জাতিসংঘ পাবলিক সার্ভিস ফোরামে অন্তর্ভুক্তিমূলক ডিজিটাল সরকার গঠনে বাংলাদেশের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত
- আপডেট সময় : ০৯:১৮:১৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬ ২৭ বার পড়া হয়েছে

অন্তর্ভুক্তিমূলক ও নাগরিক-বান্ধব ডিজিটাল সরকার ব্যবস্থা গড়ে তোলার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম। তিনি বলেছেন, ডিজিটাল পাবলিক ইনফ্রাস্ট্রাকচার (ডিপিআই) শুধু প্রযুক্তিগত উন্নয়নের বিষয় নয়, বরং সুশাসন ও জনসেবাকে জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার একটি কার্যকর মাধ্যম।
বুধবার জর্জিয়ার রাজধানী তিবিলিসিতে অনুষ্ঠিত ‘জাতিসংঘ পাবলিক সার্ভিস ফোরাম ২০২৬’-এর উচ্চপর্যায়ের গোলটেবিল বৈঠকে অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, “বাংলাদেশের কাছে ডিপিআই কেবল প্রযুক্তির বিষয় নয়, এটি সুশাসনের অন্যতম হাতিয়ার। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের একজন নাগরিক যেন রাজধানীর একজন বাসিন্দার মতোই সহজে ও সমানভাবে সরকারি সেবা পেতে পারেন, সেটিই আমাদের লক্ষ্য।”
তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বর্তমান সরকার একটি ‘ডিজিটাল-ফার্স্ট’ সরকার ব্যবস্থা গড়ে তুলতে কাজ করছে, যেখানে প্রযুক্তির মাধ্যমে সেবা প্রদান আরও সহজ, দ্রুত ও জবাবদিহিমূলক হবে।
ফকির মাহবুব আনাম জানান, বর্তমানে দেশের নাগরিকরা সরকারি ডিজিটাল পেমেন্ট প্ল্যাটফর্ম ‘একপে’ (EkPay), ‘মাইগভ’ (myGov) অ্যাপ, জাতীয় তথ্য বাতায়ন এবং ‘৩৩৩’ হেল্পলাইনের মাধ্যমে বিভিন্ন সরকারি সেবা গ্রহণ করতে পারছেন। পাশাপাশি আগামী তিন বছরের মধ্যে সবার জন্য সাশ্রয়ী মূল্যে মানসম্মত ইন্টারনেট সংযোগ এবং স্মার্ট ডিভাইস নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে।
নাগরিক অংশগ্রহণ ও মতামত গ্রহণের বিষয়েও সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, ক্যাবিনেট বিভাগের ‘গ্রিভেন্স রিড্রেস সিস্টেম’ (GRS) এবং ‘ই-পার্টিসিপেশন’ (e-Participation) প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে জনগণ সরাসরি তাদের মতামত, পরামর্শ ও অভিযোগ জানাতে পারছেন।
সরকারি প্রতিষ্ঠানের জবাবদিহিতা ও নাগরিক সম্পৃক্ততা আরও বাড়াতে ভবিষ্যতে একটি ‘ই-পার্টিসিপেশন র্যাংকিং’ চালুর পরিকল্পনা রয়েছে বলেও জানান তিনি।
বৈঠকে বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা নাগরিক-কেন্দ্রিক সরকারি সেবা, ডিজিটাল রূপান্তর এবং টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে প্রযুক্তির ভূমিকা নিয়ে মতবিনিময় করেন। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে উপস্থাপিত ডিজিটাল সেবা সম্প্রসারণ এবং জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিতকরণের উদ্যোগ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রশংসিত হয়।





















