বৃষ্টি হলেই হাঁটু সমান কাদা, চরম ভোগান্তিতে এলাকাবাসী
- আপডেট সময় : ০৫:৩৯:৪১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬ ২৪ বার পড়া হয়েছে

টাঙ্গাইলের ধনবাড়ী উপজেলার যদুনাথপুর ইউনিয়নের মমিনপুর গ্রামের আমতলা গোদুর মোড় হতে মরহুম তসলিম উদ্দিন আকন্দের বাড়ি হয়ে বাড়ইপাড়া, যদুনাথপুর ইউনিয়ন পরিষদ ও ধনবাড়ী যাতায়াতের একমাত্র রাস্তা। প্রায় ১.২৫ কি. মি. এ রাস্তার পুরোটাই কাঁচা। সামান্য বৃষ্টি হলেই চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। বৃষ্টি হলেই হাঁটু সমান কাদা-পানির সৃষ্টি হয়। বৃষ্টির পানি ও মাটি মিশে কাদায় একাকার হয়ে যায় । এতে বিপাকে পড়েন ওই এলাকার শত শত মানুষ। দীর্ঘদিন ধরে কাঁচা এ রাস্তাটিতে ইটের ছোঁয়া না লাগায় চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন এলাকাবাসী।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, উপজেলার মমিনপুর গ্রামের “আমতলা গোদুর মোড় হতে প্রায় ১.২৫ কিলোমিটার রাস্তা ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। বিকল্প কোনো পথের ব্যবস্থা না থাকায় হাঁটু সমান কাদা মাড়িয়েই চলাচল করতে হয় স্কুল-কলেজের ছাত্রছাত্রী, বৃদ্ধসহ অন্য সবার।
সারা বছরের প্রায় অর্ধ সময় ভোগান্তির শিকার হতে হয় গ্রামবাসীর। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে এ রাস্তা দিয়ে চলতে গিয়ে সীমাহীন কষ্ট পোহাতে হয় তাদের। এই এলাকার মানুষের আতংক ও ভয়ের আরেক নাম বৃষ্টি। বৃষ্টি হলেই রাস্তায় জমে হাঁটু সমান কাদা।
কাদার জন্য গ্রামের এ রাস্তায় যান চলাচল দায়। মোটরসাইকেল, সাইকেলে তো দূরে থাক, খালি পায়ে হেঁটে চলাচল করাও দায়। বৃষ্টির দিনে গ্রামের কেউ অসুস্থ হলে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার জন্য কোনো যানবাহন ও অ্যাম্বুলেন্সও এখানে ঢুকতে পারে না। অনেক সময় কেউ মারাত্মক অসুস্থ হয়ে পড়লে কাঁধে করে কর্দমাক্ত রাস্তা পার করা হয়।
স্থানীয় বাসিন্দা মধুপুর শহীদ স্মৃতি উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক নুরনবী সিহাব
বলেন, আমাদের দুঃখ-কষ্ট, দুর্ভোগের কথা কেউ শুনে না। আমাদের ভোগান্তির কথা বলে বোঝানো যাবে না।নিজ চোখে দেখতে হবে। কৃষিপণ্য সময়মতো বিক্রি করতে পারি না। আমাদের ছেলেমেয়েরা কষ্ট করে স্কুল-কলেজে যায়। বিশেষ করে বৃষ্টি-কাদার দিনে জুতা স্যান্ডেল হাতে নিয়ে দুই কিলোমিটার কাদা মাড়িয়ে যাতায়াত করতে হয়। আর কত কাল এ কষ্ট করতে হবে কে জানে।
ওই গ্রামের বাসিন্দারা জানান, এলাকায় প্রচুর কৃষি ফসল উৎপাদন হয়। কিন্তু রাস্তার বেহাল দশার কারণে কৃষকরা সময়মতো পণ্য বাজারজাত করতে পারেন না। ফলে ফসলের ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হতে হয়। সামান্য বৃষ্টি হতে না হতেই রাস্তার পরিস্থিতি খারাপ হয়ে যায়। জনপ্রতিনিধিদের কাছে ধর্ণা দিয়েও কোনো ফল হয়নি। তাদের কাছে অনুরোধ আমাদের এই রাস্তার দিকে একটু নজর দেওয়ার জন্য।
মমিনপুর গ্রামের প্রবীণ শতাধিক বর্ষী বৃদ্ধ মো. সামছুল হক আকন্দ গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের, ডাক,টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়,
এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী স্থানীয় সংসদ সদস্য ফকির মাহবুব আনাম স্বপনের নিকট সাংবাদিকদের মাধ্যমে আকুল আবেদন জানিয়েছেন। তিনি বলেন, “মৃত্যুর আগে যেন পাকা রাস্তায় হেঁটে মৃত্যুবরণ করতে পারি।” এটা তার শেষ ইচ্ছা বলে জানান।
যদুনাথপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মো.শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘সামান্য বৃষ্টিতেই রাস্তাটি মানুষের চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়ে। এই রাস্তাটি সংস্কার করা খুবই প্রয়োজন এটি সংস্কারের জন্য শিগগির ইউপি প্রশাসকের সাথে কথা বলব।’
মমিনপুর আইডিয়াল স্কুলের প্রধান শিক্ষক নাসির উদ্দিন আকন্দ বলেন, ‘এই রাস্তার কারণে বৃষ্টির দিনে স্কুলের শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি কমে যায়। তাদের যাতায়াতে ভোগান্তি দূর করা উচিত।
জানতে চাইলে যদুনাথপুর ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক, মো. রাসেল পারভেজ তমাল বলেন, এই ইউনিয়নে তো অনেক কাঁচা রাস্তা তবে যে রাস্তাটি পাকা করার জন্য এলাকাবাসী দাবি জানিয়ে আসছে। এ জন্য প্রকল্প প্রস্তাব ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে আমি পাঠাতে হবে । শিগগিরই প্রস্তাব পাঠানো হবে বলে জানান তিনি।


















