ঢাকা ০৭:০৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারি ২০২৬, ৭ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ম্যাজিস্ট্রেট ইস্যুর পর সরাইল ইউএনওকে নিয়ে রুমিনের অভিযোগ

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট শালবনবার্তা২৪.কম
  • আপডেট সময় : ০৫:১২:৫৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারি ২০২৬ ২ বার পড়া হয়েছে

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানার বিরুদ্ধে নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ ওঠার পর এবার তিনি প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে পাল্টা অভিযোগ তুলেছেন। সরাইল উপজেলার ইউএনওর দাপ্তরিক চিঠি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এবং তা নিয়ে সংবাদ প্রকাশকে কেন্দ্র করে নির্বাচন পরিচালনার নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।

রোববার (১৮ জানুয়ারি) রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় রুমিন ফারহানা বলেন, সরাইল উপজেলার ইউএনওর একটি দাপ্তরিক চিঠি অস্বাভাবিক দ্রুততার সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে এবং একই দিনে বিভিন্ন অনলাইন সংবাদমাধ্যমে তা প্রকাশিত হয়েছে। একটি সরকারি চিঠির গোপনীয়তা ২৪ ঘণ্টাও রক্ষা করা না গেলে, নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করা সম্ভব কি না—সে প্রশ্ন তোলেন তিনি।

ভিডিওতে রুমিন ফারহানা ইউএনওর চিঠির ভাষ্য তুলে ধরে বলেন, সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ১৭ জানুয়ারি সরাইল উপজেলার নোয়াগাঁও ইউনিয়নের ইসলামাবাদ এলাকায় তিনি একটি বড় প্যান্ডেলে জনসমাবেশ করে নির্বাচনি প্রচারণা চালান, যা নির্বাচনি আচরণবিধি ২০২৫-এর ১৮ ধারা লঙ্ঘন। ওই সমাবেশ তাৎক্ষণিকভাবে ভেঙে দেওয়া হয় এবং সংশ্লিষ্ট এক ব্যক্তিকে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

চিঠিতে আরও উল্লেখ রয়েছে, ওই সময় রুমিন ফারহানা নাকি দায়িত্বপ্রাপ্ত এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটের প্রতি আক্রমণাত্মক আচরণ করেন এবং হুমকি দেন। এ সংক্রান্ত অভিযোগ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও গণমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় জনমনে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে বলেও চিঠিতে বলা হয়।

এ বিষয়ে রুমিন ফারহানা বলেন, যে রিটার্নিং কর্মকর্তা নিজের সই করা চিঠির গোপনীয়তা বজায় রাখতে পারেন না, তার হাতে পাঁচ লাখ ভোটারের ভোট নিরাপদ থাকবে—এ বিষয়ে তাঁর আস্থা নেই। নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্ব তিনি নিরপেক্ষভাবে পালন করতে পারবেন কি না, সেটিও প্রশ্নবিদ্ধ বলে মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি আরও জানান, গত ১৩ জানুয়ারি তিনি জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে একাধিক আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ জমা দিয়েছেন। তবে এখন পর্যন্ত সে বিষয়ে কোনো অগ্রগতি বা সরকারি পদক্ষেপের খবর তিনি পাননি। তাঁর অভিযোগ, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী প্রতিদিন মাইকিং, স্টেজ ও সাউন্ড সিস্টেম ব্যবহার করে প্রকাশ্যে প্রচারণা চালালেও তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।

রুমিন ফারহানার ভাষ্য অনুযায়ী, বড় দলের প্রার্থীরা নিয়ম ভাঙলেও প্রশাসন নীরব ভূমিকা পালন করছে, অথচ স্বতন্ত্র প্রার্থীদের ক্ষেত্রেই দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তিনি দাবি করেন, ম্যাজিস্ট্রেটকে ‘বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখানো’ সংক্রান্ত যে অভিযোগ তোলা হয়েছে, সেটি তিনি অন্য একটি ঘটনার উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন, নিজের আচরণ হিসেবে নয়।

নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘন ও প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়ে পাল্টাপাল্টি অভিযোগের মধ্য দিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের নির্বাচনী পরিবেশ আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগের প্রেক্ষাপটে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন বাড়লেও বিষয়টি এখনো তদন্তাধীন রয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!

ম্যাজিস্ট্রেট ইস্যুর পর সরাইল ইউএনওকে নিয়ে রুমিনের অভিযোগ

আপডেট সময় : ০৫:১২:৫৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারি ২০২৬

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানার বিরুদ্ধে নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ ওঠার পর এবার তিনি প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে পাল্টা অভিযোগ তুলেছেন। সরাইল উপজেলার ইউএনওর দাপ্তরিক চিঠি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এবং তা নিয়ে সংবাদ প্রকাশকে কেন্দ্র করে নির্বাচন পরিচালনার নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।

রোববার (১৮ জানুয়ারি) রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় রুমিন ফারহানা বলেন, সরাইল উপজেলার ইউএনওর একটি দাপ্তরিক চিঠি অস্বাভাবিক দ্রুততার সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে এবং একই দিনে বিভিন্ন অনলাইন সংবাদমাধ্যমে তা প্রকাশিত হয়েছে। একটি সরকারি চিঠির গোপনীয়তা ২৪ ঘণ্টাও রক্ষা করা না গেলে, নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করা সম্ভব কি না—সে প্রশ্ন তোলেন তিনি।

ভিডিওতে রুমিন ফারহানা ইউএনওর চিঠির ভাষ্য তুলে ধরে বলেন, সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ১৭ জানুয়ারি সরাইল উপজেলার নোয়াগাঁও ইউনিয়নের ইসলামাবাদ এলাকায় তিনি একটি বড় প্যান্ডেলে জনসমাবেশ করে নির্বাচনি প্রচারণা চালান, যা নির্বাচনি আচরণবিধি ২০২৫-এর ১৮ ধারা লঙ্ঘন। ওই সমাবেশ তাৎক্ষণিকভাবে ভেঙে দেওয়া হয় এবং সংশ্লিষ্ট এক ব্যক্তিকে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

চিঠিতে আরও উল্লেখ রয়েছে, ওই সময় রুমিন ফারহানা নাকি দায়িত্বপ্রাপ্ত এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটের প্রতি আক্রমণাত্মক আচরণ করেন এবং হুমকি দেন। এ সংক্রান্ত অভিযোগ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও গণমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় জনমনে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে বলেও চিঠিতে বলা হয়।

এ বিষয়ে রুমিন ফারহানা বলেন, যে রিটার্নিং কর্মকর্তা নিজের সই করা চিঠির গোপনীয়তা বজায় রাখতে পারেন না, তার হাতে পাঁচ লাখ ভোটারের ভোট নিরাপদ থাকবে—এ বিষয়ে তাঁর আস্থা নেই। নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্ব তিনি নিরপেক্ষভাবে পালন করতে পারবেন কি না, সেটিও প্রশ্নবিদ্ধ বলে মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি আরও জানান, গত ১৩ জানুয়ারি তিনি জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে একাধিক আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ জমা দিয়েছেন। তবে এখন পর্যন্ত সে বিষয়ে কোনো অগ্রগতি বা সরকারি পদক্ষেপের খবর তিনি পাননি। তাঁর অভিযোগ, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী প্রতিদিন মাইকিং, স্টেজ ও সাউন্ড সিস্টেম ব্যবহার করে প্রকাশ্যে প্রচারণা চালালেও তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।

রুমিন ফারহানার ভাষ্য অনুযায়ী, বড় দলের প্রার্থীরা নিয়ম ভাঙলেও প্রশাসন নীরব ভূমিকা পালন করছে, অথচ স্বতন্ত্র প্রার্থীদের ক্ষেত্রেই দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তিনি দাবি করেন, ম্যাজিস্ট্রেটকে ‘বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখানো’ সংক্রান্ত যে অভিযোগ তোলা হয়েছে, সেটি তিনি অন্য একটি ঘটনার উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন, নিজের আচরণ হিসেবে নয়।

নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘন ও প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়ে পাল্টাপাল্টি অভিযোগের মধ্য দিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের নির্বাচনী পরিবেশ আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগের প্রেক্ষাপটে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন বাড়লেও বিষয়টি এখনো তদন্তাধীন রয়েছে।