ঢাকা ০১:০৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬, ৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মধুপুরে একই দিনে একাধিক ছিনতাই, আতঙ্কে যাত্রী ও অটোরিকশা চালক

মধুপুর করেসপন্ডন্ট, শালবনবার্তাটোয়েন্টিফোর.কম
  • আপডেট সময় : ১০:৫৬:৫০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৮ মে ২০২৬ ৫৮ বার পড়া হয়েছে

টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় দিন দিন বেড়ে চলেছে ছিনতাই ও ডাকাতির ঘটনা। রবিবার (১৭ মে) সন্ধ্যায় উপজেলার বিভিন্ন স্থানে পৃথক কয়েকটি ছিনতাইয়ের ঘটনায় সাধারণ যাত্রী ও অটোরিকশাচালকদের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।

স্থানীয়রা বলছেন, সন্ধ্যার পর সড়কে চলাচল এখন অনেকটাই ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

ভুক্তভোগী সূত্রে জানা যায়, উপজেলার আউশনারা ইউনিয়নের গোপীনাথপুর এলাকার বাসিন্দা মিতু আক্তার (৩০) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে মধুপুর মার্কেট এলাকা থেকে চাড়ালজানী তেলের পাম্পের উদ্দেশ্যে একটি অটোরিকশায় রওনা দেন। পথিমধ্যে চাড়ালজানী খান ফিলিং স্টেশনের কাছে পৌঁছালে মোটরসাইকেলযোগে আসা হেলমেট পরিহিত এক ছিনতাইকারী তার ব্যাগ টান দিয়ে নিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায়। ব্যাগে নগদ টাকা ছাড়াও গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র ও প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট ছিল বলে জানান তিনি।

এর কিছুক্ষণ পরই বেরিবাইদ ইউনিয়নের জাঙ্গালিয়া উত্তরপাড়া এলাকার মো. শাহজালাল (৩৫) পরিবারসহ মধুপুর থেকে জলছত্র যাওয়ার পথে দরদরিয়া এলাকায় একই কায়দায় ছিনতাইয়ের শিকার হন। জলছত্র বাজারের প্রায় ১০০ গজ আগে পুলিশ ফাঁড়ির কাছেই মোটরসাইকেলে আসা এক ব্যক্তি তার ব্যাগ ছিনিয়ে নেয়। ওই ব্যাগে প্রায় ২৫ হাজার টাকা ও গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র ছিল বলে জানিয়েছেন শাহজালাল।

একই দিনে আরও কয়েকটি ছিনতাইয়ের তথ্য পাওয়া গেছে। মেট্রো হাসপাতালের কর্মচারী পূনম মধুপুর থেকে বাড়ি ফেরার পথে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে কাকরাইদ ব্রিজ এলাকায় ছিনতাইয়ের শিকার হন। এছাড়া সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে কাকরাইদ পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের সামনে ডলি আক্তার (৫০) নামে এক নারীও ছিনতাইয়ের কবলে পড়েন। তিনি গাছাবাড়ী বাবার বাড়ি থেকে কাকরাইদ শ্বশুরবাড়িতে যাওয়ার পথে এ ঘটনার শিকার হন।

স্থানীয় বাসিন্দা রফিস উদ্দিন জানান, মধুপুর-জলছত্র সড়কে সম্প্রতি ছিনতাই ও ডাকাতির ঘটনা আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে। তিনি বলেন, কিছুদিন আগেও দরদইরা মোড় এলাকায় অটোরিকশার যাত্রীর ব্যাগ ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনা ঘটে। এছাড়া গত ১৫ মে গভীর রাতে একই এলাকায় একটি মাহিন্দ্রা গাড়ি থামিয়ে দুর্বৃত্তরা অটোরিকশাচালককে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে অটোরিকশা ছিনতাই করে নিয়ে যায়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে এসব ঘটনায় কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় অপরাধীরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে। বিশেষ করে সন্ধ্যার পর নারী যাত্রী ও অটোরিকশাচালকদের মধ্যে আতঙ্ক সবচেয়ে বেশি।

এ অবস্থায় মধুপুর-জলছত্র সড়কসহ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর টহল ও নজরদারি বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। পাশাপাশি দ্রুত ছিনতাইকারীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার আহ্বানও জানিয়েছেন তারা।

মধুপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি এ কে এম ফজলুল হক জানান- এতগুলো ছিনতাইয়ের ঘটনার খবর তিনি অবগত নন। তবে, এ বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছেন। পুলিশী তৎপরতা বাড়ানোর পাশাপাশি অভিযোগ নিয়ে তদন্ত করে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাসও দিয়েছেন তিনি।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

মধুপুরে একই দিনে একাধিক ছিনতাই, আতঙ্কে যাত্রী ও অটোরিকশা চালক

আপডেট সময় : ১০:৫৬:৫০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৮ মে ২০২৬

টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় দিন দিন বেড়ে চলেছে ছিনতাই ও ডাকাতির ঘটনা। রবিবার (১৭ মে) সন্ধ্যায় উপজেলার বিভিন্ন স্থানে পৃথক কয়েকটি ছিনতাইয়ের ঘটনায় সাধারণ যাত্রী ও অটোরিকশাচালকদের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।

স্থানীয়রা বলছেন, সন্ধ্যার পর সড়কে চলাচল এখন অনেকটাই ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

ভুক্তভোগী সূত্রে জানা যায়, উপজেলার আউশনারা ইউনিয়নের গোপীনাথপুর এলাকার বাসিন্দা মিতু আক্তার (৩০) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে মধুপুর মার্কেট এলাকা থেকে চাড়ালজানী তেলের পাম্পের উদ্দেশ্যে একটি অটোরিকশায় রওনা দেন। পথিমধ্যে চাড়ালজানী খান ফিলিং স্টেশনের কাছে পৌঁছালে মোটরসাইকেলযোগে আসা হেলমেট পরিহিত এক ছিনতাইকারী তার ব্যাগ টান দিয়ে নিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায়। ব্যাগে নগদ টাকা ছাড়াও গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র ও প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট ছিল বলে জানান তিনি।

এর কিছুক্ষণ পরই বেরিবাইদ ইউনিয়নের জাঙ্গালিয়া উত্তরপাড়া এলাকার মো. শাহজালাল (৩৫) পরিবারসহ মধুপুর থেকে জলছত্র যাওয়ার পথে দরদরিয়া এলাকায় একই কায়দায় ছিনতাইয়ের শিকার হন। জলছত্র বাজারের প্রায় ১০০ গজ আগে পুলিশ ফাঁড়ির কাছেই মোটরসাইকেলে আসা এক ব্যক্তি তার ব্যাগ ছিনিয়ে নেয়। ওই ব্যাগে প্রায় ২৫ হাজার টাকা ও গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র ছিল বলে জানিয়েছেন শাহজালাল।

একই দিনে আরও কয়েকটি ছিনতাইয়ের তথ্য পাওয়া গেছে। মেট্রো হাসপাতালের কর্মচারী পূনম মধুপুর থেকে বাড়ি ফেরার পথে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে কাকরাইদ ব্রিজ এলাকায় ছিনতাইয়ের শিকার হন। এছাড়া সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে কাকরাইদ পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের সামনে ডলি আক্তার (৫০) নামে এক নারীও ছিনতাইয়ের কবলে পড়েন। তিনি গাছাবাড়ী বাবার বাড়ি থেকে কাকরাইদ শ্বশুরবাড়িতে যাওয়ার পথে এ ঘটনার শিকার হন।

স্থানীয় বাসিন্দা রফিস উদ্দিন জানান, মধুপুর-জলছত্র সড়কে সম্প্রতি ছিনতাই ও ডাকাতির ঘটনা আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে। তিনি বলেন, কিছুদিন আগেও দরদইরা মোড় এলাকায় অটোরিকশার যাত্রীর ব্যাগ ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনা ঘটে। এছাড়া গত ১৫ মে গভীর রাতে একই এলাকায় একটি মাহিন্দ্রা গাড়ি থামিয়ে দুর্বৃত্তরা অটোরিকশাচালককে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে অটোরিকশা ছিনতাই করে নিয়ে যায়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে এসব ঘটনায় কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় অপরাধীরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে। বিশেষ করে সন্ধ্যার পর নারী যাত্রী ও অটোরিকশাচালকদের মধ্যে আতঙ্ক সবচেয়ে বেশি।

এ অবস্থায় মধুপুর-জলছত্র সড়কসহ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর টহল ও নজরদারি বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। পাশাপাশি দ্রুত ছিনতাইকারীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার আহ্বানও জানিয়েছেন তারা।

মধুপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি এ কে এম ফজলুল হক জানান- এতগুলো ছিনতাইয়ের ঘটনার খবর তিনি অবগত নন। তবে, এ বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছেন। পুলিশী তৎপরতা বাড়ানোর পাশাপাশি অভিযোগ নিয়ে তদন্ত করে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাসও দিয়েছেন তিনি।