উদ্ভাবনী চিন্তা উৎসাহিত করতে
মধুপুরে দুইদিনব্যাপী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মেলার উদ্বোধন
- আপডেট সময় : ০৮:০৭:৪৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬ ৫৭ বার পড়া হয়েছে

“উদ্ভাবননির্ভর বাংলাদেশ গঠনে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি”—এই প্রেরণাদায়ক প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে টাঙ্গাইলের মধুপুরে শুরু হয়েছে দুই দিনব্যাপী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মেলা। ৪৭তম জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সপ্তাহ উপলক্ষে আয়োজিত এ মেলা যেন গ্রামীণ জনপদে বিজ্ঞানচর্চার এক প্রাণবন্ত উৎসব হয়ে উঠেছে।
শনিবার (১১ এপ্রিল) সকালে মধুপুর উপজেলা পরিষদ চত্বরে বর্ণিল আয়োজনে বেলুন উড়িয়ে মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জুবায়ের হোসেন। উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ মেলায় পৃষ্ঠপোষকতা করছে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি জাদুঘর।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নঈম উদ্দিন, উপজেলা বিএনপির সভাপতি জাকির হোসেন সরকার, বীর মুক্তিযোদ্ধা এম এ সামাদ, মধুপুর থানার অফিসার ইনচার্জ ফজুলল হক, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন, পৌর বিএনপির সভাপতি খুররম খান ইউসুফজী প্রিন্স, সাধারণ সম্পাদক খন্দকার আব্দুল মোতালিবসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাবৃন্দ। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন শিক্ষক-শিক্ষার্থী, সাংবাদিক ও স্থানীয় সুধীজন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের একাডেমিক সুপারভাইজার মো. মহি উদ্দিন আহমেদ।
উদ্বোধন শেষে অতিথিরা মেলার বিভিন্ন স্টল ঘুরে দেখেন এবং শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী চিন্তাধারার প্রশংসা করেন। এ মেলায় মোট ২৫টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান অংশগ্রহণ করেছে, যার মধ্যে রয়েছে চারটি উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়, দুটি মাদ্রাসা এবং বাকিগুলো মাধ্যমিক বিদ্যালয়।
মেলার অন্যতম আকর্ষণ ছিল শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী প্রকল্প। বনাঞ্চল অধ্যুষিত কর্পোস খ্রীষ্টি উচ্চ বিদ্যালয়ের স্টলে প্রদর্শিত “Smart BT Abode: Systemized Footsteps Power Generation” প্রকল্পটি সবার দৃষ্টি কাড়ে। ক্ষুদে বিজ্ঞানী পূর্ণ মৃ জানান, মানুষের পদচারণার চাপ ব্যবহার করে মাটির নিচে স্থাপিত যন্ত্রের মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনা রয়েছে তাদের। উৎপাদিত বিদ্যুৎ নির্দিষ্ট স্থানে পৌঁছে ব্যবহারযোগ্য শক্তিতে রূপান্তরিত হবে—যা ভবিষ্যতের বিকল্প জ্বালানির নতুন সম্ভাবনা জাগায়।
এছাড়া মধুপুর শহীদ স্মৃতি উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের “Feature Aero Defense System” প্রকল্পে জেট ইঞ্জিন প্রযুক্তির মাধ্যমে ভবিষ্যতের আকাশসীমা নিরাপদ রাখার স্বপ্ন তুলে ধরা হয়েছে। অন্যদিকে মধুপুর সরকারি কলেজের শিক্ষার্থীদের “কৃষক বন্ধু হিমাগার” ও “ইকো ফার্ম অটোমেশন” প্রকল্প কৃষির আধুনিকায়নে নতুন দিগন্তের ইঙ্গিত দেয়।
মধুপুর রাণী ভবানী মডেল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী সাকিবের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা ক্ষুদে বিজ্ঞানীদের দল “Anti Sleep Alarm” নামের একটি প্রকল্প উপস্থাপন করেছে, যা চালকদের ঘুমঘোরে সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে সহায়ক হতে পারে। এছাড়া সৌরশক্তি ব্যবহার, কার্বন বিশুদ্ধকরণ ও পরিবেশবান্ধব সড়ক নির্মাণের মতো বিভিন্ন প্রকল্প মেলাকে করেছে আরও বৈচিত্র্যময় ও আকর্ষণীয়।
জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি জাদুঘরের তত্ত্বাবধানে শিক্ষার্থীদের জন্য টুয়েলভ-ডি (12D) ফিল্ম প্রদর্শন ও তিনটি ভ্রাম্যমাণ প্রদর্শনী বাস মেলায় বাড়তি আনন্দ যোগ করেছে। বিশেষ করে ১২ডি চলচ্চিত্র প্রদর্শনীতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ ও রোমাঞ্চ লক্ষ্য করা গেছে।
তবে আয়োজন নিয়ে কিছুটা অসন্তোষও প্রকাশ করেছেন অংশগ্রহণকারীরা। এক কলেজ পর্যায়ের দুই শিক্ষক জানান, অতিথিদের জন্য মঞ্চে বসার ব্যবস্থা থাকলেও সাধারণ দর্শনার্থীদের জন্য পর্যাপ্ত বসার জায়গা বা সামিয়ানা না থাকায় কিছুটা ভোগান্তি হয়েছে।
তবুও, এমন আয়োজন বিজ্ঞানমনস্ক জাতি গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী চিন্তাকে উৎসাহিত করতে এ ধরনের মেলা আরও বিস্তৃত ও সৃজনশীল হওয়া প্রয়োজন।
প্রাণচাঞ্চল্যে ভরপুর এ বিজ্ঞান মেলা চলবে আগামীকাল রোববার পর্যন্ত।











