ঢাকা ১০:২৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ আগস্ট ২০২৬, ৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মধুপুরে ভিত্তিহীন তথ্য দিয়ে সংবাদ সম্মেলনের অভিযোগ, সাবেক অধ্যক্ষের পাল্টা সংবাদ সম্মেলন

মধুপুর করেসপন্ডন্ট, শালবনবার্তাটোয়েন্টিফোর.কম
  • আপডেট সময় : ০৭:৪২:২৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ আগস্ট ২০২৬ ৫২ বার পড়া হয়েছে

টাঙ্গাইলের মধুপুরে নিজের ও পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে ‘ভিত্তিহীন ও মিথ্যা তথ্য’ দিয়ে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে সংবাদ সম্মেলন করার অভিযোগ তুলে পাল্টা সংবাদ সম্মেলন করেছেন মধুপুর শহীদ স্মৃতি উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যক্ষ মো. বজলুর রশিদ খান চুন্নু। তিনি আগের সংবাদ সম্মেলনে করা অভিযোগকে অপপ্রচার দাবি করে প্রকৃত তথ্য যাচাই করে সংবাদ প্রকাশের আহ্বান জানিয়েছেন।
সোমবার (২৪ আগস্ট) বেলা সাড়ে ১১টায় মধুপুর প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে এসব কথা বলেন সাবেক অধ্যক্ষ। এর আগে গত ২২ আগস্ট একটি পক্ষ তাঁর ও পরিবারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করে।
লিখিত বক্তব্যে বজলুর রশিদ খান বলেন, ২২ আগস্টের সংবাদ সম্মেলনে তাঁকে ‘ভূমিদস্যু’ ও ‘জালিয়াতি চক্রের হোতা’ হিসেবে আখ্যায়িত করে সামাজিকভাবে হেয় করার চেষ্টা করা হয়েছে। ওই সংবাদ সম্মেলনে তাঁর ও পরিবারের বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ করা হয়েছে, সেগুলো ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলেও দাবি করেন তিনি।
তিনি দাবি করেন, তাঁর ক্রয়কৃত ও পৈতৃক সম্পত্তির বৈধ দলিল, নামজারি ও খাজনা পরিশোধের কাগজপত্র রয়েছে। জমি নিয়ে কয়েকটি বিরোধ আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। আদালতের রায় হওয়ার আগে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
সাবেক এই অধ্যক্ষ আরও বলেন, পুণ্ডুরা ও বোয়ালী মৌজায় তাঁদের স্বত্বদখলীয় জমিতে আবাদে বাধা দেওয়া হচ্ছে। এ বিষয়ে তাঁরা প্রশাসন ও আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন। প্রতিপক্ষের হুমকি ও ভয়ভীতির অভিযোগে থানায় একাধিক সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করার কথাও জানান তিনি।
২০২৫ সালের ১১ জুন পুণ্ডুরা মৌজায় জমি ও পুকুরসংক্রান্ত বিরোধের জেরে তাঁকে, তাঁর স্ত্রী ও সন্তানকে হত্যার উদ্দেশ্যে পানিতে চুবিয়ে রাখার অভিযোগ করেন বজলুর রশিদ খান। এ ঘটনায় ১৯ জুন মধুপুর থানায় মামলা করা হয়েছে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানান তিনি।
নিজের রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে ওঠা অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে সরকারি কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক ব্যক্তিদের সঙ্গে প্রয়োজনীয় যোগাযোগ করতে হয়েছে। এসব সাক্ষাতের ছবি ব্যবহার করে তাঁকে রাজনৈতিকভাবে বিতর্কিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। তিনি নিজেকে অরাজনৈতিক ব্যক্তি দাবি করে বলেন, দীর্ঘদিন সততা ও নীতিনৈতিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন।
বজলুর রশিদ খান বলেন, তাঁর মালিকানাধীন ভূমির বৈধ কাগজপত্র উন্মুক্ত রয়েছে। প্রতিপক্ষ তাদের মালিকানা দলিল দিয়ে জমির মালিকানা প্রমাণ করতে পারলে তিনি আইন অনুযায়ী জমি ছেড়ে দিতে প্রস্তুত। প্রকৃত ঘটনা জানতে সাংবাদিকদের সরেজমিন তদন্ত ও সংশ্লিষ্ট দলিলপত্র যাচাইয়েরও আহ্বান জানান তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে সাবেক অধ্যক্ষের সঙ্গে শাহজাহান আলী খান, এনায়েত আলী খান, ইব্রাহিম খান, মনির খান, রুবেল খান, মনোয়ারা খানম, মাজেদা খানম, ডা. মোশাররফ হোসেন মুসা, সহকারী অধ্যাপক শামসুল আলম, বাদশা মিয়াসহ ভুক্তভোগী পরিবারের নারী-পুরুষ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
এ সময় মধুপুর প্রেসক্লাবের নেতৃবৃন্দ, স্থানীয় সাংবাদিক এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

মধুপুরে ভিত্তিহীন তথ্য দিয়ে সংবাদ সম্মেলনের অভিযোগ, সাবেক অধ্যক্ষের পাল্টা সংবাদ সম্মেলন

আপডেট সময় : ০৭:৪২:২৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ আগস্ট ২০২৬

টাঙ্গাইলের মধুপুরে নিজের ও পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে ‘ভিত্তিহীন ও মিথ্যা তথ্য’ দিয়ে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে সংবাদ সম্মেলন করার অভিযোগ তুলে পাল্টা সংবাদ সম্মেলন করেছেন মধুপুর শহীদ স্মৃতি উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যক্ষ মো. বজলুর রশিদ খান চুন্নু। তিনি আগের সংবাদ সম্মেলনে করা অভিযোগকে অপপ্রচার দাবি করে প্রকৃত তথ্য যাচাই করে সংবাদ প্রকাশের আহ্বান জানিয়েছেন।
সোমবার (২৪ আগস্ট) বেলা সাড়ে ১১টায় মধুপুর প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে এসব কথা বলেন সাবেক অধ্যক্ষ। এর আগে গত ২২ আগস্ট একটি পক্ষ তাঁর ও পরিবারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করে।
লিখিত বক্তব্যে বজলুর রশিদ খান বলেন, ২২ আগস্টের সংবাদ সম্মেলনে তাঁকে ‘ভূমিদস্যু’ ও ‘জালিয়াতি চক্রের হোতা’ হিসেবে আখ্যায়িত করে সামাজিকভাবে হেয় করার চেষ্টা করা হয়েছে। ওই সংবাদ সম্মেলনে তাঁর ও পরিবারের বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ করা হয়েছে, সেগুলো ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলেও দাবি করেন তিনি।
তিনি দাবি করেন, তাঁর ক্রয়কৃত ও পৈতৃক সম্পত্তির বৈধ দলিল, নামজারি ও খাজনা পরিশোধের কাগজপত্র রয়েছে। জমি নিয়ে কয়েকটি বিরোধ আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। আদালতের রায় হওয়ার আগে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
সাবেক এই অধ্যক্ষ আরও বলেন, পুণ্ডুরা ও বোয়ালী মৌজায় তাঁদের স্বত্বদখলীয় জমিতে আবাদে বাধা দেওয়া হচ্ছে। এ বিষয়ে তাঁরা প্রশাসন ও আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন। প্রতিপক্ষের হুমকি ও ভয়ভীতির অভিযোগে থানায় একাধিক সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করার কথাও জানান তিনি।
২০২৫ সালের ১১ জুন পুণ্ডুরা মৌজায় জমি ও পুকুরসংক্রান্ত বিরোধের জেরে তাঁকে, তাঁর স্ত্রী ও সন্তানকে হত্যার উদ্দেশ্যে পানিতে চুবিয়ে রাখার অভিযোগ করেন বজলুর রশিদ খান। এ ঘটনায় ১৯ জুন মধুপুর থানায় মামলা করা হয়েছে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানান তিনি।
নিজের রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে ওঠা অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে সরকারি কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক ব্যক্তিদের সঙ্গে প্রয়োজনীয় যোগাযোগ করতে হয়েছে। এসব সাক্ষাতের ছবি ব্যবহার করে তাঁকে রাজনৈতিকভাবে বিতর্কিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। তিনি নিজেকে অরাজনৈতিক ব্যক্তি দাবি করে বলেন, দীর্ঘদিন সততা ও নীতিনৈতিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন।
বজলুর রশিদ খান বলেন, তাঁর মালিকানাধীন ভূমির বৈধ কাগজপত্র উন্মুক্ত রয়েছে। প্রতিপক্ষ তাদের মালিকানা দলিল দিয়ে জমির মালিকানা প্রমাণ করতে পারলে তিনি আইন অনুযায়ী জমি ছেড়ে দিতে প্রস্তুত। প্রকৃত ঘটনা জানতে সাংবাদিকদের সরেজমিন তদন্ত ও সংশ্লিষ্ট দলিলপত্র যাচাইয়েরও আহ্বান জানান তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে সাবেক অধ্যক্ষের সঙ্গে শাহজাহান আলী খান, এনায়েত আলী খান, ইব্রাহিম খান, মনির খান, রুবেল খান, মনোয়ারা খানম, মাজেদা খানম, ডা. মোশাররফ হোসেন মুসা, সহকারী অধ্যাপক শামসুল আলম, বাদশা মিয়াসহ ভুক্তভোগী পরিবারের নারী-পুরুষ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
এ সময় মধুপুর প্রেসক্লাবের নেতৃবৃন্দ, স্থানীয় সাংবাদিক এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।