মধুপুরের বিভিন্ন এলাকায় কুকুর আতঙ্ক, লাঠি হাতে চলাচল করছে মানুষ
- আপডেট সময় : ০৭:২২:২৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ৬৪ বার পড়া হয়েছে

টাঙ্গাইলের মধুপুর পৌর এলাকার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বোয়ালী, পুন্ডুরা ও দামপাড়াসহ আশপাশের এলাকায় পাগল কুকুরের ধারাবাহিক কামড়ে গত তিন দিনে অন্তত দুই ডজন নারী, পুরুষ ও শিশু আহত হয়েছেন। এতে পুরো এলাকায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। কুকুরের ভয়ে সাধারণ মানুষ লাঠি হাতে রাস্তায় চলাচল করছেন।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত মধুপুর শহীদ স্মৃতি উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যক্ষ বজলুর রশিদ খান চুন্নুসহ ২১ জন কুকুরের কামড়ে আহত হন। এছাড়া শুক্রবার বোয়ালী এলাকার রানা নামের এক যুবকসহ আরও তিন থেকে চারজন কুকুরের কামড়ে আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
এলাকাবাসী জানান, কুকুর আতঙ্কে কেউ স্বাভাবিকভাবে চলাচল করতে সাহস পাচ্ছেন না। শিশুদের বাইরে বের হতে দেওয়া হচ্ছে না। বৃহস্পতিবার অনেক অভিভাবক সন্তানদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পাঠাননি। বোয়ালী এলাকার বাসিন্দা এরশাদ হোসেন রাশেদ জানান, কুকুর আতঙ্কের কারণে তিনি শনিবার তার মেয়েকে মাদরাসায় পাঠাবেন না।
এদিকে আতঙ্কের কারণে অনেক তরুণ লাঠি হাতে রাস্তায় অবস্থান করছেন। কুকুর দেখলেই তারা লাঠি দিয়ে আঘাত করছেন। এতে সুস্থ কুকুরগুলোও আতঙ্কিত হয়ে দৌড়াচ্ছে। ফলে কোন কুকুর পাগল আর কোনটি সুস্থ—তা চিহ্নিত করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কেউ বলছেন একটি কুকুর, আবার কেউ বলছেন একাধিক কুকুর পাগল হয়েছে—এ নিয়ে এলাকাজুড়ে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে।
পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় কাজ করা কুকুর ও বিড়ালপ্রেমী খালেদুজ্জামান মানিক বলেন, সম্ভবত একটি কুকুর রেবিস ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে অথবা কোনো মা কুকুরের সব বাচ্চা মেরে ফেলা হয়েছে। এ ধরনের ঘটনায় কুকুরের আচরণে হঠাৎ আক্রমণাত্মক পরিবর্তন আসে। তখন সামনে যাকে পায় তাকেই কামড়ে পালিয়ে যায়।
তিনি আরও বলেন, একটি কুকুরের জন্য অন্য কুকুরদের তাড়িয়ে বা আঘাত করলে সব কুকুরের মধ্যে আতঙ্ক ও প্যানিক ছড়িয়ে পড়ে। এতে তাদের মধ্যে হিংস্রতা বাড়ে। সম্ভবত এ কারণেই এলাকাটিতে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। দ্রুত পাগল বা অশান্ত কুকুরটি চিহ্নিত করে আটক ও অপসারণ করা জরুরি।
এ বিষয়ে মধুপুর উপজেলা ১০০ শয্যা বিশিষ্ট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. সজীব পাল জানান, বর্তমানে কুকুরের রেবিস ভ্যাকসিন মজুত নেই। উৎপাদন সংকটের কারণে নতুন করে ভ্যাকসিন সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে না। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। তিনি বলেন, বেসরকারি খাতেও ভ্যাকসিনের সরবরাহ খুবই সীমিত, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।
এদিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক মির্জা জুবায়ের হোসেন জানান, বিষয়টি জানার সঙ্গে সঙ্গে পৌরসভার সংশ্লিষ্ট কর্মীদের এলাকায় পাঠানো হয়েছে। তবে এখনো কুকুরটি শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। মাঠপর্যায়ে নজরদারি আরও জোরদার করতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি পশুসম্পদ বিভাগকেও বিষয়টি জানানো হয়েছে। কুকুরটি আটক করা গেলে প্রয়োজনীয় ইনজেকশন দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
এ ঘটনায় এলাকাবাসী পাগল কুকুরটি দ্রুত নিয়ন্ত্রণ, আহতদের চিকিৎসা নিশ্চিত করা এবং রেবিস ভ্যাকসিন সরবরাহ স্বাভাবিক করার জন্য প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন।












