ঢাকা ১২:৩৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৬ এপ্রিল ২০২৫, ২২ চৈত্র ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

ঘটনার সাড়ে ৫ মাস পর

মধুপুরে ক্লুলেস বৃদ্ধ মহিলা হত্যাকান্ডের রহস্য উদঘাটন

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট শালবনবার্তা২৪.কম
  • আপডেট সময় : ০৭:৩৬:১৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১২ মার্চ ২০২৫ ৪৫০ বার পড়া হয়েছে

ঘটনার সাড়ে ৫ মাস পর টাঙ্গাইলের মধুপুরের ক্লুলেস বৃদ্ধ মহিলা হত্যাকান্ডের রহস্য উম্মোচন করেছে থানা পুলিশ। হত্যাকান্ডে জড়িত আটক চারজনকে আদালতে হাজির করলে দুইজন স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দী দিয়েছে। দুইজনকে অধিক জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজনে পুলিশ দুইদিনের রিমান্ডে এনেছে। আজ বৃহস্পতিবার ওই দুইজনকে রিমান্ড শেষে আদালতে হাজির করবে পুলিশ। তারাও দায় স্বীকার করবে বলে আশা পুলিশের।

বুধবার বিকেলে মধুপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এমরানুল কবিরের কার্যালয়ে এক প্রেসব্রিফিংকালে এমন তথ্য উপস্থাপন করেন মধুপুর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার আরিফুল ইসলাম।

তিনি জানান, গেল বছরেে ২৭ অক্টোবর উপজেলার মহিষমারা ইউনিয়নের শালিকা গ্রামের ফুলবানু বেগম (৬০) নামের বৃদ্ধ নারী আনারস বাগানে গরুর ঘাস কাটতে গিয়ে খুন হন। একদিন পর ২৮ অক্টোবর তার বড় ছেলে বাহার আলী বাদী হয়ে মধুপুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্ত শুরু করেন আলোকদিয়া পুলিশ ফাঁড়ির কর্মকর্তা আবু নাঈম মো. জিহাদ উদ্দিন। তার বদলির পর ১ ডিসেম্বর দায়িত্ব নিয়ে তদন্ত শুরু করেন একই পদে পদায়িত পুলিশ কর্মকর্তা দুলাল।

সহকারী পুলিশ সুপার মো. আরিফুল ইসলাম আরও জানান, নিবিড় অনুসন্ধান করতে হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত সন্দেহে প্রথমে শালিকা পূর্বপাড়া গ্রামের মৃত শামসুল হকের ছেলে আসাদ মিয়া (২৮)কে গত ১০মার্চ শালিকা বাজার হতে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃত আসামী আসাদকে জিজ্ঞাসাবাদে প্রাপ্ত তথ্যে ঘটনার সাথে সরাসরি জড়িত আসামী একই এলাকার মৃত নয়ন মিয়ার ছেলে ফারুক হোসেন ফালু (৪৫), শালিকা দক্ষিণ পাড়ার মৃত মকবুল হোসেনের ছেলে মো. রমজান আলী ভোলা (৫৭) ও মহিষমারা বেচুরাঘুনি গ্রামের আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে সুজন মিয়া (২৭) কে এক এক করে আটক করা হয়। গ্রেপ্তার করে আদালতে প্রেরণ করা হয় তাদের। আসাদ মিয়া ও রমজান আলী ওরফে ভোলা বিজ্ঞ আদালতে স্বেচ্ছায় ফৌঃ কাঃ আইনের ১৬৪ ধারা মোতাবেক দোষ স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দি দেয়। অপর ২জনকে অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ড চাইলে আদালত ২ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন।

স্বীকারোক্তিতে তারা জানান, নিহত ফুলবানুর প্রবাসী ছোট ছেলের বউকে আসামী ফারুক হোসেন (ফালু) নিয়তমিত উত্ত্যক্ত করত। নিহত ফুলবানু বিষয়টি নিয়ে আসামী ফালুকে সর্তক করাসহ স্থানীয় প্রতিবেশিকে জানালে ক্ষিপ্ত হয়ে অন্যান্য আসামীদের সহযোগিতায় ফুলবানুকে পরিকল্পনা অনুযায়ী হত্যা করে। পরে নিহত এর কানে থাকা স্বর্ণের দুল ও নাকফুল নিয়ে পালিয়ে যায়। উক্ত হত্যাকান্ডটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি করে। এ নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ হয়।

এদিকে এলাকায খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সুজন মিয়া বিগত ২০০৯ সালের দিকে মহিষমারা গ্রামের আব্দুল করিমের শিশু কন্যা কাকলি কে হত্যা করে তার গায়ে থাকা স্বর্ণালংকার হাতিয়ে নিয়ে কাকলির লাশ মহিষমারা লোম্বাপোড়া বাইদে ফেলে রাখে। এ মামলায় আটক হলেও সুজনের বয়স কম দেখিয়ে কিশোর সংশোধনাগারে পাঠিয়ে দেয়া হয়। চোরায় না শুনে ধর্মের কাহিনী। সেখান থেকে ছাড়া পেয়ে সুজন আবারো নানা অপকর্মে লিপ্ত হয়। নেশার মামলায় জেল খাটে।

মামলার তদন্তকারী পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র) মো. দুলাল মিয়া জানান, আসামীরা পেশাদার।এর আগেও এসব আসামীদের কেউ কেউ হত্যা মামলা ও মাদক মামলায় জেল খেটেছে।

 

শালবনবার্তা২৪.কম/এআর

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ঘটনার সাড়ে ৫ মাস পর

মধুপুরে ক্লুলেস বৃদ্ধ মহিলা হত্যাকান্ডের রহস্য উদঘাটন

আপডেট সময় : ০৭:৩৬:১৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১২ মার্চ ২০২৫

ঘটনার সাড়ে ৫ মাস পর টাঙ্গাইলের মধুপুরের ক্লুলেস বৃদ্ধ মহিলা হত্যাকান্ডের রহস্য উম্মোচন করেছে থানা পুলিশ। হত্যাকান্ডে জড়িত আটক চারজনকে আদালতে হাজির করলে দুইজন স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দী দিয়েছে। দুইজনকে অধিক জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজনে পুলিশ দুইদিনের রিমান্ডে এনেছে। আজ বৃহস্পতিবার ওই দুইজনকে রিমান্ড শেষে আদালতে হাজির করবে পুলিশ। তারাও দায় স্বীকার করবে বলে আশা পুলিশের।

বুধবার বিকেলে মধুপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এমরানুল কবিরের কার্যালয়ে এক প্রেসব্রিফিংকালে এমন তথ্য উপস্থাপন করেন মধুপুর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার আরিফুল ইসলাম।

তিনি জানান, গেল বছরেে ২৭ অক্টোবর উপজেলার মহিষমারা ইউনিয়নের শালিকা গ্রামের ফুলবানু বেগম (৬০) নামের বৃদ্ধ নারী আনারস বাগানে গরুর ঘাস কাটতে গিয়ে খুন হন। একদিন পর ২৮ অক্টোবর তার বড় ছেলে বাহার আলী বাদী হয়ে মধুপুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্ত শুরু করেন আলোকদিয়া পুলিশ ফাঁড়ির কর্মকর্তা আবু নাঈম মো. জিহাদ উদ্দিন। তার বদলির পর ১ ডিসেম্বর দায়িত্ব নিয়ে তদন্ত শুরু করেন একই পদে পদায়িত পুলিশ কর্মকর্তা দুলাল।

সহকারী পুলিশ সুপার মো. আরিফুল ইসলাম আরও জানান, নিবিড় অনুসন্ধান করতে হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত সন্দেহে প্রথমে শালিকা পূর্বপাড়া গ্রামের মৃত শামসুল হকের ছেলে আসাদ মিয়া (২৮)কে গত ১০মার্চ শালিকা বাজার হতে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃত আসামী আসাদকে জিজ্ঞাসাবাদে প্রাপ্ত তথ্যে ঘটনার সাথে সরাসরি জড়িত আসামী একই এলাকার মৃত নয়ন মিয়ার ছেলে ফারুক হোসেন ফালু (৪৫), শালিকা দক্ষিণ পাড়ার মৃত মকবুল হোসেনের ছেলে মো. রমজান আলী ভোলা (৫৭) ও মহিষমারা বেচুরাঘুনি গ্রামের আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে সুজন মিয়া (২৭) কে এক এক করে আটক করা হয়। গ্রেপ্তার করে আদালতে প্রেরণ করা হয় তাদের। আসাদ মিয়া ও রমজান আলী ওরফে ভোলা বিজ্ঞ আদালতে স্বেচ্ছায় ফৌঃ কাঃ আইনের ১৬৪ ধারা মোতাবেক দোষ স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দি দেয়। অপর ২জনকে অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ড চাইলে আদালত ২ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন।

স্বীকারোক্তিতে তারা জানান, নিহত ফুলবানুর প্রবাসী ছোট ছেলের বউকে আসামী ফারুক হোসেন (ফালু) নিয়তমিত উত্ত্যক্ত করত। নিহত ফুলবানু বিষয়টি নিয়ে আসামী ফালুকে সর্তক করাসহ স্থানীয় প্রতিবেশিকে জানালে ক্ষিপ্ত হয়ে অন্যান্য আসামীদের সহযোগিতায় ফুলবানুকে পরিকল্পনা অনুযায়ী হত্যা করে। পরে নিহত এর কানে থাকা স্বর্ণের দুল ও নাকফুল নিয়ে পালিয়ে যায়। উক্ত হত্যাকান্ডটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি করে। এ নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ হয়।

এদিকে এলাকায খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সুজন মিয়া বিগত ২০০৯ সালের দিকে মহিষমারা গ্রামের আব্দুল করিমের শিশু কন্যা কাকলি কে হত্যা করে তার গায়ে থাকা স্বর্ণালংকার হাতিয়ে নিয়ে কাকলির লাশ মহিষমারা লোম্বাপোড়া বাইদে ফেলে রাখে। এ মামলায় আটক হলেও সুজনের বয়স কম দেখিয়ে কিশোর সংশোধনাগারে পাঠিয়ে দেয়া হয়। চোরায় না শুনে ধর্মের কাহিনী। সেখান থেকে ছাড়া পেয়ে সুজন আবারো নানা অপকর্মে লিপ্ত হয়। নেশার মামলায় জেল খাটে।

মামলার তদন্তকারী পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র) মো. দুলাল মিয়া জানান, আসামীরা পেশাদার।এর আগেও এসব আসামীদের কেউ কেউ হত্যা মামলা ও মাদক মামলায় জেল খেটেছে।

 

শালবনবার্তা২৪.কম/এআর