ঢাকা ১০:০২ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৯ মার্চ ২০২৬, ২৫ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

১৫ শতাংশ বনভূমি উদ্ধার

মধুপুরে শালবনের ভেতরে অবৈধ সীসা কারখানা গুঁড়িয়ে দিল ভ্রাম্যমান আদালত

মধুপুর করেসপন্ডন্ট, শালবনবার্তাটোয়েন্টিফোর.কম
  • আপডেট সময় : ০৭:৩০:০০ অপরাহ্ন, সোমবার, ৯ মার্চ ২০২৬ ২৯৬ বার পড়া হয়েছে

টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলার শালবনের গভীরে গড়ে ওঠা একটি অবৈধ সীসা তৈরির কারখানা ধ্বংস করে দিয়েছে ভ্রাম্যমান আদালত ও বন বিভাগ। অভিযানে প্রায় ১৫ শতাংশ বনভূমি দখলমুক্ত করা হয়েছে।

শনিবার (৮ মার্চ) বিকাল ৪টার দিকে উপজেলার অরণখোলা ইউনিয়নের কালার বাজার এলাকার শালবনের ভেতরে এই যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

গোপন সংবাদের ভিত্তিতে খবর পেয়ে ভ্রাম্যমান আদালত ও বন বিভাগের যৌথ অভিযানে অবৈধভাবে স্থাপিত কারখানাটি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। একই সঙ্গে প্রায় ১৫ শতাংশ বনভূমি দখলমুক্ত করা হয়। পরে উদ্ধারকৃত জমিতে বন বিভাগের উদ্যোগে বিভিন্ন পাহাড়ি জাতের চারা রোপণ করা হয়েছে।

অভিযানে নেতৃত্ব দেন এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. নঈম উদ্দিন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন টাঙ্গাইল বন বিভাগের সহকারী বন সংরক্ষক (উত্তর) রানা দেব, দোখলা সদর রেঞ্জ কর্মকর্তা সাব্বির হোসেন, ডেপুটি রেঞ্জার সৈয়দ আমিনুর রহমান, অরণখোলা বিট কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদসহ বন বিভাগের অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারী। মধুপুর থানা পুলিশের একটি দল অভিযানে সহযোগিতা করে।

দোখলা সদর রেঞ্জ কর্মকর্তা সাব্বির হোসেন জানান, অরণখোলা মৌজার ৬৬ নম্বর প্লটে অবৈধভাবে একটি ব্যাটারি কারখানা স্থাপনের চেষ্টা চলছিল। সামাজিক বনায়নের ওই প্লটটি উপকারভোগী আর্শেদ আলীর নামে বরাদ্দ ছিল। অভিযোগ রয়েছে, তিনি নিজেও দখল প্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি চান মিয়া, রাজ্জাকসহ কয়েকজন মিলে জায়গাটি জবরদখল করে সেখানে সীসা ও অ্যালুমিনিয়াম গলানোর একটি ব্যাটারি কারখানা স্থাপনের পরিকল্পনা করছিলেন।

টাঙ্গাইল বন বিভাগের সহকারী বন সংরক্ষক (উত্তর) রানা দেব বলেন, বনের ভেতরে এ ধরনের ভারী ধাতুর কারখানা স্থাপন করা হলে নির্গত ধোঁয়া ও বিষাক্ত বর্জ্যে ওই এলাকার পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতো। এতে জনস্বাস্থ্যের পাশাপাশি বনাঞ্চলের পশুপাখিও চরম হুমকির মুখে পড়ত।

তিনি আরও জানান, বন বিভাগের দ্রুত পদক্ষেপের ফলে এই অবৈধ কার্যক্রম বন্ধ করা সম্ভব হয়েছে এবং জমিটি পুনরায় বন বিভাগের নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!

১৫ শতাংশ বনভূমি উদ্ধার

মধুপুরে শালবনের ভেতরে অবৈধ সীসা কারখানা গুঁড়িয়ে দিল ভ্রাম্যমান আদালত

আপডেট সময় : ০৭:৩০:০০ অপরাহ্ন, সোমবার, ৯ মার্চ ২০২৬

টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলার শালবনের গভীরে গড়ে ওঠা একটি অবৈধ সীসা তৈরির কারখানা ধ্বংস করে দিয়েছে ভ্রাম্যমান আদালত ও বন বিভাগ। অভিযানে প্রায় ১৫ শতাংশ বনভূমি দখলমুক্ত করা হয়েছে।

শনিবার (৮ মার্চ) বিকাল ৪টার দিকে উপজেলার অরণখোলা ইউনিয়নের কালার বাজার এলাকার শালবনের ভেতরে এই যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

গোপন সংবাদের ভিত্তিতে খবর পেয়ে ভ্রাম্যমান আদালত ও বন বিভাগের যৌথ অভিযানে অবৈধভাবে স্থাপিত কারখানাটি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। একই সঙ্গে প্রায় ১৫ শতাংশ বনভূমি দখলমুক্ত করা হয়। পরে উদ্ধারকৃত জমিতে বন বিভাগের উদ্যোগে বিভিন্ন পাহাড়ি জাতের চারা রোপণ করা হয়েছে।

অভিযানে নেতৃত্ব দেন এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. নঈম উদ্দিন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন টাঙ্গাইল বন বিভাগের সহকারী বন সংরক্ষক (উত্তর) রানা দেব, দোখলা সদর রেঞ্জ কর্মকর্তা সাব্বির হোসেন, ডেপুটি রেঞ্জার সৈয়দ আমিনুর রহমান, অরণখোলা বিট কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদসহ বন বিভাগের অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারী। মধুপুর থানা পুলিশের একটি দল অভিযানে সহযোগিতা করে।

দোখলা সদর রেঞ্জ কর্মকর্তা সাব্বির হোসেন জানান, অরণখোলা মৌজার ৬৬ নম্বর প্লটে অবৈধভাবে একটি ব্যাটারি কারখানা স্থাপনের চেষ্টা চলছিল। সামাজিক বনায়নের ওই প্লটটি উপকারভোগী আর্শেদ আলীর নামে বরাদ্দ ছিল। অভিযোগ রয়েছে, তিনি নিজেও দখল প্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি চান মিয়া, রাজ্জাকসহ কয়েকজন মিলে জায়গাটি জবরদখল করে সেখানে সীসা ও অ্যালুমিনিয়াম গলানোর একটি ব্যাটারি কারখানা স্থাপনের পরিকল্পনা করছিলেন।

টাঙ্গাইল বন বিভাগের সহকারী বন সংরক্ষক (উত্তর) রানা দেব বলেন, বনের ভেতরে এ ধরনের ভারী ধাতুর কারখানা স্থাপন করা হলে নির্গত ধোঁয়া ও বিষাক্ত বর্জ্যে ওই এলাকার পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতো। এতে জনস্বাস্থ্যের পাশাপাশি বনাঞ্চলের পশুপাখিও চরম হুমকির মুখে পড়ত।

তিনি আরও জানান, বন বিভাগের দ্রুত পদক্ষেপের ফলে এই অবৈধ কার্যক্রম বন্ধ করা সম্ভব হয়েছে এবং জমিটি পুনরায় বন বিভাগের নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে।