স্মরণ ও শ্রদ্ধা
মধুপুরের স্মৃতিকথা এবং সাংবাদিক আব্দুর রউফ
- আপডেট সময় : ০৯:৪০:৪১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ৭৬ বার পড়া হয়েছে

১৯৮৪ সালের কথা।মধুপুর ডিগ্রি কলেজে ভর্তি হই।প্রত্যন্ত পল্লীর একটি স্কুলে মাধ্যমিক শিক্ষা।
জামালপুর জেলার দিগপাইত ইউনিয়নের শেষ দক্ষিণ সীমান্তের তারারভিটা গ্রাম।এই গ্রামে আমার জন্ম।গ্রাম থেকে ৩কিলোমিটার পুবের রশিদপুর দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ে নবম-দশম শ্রেণিতে পড়াশোনা করেছি।থাকতাম স্কুলের পাশের গ্রাম নয়াপাড়ায়।এই গ্রামের আধা কিলোমিটার পুবে কয়ড়া নদী।নদীর ওপারেই মধুপুর গড়।স্কুলের ফাঁক -ফোকরে চলে যেতাম দোখলা-লহুরিয়ায়।কখনও রসুলপুর হয়ে মধুপুর। ঘণ শালবনের মধুপুর গড়ের দৃষ্টি নন্দন সৌন্দর্য মানুষকে যেমন আকৃষ্ট করতো তেমনি বনের প্রাণিরাজ্যের অভূতপূর্ব প্রকৃতি মানবজগতে কৌতুহল সৃষ্টি করতো।এই গড়ের সৌন্দর্যে পড়েই মধুপুর কলেজে ভর্তি হই।কলেজের তৎকালীন অধ্যক্ষ ছিলেন জনাব হেকমত আলী।গ্রামের স্কুল থেকে শহরের কলেজে ভর্তি।প্যান্ট-শার্ট পড়ার অভিজ্ঞতা নেই। লুঙ্গি টি-শার্ট পড়ে কলেজে যাওয়া আসা। ছাতারকান্দি থেকে বাসে মধুপুর যেতে হচ্ছে।কলেজ জীবনের সপ্তাহ খানিকের মধ্যেই ক্লাসে, মিছিলে-মিটিংয়ে বন্ধুত্ব গড়ে উঠে প্রয়াত খলিলুর রহমানের সাথে।ওর বাড়ি মুক্তাগাছার শেষপ্রান্ত মধুপুর গড়ের উপকূলের বানারপাড় গ্রামে।গ্রামটি বানারনদীর তীরে অবস্থিত।একদিন কলেজ শেষে ওদের গ্রামে বেড়াতে গিয়ে গ্রামটির প্রেমে আটকে যাই।এই গ্রামে থাকার ইচ্ছা প্রকাশ করায় ওর চাচার বাড়িতেই আমার লজিংয়ের ব্যবস্থা করা হয়।এরপর শহরের পরিবেশের সাথে তালমিলাতে গিয়ে প্যান্ট-শার্ট পরার অভ্যাস গড়ে উঠে। যাই হোক,কলেজের এক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে আমার উপস্থাপনায় পরিবেশিত হয় হাস্যরসাত্মক আজব খবর।ওইদিন থেকেই কলেজের সবার প্রিয় পাত্র হিসেবে পরিচিত হয়ে উঠি। সে যাই হোক,কলেজের তৎকালীন বড় ভাই প্রয়াত আব্দুর রউফের সম্পাদনায় মধুপুর থেকে প্রকাশিত হতো ‘পাক্ষিক মধুবানী’। এই পত্রিকার মাধ্যমেই আমার সাংবাদিকতার হাতে খড়ি।মাসে দুইদিন প্রকাশিত পত্রিকাটি প্রকাশ হবার পর তা বিভিন্ন জায়গায় নিয়ে নিজে হাতে বিক্রি করতাম।এতে দুটি কাজ হতো,তার একটি প্রকাশিত রিপোর্ট পাঠক জানতো, আর দ্বিতীয়টি নিজের সাংবাদিকতা জাহির হতো।ওই সময় কলেজে দুই শিক্ষক সাংবাদিকতার সাথে জড়িত।তার একজন ইংরেজি বিষয়ক অধ্যাপক গোলাম সামদানী,অন্যজন দৈনিক ইত্তেফাক পত্রিকার গোপালপুর প্রতিনিধি, কলেজের ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক জয়নাল আবেদীন স্যার।তাঁরা দুইজনেই লেখালেখিতে আমাকে উৎসাহ দিচ্ছেন। এর মাঝে ময়মনসিংহ থেকে প্রকাশিত একটি দৈনিক পত্রিকার মধুপুর প্রতিনিধি হিসেবে লেখালেখি করছি।এর পরের বছর ‘দৈনিক বাংলার বাণী’পত্রিকার মধুপুর প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করা শুরু করি।সেই থেকেই আমি সাংবাদিক। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালে বাংলার বানীর বিশ্ববিদ্যালয় রিপোর্টার, এরপর দেশের বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় কাজ করার অভিজ্ঞতা অর্জন।লেখালেখির জগতে যশ-খ্যাতি তেমন না থাকলেও যতটুকু অর্জন হয়েছে তাঁর প্রাথমিক ভিত্তি গেঁড়ে দিয়েছেন প্রয়াত সাংবাদিক আব্দুর রউফ ভাই।যিনি গত ২০২৫ সালের ২২ফ্রেবুয়ারি মারা গেছেন।এ বছর তাঁর প্রথম মৃত্যু বার্ষিকীতে আমার অফুরন্ত দোয়া রউফ ভাইয়ের বিদেহী আত্মার প্রতি।হে সাংবাদিক গুরু! আপনি বেঁচে থাকুন মানুষের মন মননে এবং আত্মার গভীরে।-আমিন
লেখক:নাট্যকার ও গবেষক




















