টাঙ্গাইলে সারি সারি বিশাল সব কড়াইয়ে সিদ্ধ করা হচ্ছে দই
- আপডেট সময় : ০৬:০০:৪৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৭ মে ২০২৬ ১১ বার পড়া হয়েছে

টাঙ্গাইলে ২০০ বছর ধরে ঐতিহ্য ধরে রেখেছে ঘৌর ঘোষ মিষ্টান্ন ভান্ডার।ফুটন্ত গরম পানিতে দই সিদ্ধ করে বাজারজাতকরণ করা হয়।দেশের চাহিদা পূরণ করে বিশ্ববাজারে রপ্তানি করা গেলে এই ঐতিহ্যই হতে পারে বাংলাদেশের অর্থনীতির নতুন সম্ভাবনার
টাঙ্গাইল সদর দাইন্যা চৌধুরী এলাকায় দই তৈরি এই জাদুকরী কর্মযোগ্যটি চলে গৌড় ঘোষ দুধী ও মিষ্টান্ন ভান্ডারের কারখানায়। প্রায় ২০০ বছর ধরে সিদ্ধ দেওয়া এই পদ্ধতি অবলম্বন করে আসছেন প্রতিষ্ঠানটি।
ফুটন্ত গরম পানিতে সিদ্ধ করা এই দইয়ে স্বাদ অন্যান্য সব দই থেকে একেবারেই আলাদা। অন্যান্য সাধারণ দই চামচ দিয়ে তুলে নেওয়ার কিছুক্ষণ পরেই পানি উঠে যায় কিন্তু ১৫ মিনিট ধরে সিদ্ধ করা এই দই পানি উঠে না। কারিগরের নিখুঁত হাতে বীজ বসানো এই বিশেষত্ব কারণেই টাঙ্গাইলের এই সিদ্ধ দই সুস্বাদু ও পছন্দের শীর্ষে।
সুস্বাদু এই দইয়ের প্রস্তুতি শুরু হয় একেবারেই ভোরবেলা। গ্রামের বাজার থেকে প্রতিদিন প্রায় ৩০ থেকে ৪০মন খাঁটি গরু দুধ সংগ্রহ করে কারখানায় আনা হয় এরপর বিশাল কয়েকটি কড়াইয়ে সেই দুধ কয়েক ঘণ্টা ধরে জ্বাল দিয়ে অর্ধেকের নিচে নামিয়ে আনা হয়। পরিমাণমত চিনি মিশিয়ে কিছুক্ষণ জ্বাল দেয়ার পর চুলা থেকে নামিয়ে বিভিন্ন আকৃতির মাটির পাত্রে রাখা হয়। এরপর বিশাল আকৃতির ঢাকনা দিয়ে অর্থ শতাধিক খুঁটি একত্রে রাখা হয় প্রায় এক রাত। দই বসে যাওয়ার পর সকালে শুরু হয় বিশেষ প্রক্রিয়া ফুটন্ত গরম পানিতে দইয়ে খুঁটি গুলো প্রায় ১৫ থেকে ২০ মিনিট ধরে পুনরায় সিদ্ধ করা হয়।
আর এই ভিন্নধর্মী স্বাদ ও বৈশিষ্ট্য কারণেই টাঙ্গাইলে অন্যান্য দইয়ের দোকানের চেয়ে ক্রেতারা এই ঐতিহ্যবাহী দই কিনতে বেশি পছন্দ করেন। তাছাড়া এই দই সারা বাংলাদেশসহ দেশের বাইরে বিক্রি করা হচ্ছে।মাত্র ২৫০ থেকে ৩৫০ টাকা দরে এই দই পাওয়া যায়।
প্রতিষ্ঠানের মালিক আনন্দ কুমার ঘোষ বলেন, আমরা গরম পানি দিয়ে ফুটন্ত দই বাজারজাত করি এবং দেশে বিদেশে বিক্রি করি।
প্রতিষ্ঠানের কারিগর সুমন ঘোষ বলেন , এখানে ৩০থেকে ৩২ বছর ধরে চাকরি করছি। এইখানে দই টা যে তৈরি করা হয় সেটির ফরমূলা টা একমাত্র আমার হাতে মধ্য আছে । এই দই তৈরি ফরমূলা কেউ জানেনা একমাত্র আমি জানি এর জন্যই দই খুব মজার হয়।
নিলয় ঘোষ জানান,২০ মন গুরুর দুধ কড়াইয়ে জ্বাল দিয়ে ৯ মন বানানো হয় । এরপর দই বানানো প্রক্রিয়া শুরু করা হয়।দই গরম পানিতে সিদ্ধ করে তারপর কারখানায় থেকে শৌরুমে পাঠানো হয়।
“টাঙ্গাইলের মিষ্টি দই শুধু একটি খাবার নয়, এটি শত বছরের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও আস্থার প্রতীক। দেশের চাহিদা পূরণ করে বিশ্ববাজারে রপ্তানি করা গেলে এই ঐতিহ্যই হতে পারে বাংলাদেশের অর্থনীতির নতুন সম্ভাবনার















