খাদ্য ও পুষ্টি শিক্ষায় ব্যতিক্রমী আয়োজন
মধুপুর নার্সিং ইনস্টিটিউটে ১৯২ পদে বর্ণাঢ্য খাদ্য মেলা
- আপডেট সময় : ০৪:৪৩:১২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৭ আগস্ট ২০২৬ ২৭ বার পড়া হয়েছে

এক পাশে বাহারি সব খাবারের পসরা, অন্য পাশে শিক্ষার্থীদের ব্যস্ততা। কোনো টেবিলে শর্করাজাতীয় খাবার, কোথাও আমিষ, আবার কোথাও বিভিন্ন পুষ্টিগুণসমৃদ্ধ খাবারের সাজানো আয়োজন। খাবারের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি প্রতিটি খাবারের পুষ্টিমান ও রোগীর পথ্য হিসেবে এর ব্যবহার নিয়েও চলছে আলোচনা। সব মিলিয়ে যেন একটি ছোট্ট খাদ্য ও পুষ্টিবিজ্ঞান মেলা।
টাঙ্গাইলের মধুপুর নার্সিং ইনস্টিটিউটে এমনই ব্যতিক্রমী আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয়েছে বার্ষিক খাদ্য মেলা। দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থীদের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ মেলায় প্রদর্শিত হয়েছে ১৯২ ধরনের খাবার। শিক্ষার্থীদের নিজের হাতে তৈরি নানা রেসিপির খাবারই ছিল মেলার মূল আকর্ষণ।
বুধবার (১২ আগস্ট) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত মধুপুর নার্সিং ইনস্টিটিউটের মিলনায়তনে এ খাদ্য মেলা অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে কেক কাটা ও আলোচনা সভার মধ্য দিয়ে আয়োজনের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন নার্সিং ইনস্টিটিউটের অধ্যক্ষ হাসিনা বিনতে হাসেম। প্রধান অতিথি ছিলেন মধুপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সাইদুর রহমান।
আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক উপপরিচালক ও মধুপুর নার্সিং ইনস্টিটিউটের চেয়ারম্যান ডা. শামসুল হক, মধুপুর উপজেলা ১০০ শয্যা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. সজীব কান্তি পাল, স্ত্রী রোগ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক মো. আব্দুর রহিম, নার্সিং ইনস্টিটিউট পরিচালনা বোর্ডের অন্যতম সদস্য ডা. ফরহাদুল আলম মনি, পরিচালক এস. এম রবিউল ইসলাম, অতিথি শিক্ষক এস. এম শহীদসহ অন্যান্য অতিথি।
বক্তারা বলেন, নার্সিং পেশায় শুধু রোগীর সেবা করাই নয়, রোগীর খাদ্য ও পুষ্টি সম্পর্কেও সম্যক জ্ঞান থাকা জরুরি। কোন রোগীর জন্য কোন খাবার উপযোগী, কোন খাবারে কী ধরনের পুষ্টি রয়েছে এবং কোন অবস্থায় কোন খাবার এড়িয়ে চলতে হবে—এসব বিষয় নার্সিং শিক্ষার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। সে দিক থেকে হাতে-কলমে খাদ্য ও পুষ্টি বিষয়ে এমন আয়োজন শিক্ষার্থীদের বাস্তব জ্ঞান অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
মেলায় প্রদর্শিত হয় শর্করা, আমিষ, ভিটামিন, খনিজসহ বিভিন্ন পুষ্টি উপাদানসমৃদ্ধ খাবার। ছিল দেশীয় ও আধুনিক নানা ধরনের খাবার এবং শিক্ষার্থীদের তৈরি বিভিন্ন রেসিপি। প্রতিটি খাবার সম্পর্কে অতিথি চিকিৎসকরা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনা করেন। কোন খাবারে কী ধরনের পুষ্টি উপাদান রয়েছে, কোন রোগীর জন্য কোন খাবার পথ্য হিসেবে উপযোগী এবং কোন খাবার নির্দিষ্ট রোগীর ক্ষেত্রে নিষিদ্ধ—এসব বিষয়ও তুলে ধরা হয়।
আয়োজকদের মতে, বইয়ের পাতায় পুষ্টি ও খাদ্যবিষয়ক জ্ঞান অর্জনের পাশাপাশি বাস্তব অভিজ্ঞতার মাধ্যমে বিষয়গুলো শেখার সুযোগ তৈরি করাই এ আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য। ফলে মেলাটি ছিল একদিকে যেমন আনন্দ ও উৎসবের, অন্যদিকে তেমনি শিক্ষার্থীদের জন্য একটি ব্যবহারিক শিক্ষার ক্ষেত্র।
খাদ্য প্রদর্শনীতে শিক্ষার্থীদের সহযোগিতা করেন নার্স ইন্সপেক্টর ঐশ্বর্যপ্রাপ্তি মারাক। পুরো আয়োজনের সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন অধ্যক্ষ হাসিনা বিনতে হাসেম।
মেলায় অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা বলেন, নিজেদের হাতে খাবার তৈরি, তা সাজানো এবং প্রতিটি খাবারের পুষ্টিগুণ সম্পর্কে জানার মাধ্যমে তারা নতুন অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন। একই সঙ্গে রোগীর প্রয়োজন অনুযায়ী খাদ্য নির্বাচন সম্পর্কে বাস্তব ধারণাও পেয়েছেন।
মধুপুর নার্সিং ইনস্টিটিউট ২০১৫ সালে যাত্রা শুরু করে। এটি উত্তর টাঙ্গাইলের স্বাস্থ্যসেবা-সংশ্লিষ্ট ডিপ্লোমা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে অন্যতম। দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে শিক্ষার্থীরা এখানে নার্সিং শিক্ষা গ্রহণ করছেন। প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষার্থীরা সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী হাসপাতালে ইন্টার্নশিপের মাধ্যমে ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ নেন। ইতোমধ্যে এ প্রতিষ্ঠান থেকে শিক্ষা নিয়ে অনেকে রেজিস্টার্ড নার্স হিসেবে কর্মজীবনে প্রবেশ করেছেন; কেউ সরকারি চাকরি পেয়েছেন, আবার কেউ বিদেশেও পেশাগত দায়িত্ব পালন করছেন।
প্রতিষ্ঠানটি প্রতিষ্ঠার পেছনে স্বাস্থ্য বিভাগের সাবেক উপপরিচালক ডা. শামসুল হক, ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সাবেক অধ্যক্ষ ও শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. আনোয়ার হোসেন, ডা. মীর ফরহাদুল আলম মনি, এস. এম. রবিউল ইসলাম, মামুনুর রশীদ খোকাসহ কয়েকজনের ভূমিকা রয়েছে।
প্রতিষ্ঠার পর থেকেই জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন দিবস পালনের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের হাতে-কলমে শিক্ষা নিশ্চিত করতে নানা কর্মসূচি আয়োজন করে আসছে প্রতিষ্ঠানটি। তারই ধারাবাহিকতায় দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থীদের এবারের খাদ্য মেলা হয়ে উঠেছে শিক্ষার সঙ্গে আনন্দের এক ব্যতিক্রমী সংযোগ।
যারা আয়োজন করলেন
খাদ্য মেলার আয়োজন করেন দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থীরা। তারা হলেন—সাথী, আয়শা, শারমিন, নাঈম, সানি, সোমা, পুজা, যুথি, নাঈমা, হিমু, রুমা, মোরশেদা, সালমা, সীমা, আরজিনা, লাবন্য, নুপুর, নাহিদা ও সাহারা।
শিক্ষার্থীদের তৈরি ১৯২ ধরনের খাবারের এই আয়োজন শেষ পর্যন্ত শুধু একটি খাদ্য মেলা হয়ে থাকেনি; এটি হয়ে উঠেছে নার্সিং শিক্ষায় খাদ্য, পুষ্টি ও রোগীর পথ্য সম্পর্কে বাস্তব জ্ঞান অর্জনের একটি প্রাণবন্ত পাঠশালা।



















