শতবর্ষ ধরে শিক্ষার আলো ছড়াচ্ছে করটিয়ার সা’দত কলেজ
- আপডেট সময় : ০১:১৫:০৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারি ২০২৬ ২৫ বার পড়া হয়েছে

বছরের শুরুতেই শীতের দাপটে বাহিরে বের হওয়া কঠিন। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে তেমন পড়াশোনার তোড়জোড় নেই। এক প্রকার অলস সময় অতিবাহিত হচ্ছে। এই অলস সময়ে শীতের চোখ রাঙানিকে উপেক্ষা করে বেরিয়ে পড়লাম জেলা সদর টাঙ্গাইলের ঐতিহাসিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উদ্দেশ্য। দীর্ঘ সময় জার্নি করার পর আমরা নামলাম করটিয়া হাট বাইপাসে। সেখান থেকে আমাদের যাত্রা আবার শুরু হলো। পরিশেষে যেখানে এসে পৌছালাম সেখানে শহরের অতিষ্ঠকর শব্দ তেমন লাগাম পায় না, নেই মিলকারখানা কিংবা যানবাহনের বিরক্তিকর হর্ন। প্রকৃতির কাছাকাছি শিক্ষার উপযুক্ত পরিবেশ এখানে বিরাজমান। এখানে পদচারণা ঘটেছিল বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের। তার স্মৃতি রক্ষার্থে এখানে নজরুল কুঠি প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। প্রয়াত নাট্যকার সেলিম আল দীন, কবি মাহমুদ কামাল, জাহাঙ্গীর ফিরোজসহ বহু কৃতী শিক্ষার্থী আজ নিজ নিজ ক্ষেত্রে আলো ছড়াচ্ছে। প্রকৃতির নিবিড়তায় ছায়া সুশীতল পরিবেশ এখানে বিরাজমান। বলছিলাম বঙ্গের আলীগড়খ্যাত বিদ্যাপিঠ সরকারি সা’দত কলেজের কথা।
আলোকিত মানুষ সৃষ্টির নীতিবাক্য নিয়ে টাঙ্গাইলের করটিয়ার জমিদার ওয়াজেদ আলী খান পন্নী ১৯২৬ সালে তাঁর দাদা সা’দত আলী খানের নামে কলেজটি প্রতিষ্ঠা করেন। যা অখণ্ড বাংলায় কোনো মুসলিম জমিদার কতৃক গড়া প্রথম কলেজ। যার দরুন কলেজটি ‘বাংলার আলীগড় নামে’ খ্যাতি লাভ করে। সা’দত কলেজের প্রতিষ্ঠাকালীন অধ্যক্ষ ছিলেন প্রিন্সিপাল ইব্রাহীম খাঁ। তিনি দীর্ঘদিন অত্র কলেজের অধ্যক্ষের পদ অলংকৃত করে রাখে। যার ফলে তিনি সারা দেশে ‘প্রিন্সিপাল ইব্রাহিম খাঁ’ নামে পরিচিত হয়ে উঠেন। তাঁর হাতেই কলেজটি বিকশিত হয়। কলেজটি প্রতিষ্ঠার একযুগের মধ্যে চালু হয় স্নাতক কোর্স। বর্তমানে কলেজটিতে ১৮ টি বিষয়ে স্নাতক কোর্স চালু আছে। এখানে স্বাধীনতার পর ১৯৭৪ সালে স্নাতকোত্তর কোর্স চালু হয়। বর্তমানে ১৬ টি বিষয়ে স্নাতকোত্তর কোর্স চালু আছে। সেই সাথে প্রতিষ্ঠানটিতে বর্তমানে ২০ হাজার শিক্ষার্থী রয়েছে। যাদের পদচারণায় কলেজ প্রাঙ্গণ মুখরিত থাকে। ১৯৭৯ সালে সা’দত কলেজকে জাতীয়করণ করা হয়। কলেজের বর্তমান মূল ভবনটির ভিত্তি স্থাপন করেছিলেন অবিভক্ত বাংলার প্রথম মূখ্যমন্ত্রী শের. এ. বাংলা এ কে ফজলুল হক। ১৯৩৯ সালে স্থাপন করা এই ভবনেই এখনো চলছে কলেজের মূল কার্যক্রম। কলেজটি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত।
৩৭ একর জায়গার সুবিশাল কলেজ ক্যাম্পাসের প্রায় সবটাই প্রকৃতির অপার গালিচায় মোড়ানো। গাছগাছালি ও পাখপাখালির নিবিড় বন্ধনে আবদ্ধ কলেজ প্রাঙ্গণ। যেখানে শিক্ষার্থীরা খুঁজে পায় ভালোবাসার মেলবন্ধন ও প্রকৃতির প্রগাঢ় সজিবতা।
সা’দত কলেজের সুবিশাল ক্যাম্পাসে রয়েছে সমৃদ্ধ লাইব্রেরি। শিক্ষার্থীদের খেলাধুলার জন্য রয়েছে বিশাল খেলার মাঠ, রয়েছে পুকুর, চিকিৎসা কেন্দ্রের পাশাপাশি এখানে আছে ক্যান্টিন, মসজিদ ও শহীদ মিনার। এছাড়াও শিক্ষার্থীদের থাকার সুবিধার্থে রয়েছে ছাত্রাবাস ও যাতায়াত সুবিধার জন্য বাস। শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা বিকাশে ও সৃষ্টিশীল ও মানবিক হতে এখানে রয়েছে বেশ কয়েকটি সেচ্ছাসেবী সংগঠন। রয়েছে রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি, আছে রক্তদাতাদের সংগঠন বাঁধন। এখানে আরো রয়েছে বিএসিসি, রোভার স্কাউট, আবৃত্তি সংসদ, ডিবেডিং ক্লাব, শিল্পলোক সহ বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন। সরকারি সা’দত কলেজ সমগ্র বাংলার একটি ঐতিহাসিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠানটি যেমন ইতিহাস ও ঐতিহ্যে সমৃদ্ধ তেমনি প্রতিষ্ঠানটি জন্ম দিয়েছে খ্যাতনামা হাজারো কৃতি শিক্ষার্থী। যাদের পদচারণা শুধু কলেজ প্রাঙ্গণে নয় বরং সমগ্র দেশে তাদের উপস্থিতি বিরাজমান। শতবর্ষে উপনীত হওয়া দেশের অন্যতম বৃহত্তর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ইতিহাস সমৃদ্ধ সরকারি সা’দত কলেজ বাধাহীনভাবে সামনের দিকে এগিয়ে যাক এই প্রত্যাশা করি।
লেখক- শিক্ষার্থী, আনন্দ মোহন কলেজ, ময়মনসিংহ





















