ঢাকা ১০:১৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬, ১০ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মধুপুরের মাদরাসায় ফের নির্যাতনের অভিযোগ

জনতার হাতে আটক শিক্ষক পুলিশে সোপর্দ; উদ্বেগ

মধুপুর করেসপন্ডেন্ট শালবনবার্তাটোয়েন্টিফোরডটকম
  • আপডেট সময় : ০৮:৫০:১৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬ ২২ বার পড়া হয়েছে

টাঙ্গাইলের মধুপুরে ফের মাদরাসা শিক্ষকের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের হাতে আটক হওয়ার পর অভিযুক্ত শিক্ষককে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়েছে। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর বাবার লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা গ্রহণ করেছে পুলিশ।

অভিযুক্ত গোলাবাড়ী ইউনিয়নের লোকদেও গ্রামের আবু তালেবের ছেলে মাওলানা হাবিবুর রহমান হাবিব মধুপুর পৌর শহরের মালাউড়ীস্থ সৈয়দা জাহানারা মাদানি নেসাব কওমী মাদরাসার শিক্ষক।

মঙ্গলবার (২৩ জুন) সন্ধ্যার পর মাদরাসার এক শিক্ষার্থীকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগে স্থানীয় জনতা তাকে আটক করে। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে জনরোষ থেকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। থানা কাছে হওয়ায় গভীর রাত পর্যন্ত থানা ও মাদরাসা ক্যাম্পাস এ নিয়ে বেশ

মধুপুর থানার ওসি (তদন্ত) আনোয়ার হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ভুক্তভোগী শিশুর বাবার দায়ের করা মামলার ভিত্তিতে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষে অভিযুক্তকে আদালতে পাঠানো হবে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, কয়েকজন শিক্ষার্থী অভিযোগ করেছে যে হাবিবুর রহমান দীর্ঘদিন ধরে তাদের সঙ্গে অনৈতিক আচরণ করে আসছিলেন। এসব অভিযোগে অতিষ্ঠ হয়ে শিক্ষার্থীরা স্থানীয়দের সহযোগিতায় তাকে হাতেনাতে ধরার চেষ্টা চালায়। ঘটনার পর এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

এদিকে, মাত্র এক সপ্তাহ আগে উপজেলার আলোকদিয়া ইউনিয়নের মহিষবাথান এলাকায় অবস্থিত দারুল উলুম নুরানী ও হাফিজিয়া মাদরাসার শিক্ষক সোহেল হুজুরও একই ধরনের অভিযোগে শিক্ষার্থীদের হাতে আটক হন। গত ১৬ জুন রাতে সংঘটিত ওই ঘটনায় পুলিশ তাকে জনরোষ থেকে উদ্ধার করে হেফাজতে নেয়। পরে ভুক্তভোগী শিশুর পরিবারের দায়ের করা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।

এরও প্রায় ১০ দিন আগে, গত ৫ জুন উপজেলার আউশনারা ইউনিয়নের মোটের বাজার কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের মোয়াজ্জিন হাফেজ আবু রাশেদকে একই অভিযোগে আটক করে পুলিশ। তিনি ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলার বইলাজান গ্রামের বাসিন্দা। পরদিন তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।

অল্প সময়ের ব্যবধানে মধুপুরে ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে একই ধরনের একাধিক অভিযোগ ওঠায় অভিভাবক ও সচেতন মহলে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

স্থানীয় এক অভিভাবক বলেন, “এক মাসের মধ্যে একই ধরনের একাধিক ঘটনা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সন্তানদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া উচিত।”

মধুপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ কে এম ফজলুল হক বলেন, “হঠাৎ করে মধুপুরে এ ধরনের ঘটনা বৃদ্ধি পাওয়া উদ্বেগের বিষয়। সংশ্লিষ্ট সবাইকে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করতে হবে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত নজরদারি ও সচেতনতা বাড়ানো প্রয়োজন।”

এক মাসেরও কম সময়ে একই ধরনের তিনটি ঘটনায় মধুপুরজুড়ে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। অভিভাবকরা শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের আরও কার্যকর নজরদারি ও দ্রুত বিচার দাবি করেছেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

মধুপুরের মাদরাসায় ফের নির্যাতনের অভিযোগ

জনতার হাতে আটক শিক্ষক পুলিশে সোপর্দ; উদ্বেগ

আপডেট সময় : ০৮:৫০:১৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬

টাঙ্গাইলের মধুপুরে ফের মাদরাসা শিক্ষকের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের হাতে আটক হওয়ার পর অভিযুক্ত শিক্ষককে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়েছে। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর বাবার লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা গ্রহণ করেছে পুলিশ।

অভিযুক্ত গোলাবাড়ী ইউনিয়নের লোকদেও গ্রামের আবু তালেবের ছেলে মাওলানা হাবিবুর রহমান হাবিব মধুপুর পৌর শহরের মালাউড়ীস্থ সৈয়দা জাহানারা মাদানি নেসাব কওমী মাদরাসার শিক্ষক।

মঙ্গলবার (২৩ জুন) সন্ধ্যার পর মাদরাসার এক শিক্ষার্থীকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগে স্থানীয় জনতা তাকে আটক করে। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে জনরোষ থেকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। থানা কাছে হওয়ায় গভীর রাত পর্যন্ত থানা ও মাদরাসা ক্যাম্পাস এ নিয়ে বেশ

মধুপুর থানার ওসি (তদন্ত) আনোয়ার হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ভুক্তভোগী শিশুর বাবার দায়ের করা মামলার ভিত্তিতে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষে অভিযুক্তকে আদালতে পাঠানো হবে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, কয়েকজন শিক্ষার্থী অভিযোগ করেছে যে হাবিবুর রহমান দীর্ঘদিন ধরে তাদের সঙ্গে অনৈতিক আচরণ করে আসছিলেন। এসব অভিযোগে অতিষ্ঠ হয়ে শিক্ষার্থীরা স্থানীয়দের সহযোগিতায় তাকে হাতেনাতে ধরার চেষ্টা চালায়। ঘটনার পর এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

এদিকে, মাত্র এক সপ্তাহ আগে উপজেলার আলোকদিয়া ইউনিয়নের মহিষবাথান এলাকায় অবস্থিত দারুল উলুম নুরানী ও হাফিজিয়া মাদরাসার শিক্ষক সোহেল হুজুরও একই ধরনের অভিযোগে শিক্ষার্থীদের হাতে আটক হন। গত ১৬ জুন রাতে সংঘটিত ওই ঘটনায় পুলিশ তাকে জনরোষ থেকে উদ্ধার করে হেফাজতে নেয়। পরে ভুক্তভোগী শিশুর পরিবারের দায়ের করা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।

এরও প্রায় ১০ দিন আগে, গত ৫ জুন উপজেলার আউশনারা ইউনিয়নের মোটের বাজার কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের মোয়াজ্জিন হাফেজ আবু রাশেদকে একই অভিযোগে আটক করে পুলিশ। তিনি ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলার বইলাজান গ্রামের বাসিন্দা। পরদিন তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।

অল্প সময়ের ব্যবধানে মধুপুরে ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে একই ধরনের একাধিক অভিযোগ ওঠায় অভিভাবক ও সচেতন মহলে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

স্থানীয় এক অভিভাবক বলেন, “এক মাসের মধ্যে একই ধরনের একাধিক ঘটনা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সন্তানদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া উচিত।”

মধুপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ কে এম ফজলুল হক বলেন, “হঠাৎ করে মধুপুরে এ ধরনের ঘটনা বৃদ্ধি পাওয়া উদ্বেগের বিষয়। সংশ্লিষ্ট সবাইকে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করতে হবে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত নজরদারি ও সচেতনতা বাড়ানো প্রয়োজন।”

এক মাসেরও কম সময়ে একই ধরনের তিনটি ঘটনায় মধুপুরজুড়ে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। অভিভাবকরা শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের আরও কার্যকর নজরদারি ও দ্রুত বিচার দাবি করেছেন।