ঢাকা ০৩:০৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ৪ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

স্মরণীয়

নবাব সৈয়দ নওয়াব আলী চৌধুরী মৃত্যু বার্ষিকী

ধনবাড়ী করেসপন্ডেন্ট শালবনবার্তা২৪. কম
  • আপডেট সময় : ০৭:৪৬:২২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬ ৮৭ বার পড়া হয়েছে

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা নবাব বাহাদুর সৈয়দ নওয়াব আলী চৌধুরীর মৃত্যুবার্ষিকী আজ। তিনি ১৮৬৩ সালের ২৯ ডিসেম্বর টাঙ্গাইলের ধনবাড়ীতে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ধনবাড়ীর জমিদার ছিলেন। তিনি অবিভক্ত বাংলার প্রথম মুসলমান মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি ছিলেন শিক্ষামন্ত্রী ।

 

নওয়াব আলী চৌধুরী শৈশবে গৃহশিক্ষকের কাছে আরবি, ফার্সি ও বাংলায় বিশেষ শিক্ষা লাভ করেন। তাঁর আনুষ্ঠানিক লেখাপড়া শুরু হয় রাজশাহী কলেজিয়েট স্কুলে এবং পরবর্তীকালে তিনি কলকাতার সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজ থেকে এফএ পাশ করেন। ১৮৯৫ থেকে ১৯০৪ সাল পর্যন্ত তাঁর কর্মতৎপরতা ছিল প্রধানত সাহিত্য ও সংস্কৃতিকেন্দ্রিক।

তিনি কয়েকটি গ্রন্থ রচনা করেছেন। এগুলো হলো-ঈদুল আযহা (১৮৯০), মৌলুদ শরীফ (১৯০৩), ভারনাকুলার এডুকেশন ইন বেঙ্গল (১৯০০), প্রাইমারি এডুকেশন ইন রুরাল এরিয়াস (১৯০৬)।

 

১৯১১ সালে ২৯ আগস্ট ঢাকার কার্জন হলে ল্যান্সলট হেয়ারের বিদায় এবং চার্লস বেইলির যোগদান উপলক্ষ্যে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে পৃথক দুটি মানপত্রে নবাব সলিমুল্লাহ ও নওয়াব আলী চৌধুরী ঢাকায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার দাবি জানান। ১৯১২ সালের ৩১ জানুয়ারি লর্ড হার্ডিঞ্জের ঢাকায় অবস্থানকালে নওয়াব সলিমুল্লাহ ও নওয়াব আলীসহ ১৯ সদস্যবিশিষ্ট একটি প্রতিনিধিদল তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে বঙ্গভঙ্গ রদের ফলে মুসলমানদের যে সমূহ ক্ষতি হচ্ছে, সে কথা তুলে ধরেন। এ লক্ষ্যে ১৩ সদস্যবিশিষ্ট নাথান কমিটি গঠিত হলে নওয়াব আলী চৌধুরী এর অন্যতম সদস্য হন। ১৯১৪ সালে প্রথম বিশ্বযুদ্ধ চলাকালে আর্থিক সংকটের কারণে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার কাজ চাপা পড়ে যায়। সে সময় নওয়াব আলী চৌধুরী ইম্পেরিয়াল কাউন্সিলের সদস্য ছিলেন। ১৯১৭সালের ৭ মার্চ ইম্পেরিয়াল কাউন্সিলের সভায় তিনি বিষয়টিকে আবার উপস্থাপন করেন। ১৯২০ সালের ১৮ মার্চ ভারতীয় আইনসভায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বিল অ্যাক্টে পরিণত হয় এবং ২৩ মার্চ তা গভর্নর জেনারেলের অনুমোদন লাভ করে। লর্ড হার্ডিঞ্জ কর্তৃক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার নয় মাস পর ১৯২১ সালের জুলাই মাসে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যথারীতি ক্লাস শুরু হয়। ১৯২২ সালে নওয়াব আলী চৌধুরী ছাত্রছাত্রীদের বৃত্তি বাবদ ১৬ হাজার টাকার একটি তহবিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রদান করেন। এছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠাকালে অর্থাভাব দেখা দিলে তিনি নিজ জমিদারির একাংশ বন্ধক রেখে এককালীন ৩৫ হাজার টাকা প্রদান করেন।

সৈয়দ নওয়াব আলী চৌধুরী ১৯২৯ সালের ১৭ এপ্রিল মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর মৃত্যু দিবস উপলক্ষে ধনবাড়ী আসিয়া হাসান মহিলা ডিগ্রি কলেজে স্থানীয়দের আয়োজনে শুক্রবার সকাল ১০ টায় স্মরণ সভা ও বিশেষ দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

স্মরণীয়

নবাব সৈয়দ নওয়াব আলী চৌধুরী মৃত্যু বার্ষিকী

আপডেট সময় : ০৭:৪৬:২২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা নবাব বাহাদুর সৈয়দ নওয়াব আলী চৌধুরীর মৃত্যুবার্ষিকী আজ। তিনি ১৮৬৩ সালের ২৯ ডিসেম্বর টাঙ্গাইলের ধনবাড়ীতে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ধনবাড়ীর জমিদার ছিলেন। তিনি অবিভক্ত বাংলার প্রথম মুসলমান মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি ছিলেন শিক্ষামন্ত্রী ।

 

নওয়াব আলী চৌধুরী শৈশবে গৃহশিক্ষকের কাছে আরবি, ফার্সি ও বাংলায় বিশেষ শিক্ষা লাভ করেন। তাঁর আনুষ্ঠানিক লেখাপড়া শুরু হয় রাজশাহী কলেজিয়েট স্কুলে এবং পরবর্তীকালে তিনি কলকাতার সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজ থেকে এফএ পাশ করেন। ১৮৯৫ থেকে ১৯০৪ সাল পর্যন্ত তাঁর কর্মতৎপরতা ছিল প্রধানত সাহিত্য ও সংস্কৃতিকেন্দ্রিক।

তিনি কয়েকটি গ্রন্থ রচনা করেছেন। এগুলো হলো-ঈদুল আযহা (১৮৯০), মৌলুদ শরীফ (১৯০৩), ভারনাকুলার এডুকেশন ইন বেঙ্গল (১৯০০), প্রাইমারি এডুকেশন ইন রুরাল এরিয়াস (১৯০৬)।

 

১৯১১ সালে ২৯ আগস্ট ঢাকার কার্জন হলে ল্যান্সলট হেয়ারের বিদায় এবং চার্লস বেইলির যোগদান উপলক্ষ্যে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে পৃথক দুটি মানপত্রে নবাব সলিমুল্লাহ ও নওয়াব আলী চৌধুরী ঢাকায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার দাবি জানান। ১৯১২ সালের ৩১ জানুয়ারি লর্ড হার্ডিঞ্জের ঢাকায় অবস্থানকালে নওয়াব সলিমুল্লাহ ও নওয়াব আলীসহ ১৯ সদস্যবিশিষ্ট একটি প্রতিনিধিদল তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে বঙ্গভঙ্গ রদের ফলে মুসলমানদের যে সমূহ ক্ষতি হচ্ছে, সে কথা তুলে ধরেন। এ লক্ষ্যে ১৩ সদস্যবিশিষ্ট নাথান কমিটি গঠিত হলে নওয়াব আলী চৌধুরী এর অন্যতম সদস্য হন। ১৯১৪ সালে প্রথম বিশ্বযুদ্ধ চলাকালে আর্থিক সংকটের কারণে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার কাজ চাপা পড়ে যায়। সে সময় নওয়াব আলী চৌধুরী ইম্পেরিয়াল কাউন্সিলের সদস্য ছিলেন। ১৯১৭সালের ৭ মার্চ ইম্পেরিয়াল কাউন্সিলের সভায় তিনি বিষয়টিকে আবার উপস্থাপন করেন। ১৯২০ সালের ১৮ মার্চ ভারতীয় আইনসভায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বিল অ্যাক্টে পরিণত হয় এবং ২৩ মার্চ তা গভর্নর জেনারেলের অনুমোদন লাভ করে। লর্ড হার্ডিঞ্জ কর্তৃক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার নয় মাস পর ১৯২১ সালের জুলাই মাসে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যথারীতি ক্লাস শুরু হয়। ১৯২২ সালে নওয়াব আলী চৌধুরী ছাত্রছাত্রীদের বৃত্তি বাবদ ১৬ হাজার টাকার একটি তহবিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রদান করেন। এছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠাকালে অর্থাভাব দেখা দিলে তিনি নিজ জমিদারির একাংশ বন্ধক রেখে এককালীন ৩৫ হাজার টাকা প্রদান করেন।

সৈয়দ নওয়াব আলী চৌধুরী ১৯২৯ সালের ১৭ এপ্রিল মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর মৃত্যু দিবস উপলক্ষে ধনবাড়ী আসিয়া হাসান মহিলা ডিগ্রি কলেজে স্থানীয়দের আয়োজনে শুক্রবার সকাল ১০ টায় স্মরণ সভা ও বিশেষ দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে।