত সরকার সহিদের জানাযা নামাজে জনতার ঢলে রাজনৈতিক ভেদাভেদ ভুলে অংশ নিয়ে ছিলেন আওয়ামী লীগের তৎকালীন কৃষিমন্ত্রী, জেলা উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ,বিএনপির কেন্দ্রীয়, জেলা, উপজেলার নেতৃবৃন্দসহ সকল রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী, সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। বাদ যাননি ভিন্ন ধর্মাবলম্বীর মানুষ জন। পুরো রাণী ভবানীর মাঠ কানায় কানায় ভরে মানুষের ঢল বিস্তৃত হয় পাশের রাজপথ। টাঙ্গাইল – ময়মনসিংহ আঞ্চলিক মহাসড়কের কয়েক জেলায় চলাচল করা যানবাহন বন্ধ হয়ে যায়। অনেকে জানাযা নামাজে অংশ নিতে না পারায় তাদের জন্য টেংরি গোরস্থান মাঠে দ্বিতীয় জানাযা অনুষ্ঠিত হয়।
প্রয়াত সরকার সহিদের আদর্শ অনুসরণের মাধ্যমে মানবিক সমাজ প্রতিষ্ঠা করা গেলে তাঁর স্মরনসভা স্বার্থক হবে এবং তাঁর আত্নার প্রতি পূর্ণ শ্রদ্ধা জানানো হবে বলে মন্তব্য করেছেন স্মরণসভায় অংশগ্রহণকারী নেতৃবৃন্দ।
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের ১৩ জানুয়ারি শুক্রবার ভোরে সরকার সহিদ হার্ট অ্যাটাক করেন। ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পর অবস্থা জটিল হতে থাকে। চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা নেওয়ার পরামর্শ দেন। কিন্তু ঢাকায় নেওয়ার প্রস্তুতিকালে ৫৬ বছর বয়সী নেতা সরকার সহিদ মারা যান।
অপর দিকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে টাঙ্গাইল -১ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেয়া কেন্দ্রীয় বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আলীর মধুপুর পৌর শহরের ময়মনসিংহ রোডের কার্যালয়ে স্মরণসভা হয়েছে। মঙ্গলবার রাতে অনুষ্ঠিত ওই স্মরণসভায় মোহাম্মদ আলী ছাড়াও বিএনপির সাবেক নেতৃবৃন্দ বক্তৃতা করেন।শেষে প্রয়াত নেতার আত্নার মাগফেরাত কামনায় দোয়া পরিচালিত হয়।














