মধুপুরে বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহের উদ্বোধন, আলোচনা সভা ও শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত
- আপডেট সময় : ০৮:৩৯:১৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১ আগস্ট ২০২৬ ২৩ বার পড়া হয়েছে

টাঙ্গাইলের মধুপুরে আলোচনা সভা ও বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রার মধ্য দিয়ে বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহ-২০২৬ এর উদ্বোধন করা হয়েছে।
শনিবার (১ আগস্ট) বেলা ১১টায় ১০০ শয্যাবিশিষ্ট মধুপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কনফারেন্স রুমে “জীবনের সূচনায় মাতৃদুগ্ধ পান, টেকসই উদ্যোগ করি বেগবান” প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে এ উপলক্ষে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানের শুরুতে মেডিকেল অফিসার ডা. নাজমুল হুদা প্রজেক্টরের মাধ্যমে নবজাতক ও শিশুর সুস্থ বৃদ্ধি এবং মায়ের স্বাস্থ্যের জন্য মাতৃদুগ্ধের গুরুত্বপূর্ণ ইতিবাচক প্রভাব নিয়ে তথ্যবহুল উপস্থাপনা করেন।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. সাইদুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. সজীব কান্তি পাল, গাইনি বিশেষজ্ঞ (কনসালটেন্ট) ডা. মুশফিকা মহসিন, মেডিসিন বিশেষজ্ঞ (কনসালটেন্ট) ডা. নাহিদ ইসলাম, উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা উজ্জ্বল বৈরাগী, সহকারী মেডিকেল অফিসার লাকী, স্বাস্থ্য সহকারী ফেরদৌসি, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের একাডেমিক সুপারভাইজার মহিউদ্দিন আহমেদ এবং সাংবাদিক হাবিবুর রহমানসহ অন্যান্যরা।
বক্তারা বলেন, জন্মের পর প্রথম ছয় মাস শিশুর জন্য মায়ের বুকের দুধই সর্বোত্তম ও পূর্ণাঙ্গ খাদ্য। এর কোনো বিকল্প নেই। তাই শিশুর সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে প্রথম ছয় মাস শুধুমাত্র মায়ের বুকের দুধ খাওয়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। একই সঙ্গে গ্রামীণ পর্যায়ে প্রসূতি মায়েদের মাতৃদুগ্ধ পান করাতে উদ্বুদ্ধ করা এবং সরকারি-বেসরকারি সব কর্মস্থলে কর্মজীবী মায়েদের সুবিধার্থে ব্রেস্টফিডিং কর্নার বা সেন্টার স্থাপনের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেওয়া হয়।
আলোচনায় বাল্যবিবাহ প্রতিরোধের বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা হয়। বক্তারা বলেন, অল্প বয়সে মাতৃত্ব মা ও শিশু—উভয়ের জন্যই স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করে। তাই সুস্থ প্রজন্ম গঠনে বাল্যবিবাহ রোধ এবং নিরাপদ মাতৃত্ব নিশ্চিত করা জরুরি।
বক্তারা আরও বলেন, সৌন্দর্য, শারীরিক গঠন বা সামাজিক আভিজাত্যের ভুল ধারণার কারণে অনেক মা শিশুকে বুকের দুধ খাওয়াতে অনীহা প্রকাশ করেন, যা সম্পূর্ণ ভ্রান্ত ধারণা। মাতৃদুগ্ধ শিশুর শারীরিক ও মানসিক বিকাশ নিশ্চিত করার পাশাপাশি পরিবারে অর্থনৈতিক সাশ্রয় আনে, মা-শিশুর নিবিড় সম্পর্ক গড়ে তোলে এবং প্রসব-পরবর্তী সময়ে মায়ের শারীরিক সুস্থতা ফিরে পেতেও সহায়তা করে।
এ সময় মাতৃদুগ্ধ বিষয়ক সরকারি কার্যক্রম আরও কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় জনবল বৃদ্ধি এবং উদ্ভাবনী উদ্যোগ গ্রহণের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান বক্তারা।
আলোচনা সভা শেষে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স চত্বরে বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহ উপলক্ষে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করা হয়। এতে স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারী, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি, গণমাধ্যমকর্মী এবং সেবাগ্রহীতারা অংশ নেন।











