ঢাকা ১০:১৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬, ৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ধর্ষিতার মাকে অর্থ নিতে করল বাধ্য

দেড় লাখে ধর্ষণকাণ্ড ধামাচাপা দিলো গ্রাম্য মাতব্বররা

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট টাঙ্গাইল, শালবনবার্তা২৪.কম
  • আপডেট সময় : ০৪:১২:১৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৯ মার্চ ২০২৫ ৪৬৮ বার পড়া হয়েছে

টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে দ্বিতীয় শ্রেণির এক মাদ্রাসাছাত্রীকে (১০) ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। তবে গত ২৪ ফেব্রুয়ারি উপজেলার আজগানা ইউনিয়নের একটি গ্রামের গ্রাম্য মাতব্বররা শালিসের মাধ্যমে ধর্ষককে মাত্র দেড় লাখ টাকা জরিমানা করে এ ঘটনা ধামাচাপা দিয়েছেন। এরমধ্যে ধর্ষিতার মাকে ৯২ হাজার টাকা নিতে বাধ্য করেছেন তারা।

পরবর্তীরেত খবর পেয়ে শনিবার (৮ মার্চ) ওই শিশু ও তার মাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য মির্জাপুর থানায় আনা হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।

এলাকাবাসী ও পরিবার সূত্রে জানা গেছে, শিশুটির বাবা প্রবাসী। সম্প্রতি ওই শিশু তার নানির বাড়িতে বেড়াতে যায়। ঘটনার দিন কুড়িপাড়া গ্রামের নওশের মিয়ার ছেলে সিএনজি চালক ফিরোজ মিয়া (৪৫) তাদের জমিতে সার দিচ্ছিলেন। এ সময় পাশেই শিশুটি গাছ থেকে বড়ই পাড়ছিল। ফিরোজ শিশুটিকে ফুসলিয়ে পাশের একটি শৌচাগারে নিয়ে ধর্ষণ করেন। একই সঙ্গে মুঠোফোনে ভিডিও ধারণ করেন। ধর্ষণের কথা কাউকে বললে শিশুটিকে মেরে ফেলার হুমকি দেন এই ধর্ষক।

ওই ঘটনার পরই শিশুটি চুপচাপ হয়ে যায়। পরিবারের সদস্যরা এর কারণ খুঁজতে থাকেন। অনেক চেষ্টার পর শিশুটি তার মাকে ঘটনার বিস্তারিত জানায়। পরে ঘটনাটি প্রতিবেশীদের মধ্যে জানাজানি হয়।

এরপর ধর্ষণকাণ্ড ধামাচাপা দিতে এক সপ্তাহ পর কয়েকজন গ্রাম্য মাতব্বর সালিশের আয়োজন করেন। সেখানে ফিরোজকে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। তাদের চাপে পড়ে শিশুটির মা ‘বিচার’ মানতে বাধ্য হন। জরিমানার টাকার মধ্যে ৯২ হাজার টাকা তাকে দেওয়া হয়েছে বলে শিশুটির মা জানিয়েছেন।

অপরদিকে ঘটনার খবর পেয়ে অভিযুক্ত ফিরোজ মিয়াকে আটক করতে অভিযান শুরু করে মির্জাপুর থানা-পুলিশ। এছাড়া শনিবার ওই শিশু ও তার মাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য মির্জাপুর থানায় নিয়ে আসে পুলিশ।

মির্জাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোশারফ হোসেন জানান, শিশুটিকে ধর্ষণের ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে। অভিযুক্ত ফিরোজকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

শালবনবার্তা২৪.কম/এআর

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ধর্ষিতার মাকে অর্থ নিতে করল বাধ্য

দেড় লাখে ধর্ষণকাণ্ড ধামাচাপা দিলো গ্রাম্য মাতব্বররা

আপডেট সময় : ০৪:১২:১৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৯ মার্চ ২০২৫

টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে দ্বিতীয় শ্রেণির এক মাদ্রাসাছাত্রীকে (১০) ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। তবে গত ২৪ ফেব্রুয়ারি উপজেলার আজগানা ইউনিয়নের একটি গ্রামের গ্রাম্য মাতব্বররা শালিসের মাধ্যমে ধর্ষককে মাত্র দেড় লাখ টাকা জরিমানা করে এ ঘটনা ধামাচাপা দিয়েছেন। এরমধ্যে ধর্ষিতার মাকে ৯২ হাজার টাকা নিতে বাধ্য করেছেন তারা।

পরবর্তীরেত খবর পেয়ে শনিবার (৮ মার্চ) ওই শিশু ও তার মাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য মির্জাপুর থানায় আনা হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।

এলাকাবাসী ও পরিবার সূত্রে জানা গেছে, শিশুটির বাবা প্রবাসী। সম্প্রতি ওই শিশু তার নানির বাড়িতে বেড়াতে যায়। ঘটনার দিন কুড়িপাড়া গ্রামের নওশের মিয়ার ছেলে সিএনজি চালক ফিরোজ মিয়া (৪৫) তাদের জমিতে সার দিচ্ছিলেন। এ সময় পাশেই শিশুটি গাছ থেকে বড়ই পাড়ছিল। ফিরোজ শিশুটিকে ফুসলিয়ে পাশের একটি শৌচাগারে নিয়ে ধর্ষণ করেন। একই সঙ্গে মুঠোফোনে ভিডিও ধারণ করেন। ধর্ষণের কথা কাউকে বললে শিশুটিকে মেরে ফেলার হুমকি দেন এই ধর্ষক।

ওই ঘটনার পরই শিশুটি চুপচাপ হয়ে যায়। পরিবারের সদস্যরা এর কারণ খুঁজতে থাকেন। অনেক চেষ্টার পর শিশুটি তার মাকে ঘটনার বিস্তারিত জানায়। পরে ঘটনাটি প্রতিবেশীদের মধ্যে জানাজানি হয়।

এরপর ধর্ষণকাণ্ড ধামাচাপা দিতে এক সপ্তাহ পর কয়েকজন গ্রাম্য মাতব্বর সালিশের আয়োজন করেন। সেখানে ফিরোজকে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। তাদের চাপে পড়ে শিশুটির মা ‘বিচার’ মানতে বাধ্য হন। জরিমানার টাকার মধ্যে ৯২ হাজার টাকা তাকে দেওয়া হয়েছে বলে শিশুটির মা জানিয়েছেন।

অপরদিকে ঘটনার খবর পেয়ে অভিযুক্ত ফিরোজ মিয়াকে আটক করতে অভিযান শুরু করে মির্জাপুর থানা-পুলিশ। এছাড়া শনিবার ওই শিশু ও তার মাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য মির্জাপুর থানায় নিয়ে আসে পুলিশ।

মির্জাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোশারফ হোসেন জানান, শিশুটিকে ধর্ষণের ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে। অভিযুক্ত ফিরোজকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

শালবনবার্তা২৪.কম/এআর