ঢাকা ০৯:৫৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬, ৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মধুপুরের মাদরাসায় বলাৎকারের অভিযোগ

জনতার হাতে আটক মাদরাসা শিক্ষক পুলিশে সোপর্দ

মধুপুর করেসপন্ডন্ট, শালবনবার্তাটোয়েন্টিফোর.কম
  • আপডেট সময় : ০৮:২৮:৫২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬ ২২ বার পড়া হয়েছে

টাঙ্গাইলের মধুপুরে মাদরাসা শিক্ষার্থীকে বলাৎকারের অভিযোগে মাওলানা সোহেল নামের এক হুজুরকে আটক করেছে পুলিশ। হাতেনাতে শিক্ষার্থীদের হাতে আটক অভিযুক্তকে জনরোষ থেকে রক্ষা করে পুলিশ তাদের হেফাজতে নেয়। হুজুরের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।

ঘটনাটি মঙ্গলবার (১৬ জুন) রাত আনুমানিক ১০টার দিকে উপজেলার আলোকদিয়া ইউনিয়নের মহিষবাথান ঘাট এলাকার দারুল উলুম নুরানী ও হাফিজিয়া মাদরাসায়। অভিযুক্ত সোহেল হুজুর উপজেলার বেতবাড়ি গ্রামের মৃত আব্দুল হকের ছেলে। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী (১০) মহিষবাথান এলাকারই বাসিন্দা।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মাদরাসার শিক্ষক হুজুর মো. সোহেল (৩০) একই প্রতিষ্ঠানের ১০ বছর বয়সী এক শিক্ষার্থীর সঙ্গে অনৈতিক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হওয়ার সময় অন্যান্য শিক্ষার্থীরা তাকে হাতেনাতে ধরে ফেলে। পরে বিষয়টি স্থানীয়দের জানানো হলে তারা ঘটনাস্থলে এসে অভিযুক্ত শিক্ষককে আটক করে পুলিশে খবর দেন। মধুপুর থানার ওসি (তদন্ত) আনোয়ার হোসেনের নেতৃত্বে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে জনগণের হাত থেকে মুক্ত করে সোহেলকে নিজেদের জিম্মায় নেয়। সংশ্লিষ্টদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে অভিযুক্তকে থানায় নিয়ে যায়।
শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করে, সোহেল এর আগেও একাধিক শিক্ষার্থীর সঙ্গে একই ধরনের অনৈতিক আচরণ করেছেন। দীর্ঘদিন ধরে এসব ঘটনায় অতিষ্ঠ হয়ে শিক্ষার্থীরা স্থানীয়দের সহযোগিতায় তাকে হাতেনাতে ধরার চেষ্টা চালিয়ে আসছিল।
স্থানীয় এক অভিভাবক বলেন, “আমরা সন্তানদের ধর্মীয় শিক্ষা ও নিরাপত্তার জন্য মাদরাসায় পাঠাই। সেখানে যদি এমন ঘটনা ঘটে, তাহলে অভিভাবকদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি হওয়াই স্বাভাবিক। আমরা দোষীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।”
ভুক্তভোগী শিশুর বাবা বাদী হয়ে মধুপুর থানায় সংশ্লিষ্ট ধারায় একটি মামলা দায়ের করেছেন।
মধুপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ কে এম ফজলুল হক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, “খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযুক্তকে জনরোষ থেকে মুক্ত করে পুলিশ হেফাজতে নেয়া হয় । আইনগত প্রক্রিয়া শেষে তাকে আদালতে পাঠানো হহয়েছে বলেও জানান তিনি।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

মধুপুরের মাদরাসায় বলাৎকারের অভিযোগ

জনতার হাতে আটক মাদরাসা শিক্ষক পুলিশে সোপর্দ

আপডেট সময় : ০৮:২৮:৫২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬

টাঙ্গাইলের মধুপুরে মাদরাসা শিক্ষার্থীকে বলাৎকারের অভিযোগে মাওলানা সোহেল নামের এক হুজুরকে আটক করেছে পুলিশ। হাতেনাতে শিক্ষার্থীদের হাতে আটক অভিযুক্তকে জনরোষ থেকে রক্ষা করে পুলিশ তাদের হেফাজতে নেয়। হুজুরের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।

ঘটনাটি মঙ্গলবার (১৬ জুন) রাত আনুমানিক ১০টার দিকে উপজেলার আলোকদিয়া ইউনিয়নের মহিষবাথান ঘাট এলাকার দারুল উলুম নুরানী ও হাফিজিয়া মাদরাসায়। অভিযুক্ত সোহেল হুজুর উপজেলার বেতবাড়ি গ্রামের মৃত আব্দুল হকের ছেলে। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী (১০) মহিষবাথান এলাকারই বাসিন্দা।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মাদরাসার শিক্ষক হুজুর মো. সোহেল (৩০) একই প্রতিষ্ঠানের ১০ বছর বয়সী এক শিক্ষার্থীর সঙ্গে অনৈতিক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হওয়ার সময় অন্যান্য শিক্ষার্থীরা তাকে হাতেনাতে ধরে ফেলে। পরে বিষয়টি স্থানীয়দের জানানো হলে তারা ঘটনাস্থলে এসে অভিযুক্ত শিক্ষককে আটক করে পুলিশে খবর দেন। মধুপুর থানার ওসি (তদন্ত) আনোয়ার হোসেনের নেতৃত্বে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে জনগণের হাত থেকে মুক্ত করে সোহেলকে নিজেদের জিম্মায় নেয়। সংশ্লিষ্টদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে অভিযুক্তকে থানায় নিয়ে যায়।
শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করে, সোহেল এর আগেও একাধিক শিক্ষার্থীর সঙ্গে একই ধরনের অনৈতিক আচরণ করেছেন। দীর্ঘদিন ধরে এসব ঘটনায় অতিষ্ঠ হয়ে শিক্ষার্থীরা স্থানীয়দের সহযোগিতায় তাকে হাতেনাতে ধরার চেষ্টা চালিয়ে আসছিল।
স্থানীয় এক অভিভাবক বলেন, “আমরা সন্তানদের ধর্মীয় শিক্ষা ও নিরাপত্তার জন্য মাদরাসায় পাঠাই। সেখানে যদি এমন ঘটনা ঘটে, তাহলে অভিভাবকদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি হওয়াই স্বাভাবিক। আমরা দোষীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।”
ভুক্তভোগী শিশুর বাবা বাদী হয়ে মধুপুর থানায় সংশ্লিষ্ট ধারায় একটি মামলা দায়ের করেছেন।
মধুপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ কে এম ফজলুল হক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, “খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযুক্তকে জনরোষ থেকে মুক্ত করে পুলিশ হেফাজতে নেয়া হয় । আইনগত প্রক্রিয়া শেষে তাকে আদালতে পাঠানো হহয়েছে বলেও জানান তিনি।