মধুপুরে মন্ত্রীর ব্যতিক্রমী আচরণে মুগ্ধ পথচারীরা
জনতার ভিড়ে মিশে গেলেন ফকির মাহবুব আনাম, কুশল বিনিময়ে কুড়ালেন প্রশংসা
- আপডেট সময় : ১০:০৪:০৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৩১ বার পড়া হয়েছে

মন্ত্রী হিসেবে রাষ্ট্রীয় দায়িত্বের ব্যস্ততা, নিরাপত্তার আনুষ্ঠানিকতা কিংবা রাজনৈতিক কর্মসূচির কঠোর সময়সূচি—সবকিছুকে কিছুক্ষণের জন্য পাশে রেখে মধুপুর বাসস্ট্যান্ডে সাধারণ মানুষের ভিড়ে মিশে গেলেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম স্বপন এমপি। বুধবার বিকেলে মধুপুরে পৌঁছেই তাঁর এমন স্বতঃস্ফূর্ত আচরণ নজর কেড়েছে স্থানীয়দের।
তিন দিনের রাজনৈতিক সফরে মধুপুরে এসে বাসস্ট্যান্ডের আনারস চত্বরে গাড়ি থেকে নামেন মন্ত্রী। এরপর কোনো আনুষ্ঠানিকতা ছাড়াই তিনি একা একা হেঁটে চলে যান আশপাশের বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও দোকানের সামনে। সেখানে থাকা ব্যবসায়ী, ক্রেতা, পথচারী ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন। কারও সঙ্গে হাত মেলান, কাউকে জড়িয়ে ধরেন, আবার কারও কাছে দাঁড়িয়ে খোঁজ নেন পরিবারের সদস্যদের। বাসস্ট্যান্ডে ঘুরে বেড়ানো শারীরিক ও বুদ্ধি প্রতিবন্ধী ‘বাদশা পাগল’র আপন মনে জড়িয়ে ধরার মুহূর্তে মন্ত্রীর ইতিবাচক সাড়াকে অনেক বেশিই সৌন্দর্য দিয়েছে। বেঞ্চে বসে চা পান করার মুহূর্তটাও পুলকিত করেছে অনেককে।
প্রায় আধা ঘণ্টা ধরে বাসস্ট্যান্ড এলাকায় তাঁর এই স্বতঃস্ফূর্ত চলাফেরা অনেকের কাছেই ছিল অপ্রত্যাশিত। মন্ত্রীকে এভাবে কাছে পেয়ে কেউ বিস্মিত হয়েছেন, কেউ আনন্দিত হয়ে কথা বলেছেন। বয়স্ক কয়েকজনকে তাঁর জন্য কল্যাণকর প্রত্যাশা ব্যক্ত করতেও দেখা যায়। পথচারীদের অনেকে তাঁর আচরণের প্রশংসা করেন।
স্থানীয়দের চোখে দৃশ্যটি ছিল কিছুটা ব্যতিক্রমী। সাধারণত রাজনৈতিক নেতা বা মন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে হলে নির্দিষ্ট স্থান, সময় ও আনুষ্ঠানিকতার প্রয়োজন হয়। কিন্তু মধুপুরে স্বপন যেন সেই দূরত্বটুকু সরিয়ে দিয়ে সরাসরি মানুষের কাছে পৌঁছে যান। ব্যস্ত সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা দোকানি থেকে শুরু করে পথচারী—সবার সঙ্গে সহজ-স্বাভাবিক ভঙ্গিতে কথা বলার দৃশ্যটি মুহূর্তেই অনেকের দৃষ্টি আকর্ষণ করে।
একজন মন্ত্রী যখন নিজের রাজনৈতিক কর্মসূচির বাইরে এভাবে সাধারণ মানুষের মধ্যে হেঁটে বেড়ান, তখন সেটি শুধু একটি দৃশ্য থাকে না; মানুষের সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের একটি আলাদা ছবি হয়ে ওঠে। বুধবার মধুপুর বাসস্ট্যান্ডে তেমনই একটি দৃশ্যের দেখা মিলেছে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান।
পরে মন্ত্রী দলীয় কার্যালয়ে অপেক্ষমাণ নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগ দেন। সেখানে সারাদেশে পরিকল্পিত সন্ত্রাস, অগ্নিসংযোগ ও নৈরাজ্য সৃষ্টির অপচেষ্টার প্রতিবাদে আয়োজিত বিক্ষোভ মিছিলে নেতৃত্ব দেন। মিছিল শেষে সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন তিনি।
মধুপুরে তাঁর এ সফর আগামী রোববার পর্যন্ত চলার কথা। এ সময় কবি সমাবেশ, শিক্ষক সমিতির অভিষেক অনুষ্ঠান, ইউপি মেম্বার সমিতির অনুষ্ঠানসহ বিভিন্ন কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে তাঁর বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে।
তবে রাজনৈতিক কর্মসূচির ব্যস্ততার শুরুতেই মধুপুর বাসস্ট্যান্ডে সাধারণ মানুষের সঙ্গে তাঁর স্বতঃস্ফূর্ত মেলামেশার দৃশ্যটি স্থানীয়দের মনে আলাদা ছাপ ফেলেছে। রাজনীতির মঞ্চের বক্তৃতা কিংবা আনুষ্ঠানিকতার বাইরে একজন মন্ত্রীকে যখন সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে হাসিমুখে কুশল বিনিময় করতে দেখা যায়, তখন সেই মুহূর্তটিই হয়ে ওঠে দিনের সবচেয়ে আলোচিত দৃশ্য। বুধবার মধুপুরে স্বপনকে ঘিরে মানুষের আগ্রহ ও প্রশংসার মধ্য দিয়ে সেই চিত্রই ফুটে উঠেছে।





















