ঢাকা ০২:৫৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৭ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

গড়গড়িয়া লেক সংস্কার ঘিরে মধুপুরের আদিবাসীদের বিক্ষোভ ও মানববন্ধন

মধুপুর করেসপন্ডন্ট, শালবনবার্তা২৪.কম
  • আপডেট সময় : ০৯:৩৪:১৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ৫৫ বার পড়া হয়েছে

টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ আঞ্চলিক মহাসড়কের পঁচিশমাইল বাজারের তিন রাস্তার মোড়ে বৃহস্পতিবার বিকেলে গারো ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর নারী-পুরুষ ও শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ সমাবেশ ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন।

‘গড়াঞ্চলের সংক্ষুব্ধ আদিবাসী ছাত্র জনতা’ ব্যানারে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীরা অভিযোগ করেন, মধুপুরের গড়গড়িয়া লেক সংস্কারের নামে আদিবাসীদের ঐতিহ্যগত ও প্রথাগত আবাদি জমিতে বনবিভাগ জোরপূর্বক ও অবৈধভাবে মাটি ভরাট করছে। এর প্রতিবাদেই তারা এ সমাবেশ ও মানববন্ধন আয়োজন করেন। অবিলম্বে তারা বনবিভাগের এ কর্মসূচি বন্ধের দাবি করেন।

বৃহস্পতিবা বিকেল সাড়ে ৪টা থেকে সোয়া ৫টা পর্যন্ত চলা কর্মসূচিতে সভাপতিত্ব করেন টাঙ্গাইল বার সমিতির সদ্য নির্বাচিত একমাত্র গারো প্রতিনিধি সদস্য অ্যাডভোকেট জনযেত্রা।

জিএসএফ কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক লিয়াং রিছিল সঞ্চালনায় কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ গারো ছাত্র সংগঠন (বাগাছাস), কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক অলিক মৃ, বাংলাদেশ আদিবাসী যুব ফোরামের সভাপতি টনি ম্যাটিউ চিরান, জিএসএফ, কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি প্রলয় নকরেক, বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের শিক্ষা ও সাহিত্য সম্পাদক উজ্জ্বল আজিম, মধুপুর উপজেলা কোচ আদিবাসী সংগঠনের সভাপতি গৌরাঙ্গ বর্মন, ,

বক্তারা বলেন, গড়াঞ্চলের আদিবাসীরা দীর্ঘদিন ধরে প্রথাগতভাবে যে জমিতে আবাদ করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছেন, সেখানে তাদের সঙ্গে আলোচনা ছাড়াই কাজ শুরু করা হয়েছে। তারা অবিলম্বে মাটি ভরাট বন্ধ, সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে সমাধান এবং আদিবাসীদের ভূমি অধিকারের স্বীকৃতি দাবি করেন।
সমাবেশ শেষে একটি সংক্ষিপ্ত বিক্ষোভ মিছিল মহাসড়কের আশপাশ প্রদক্ষিণ করে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে টাঙ্গাইলের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা ড. আবু নাসের মোহাম্মদ মোহসিন হোসেন মোবাইল ফোনে বলেন, আদিবাসীদের উত্থাপিত দাবি অযৌক্তিক ও ভিত্তিহীন। তিনি জানান, শুষ্ক মৌসুমে গড়গড়িয়া লেকে পানি থাকে না। তাই লেকটি পুনরুদ্ধার ও সংরক্ষণের লক্ষ্যে সংস্কার কাজ শুরু করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, সম্প্রতি সংস্কার কাজের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জয়েনশাহী আদিবাসী উন্নয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইউজিন নকরেকসহ গারো নেতৃবৃন্দ, বন সংশ্লিষ্ট সংগঠনের প্রতিনিধি ও রাজনৈতিক নেতারা উপস্থিত ছিলেন। সংশ্লিষ্ট স্থানে কোনো ব্যক্তির মালিকানাধীন জমি নেই এবং উপস্থিত সবার সম্মতিতেই কাজ শুরু করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!

গড়গড়িয়া লেক সংস্কার ঘিরে মধুপুরের আদিবাসীদের বিক্ষোভ ও মানববন্ধন

আপডেট সময় : ০৯:৩৪:১৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ আঞ্চলিক মহাসড়কের পঁচিশমাইল বাজারের তিন রাস্তার মোড়ে বৃহস্পতিবার বিকেলে গারো ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর নারী-পুরুষ ও শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ সমাবেশ ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন।

‘গড়াঞ্চলের সংক্ষুব্ধ আদিবাসী ছাত্র জনতা’ ব্যানারে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীরা অভিযোগ করেন, মধুপুরের গড়গড়িয়া লেক সংস্কারের নামে আদিবাসীদের ঐতিহ্যগত ও প্রথাগত আবাদি জমিতে বনবিভাগ জোরপূর্বক ও অবৈধভাবে মাটি ভরাট করছে। এর প্রতিবাদেই তারা এ সমাবেশ ও মানববন্ধন আয়োজন করেন। অবিলম্বে তারা বনবিভাগের এ কর্মসূচি বন্ধের দাবি করেন।

বৃহস্পতিবা বিকেল সাড়ে ৪টা থেকে সোয়া ৫টা পর্যন্ত চলা কর্মসূচিতে সভাপতিত্ব করেন টাঙ্গাইল বার সমিতির সদ্য নির্বাচিত একমাত্র গারো প্রতিনিধি সদস্য অ্যাডভোকেট জনযেত্রা।

জিএসএফ কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক লিয়াং রিছিল সঞ্চালনায় কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ গারো ছাত্র সংগঠন (বাগাছাস), কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক অলিক মৃ, বাংলাদেশ আদিবাসী যুব ফোরামের সভাপতি টনি ম্যাটিউ চিরান, জিএসএফ, কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি প্রলয় নকরেক, বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের শিক্ষা ও সাহিত্য সম্পাদক উজ্জ্বল আজিম, মধুপুর উপজেলা কোচ আদিবাসী সংগঠনের সভাপতি গৌরাঙ্গ বর্মন, ,

বক্তারা বলেন, গড়াঞ্চলের আদিবাসীরা দীর্ঘদিন ধরে প্রথাগতভাবে যে জমিতে আবাদ করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছেন, সেখানে তাদের সঙ্গে আলোচনা ছাড়াই কাজ শুরু করা হয়েছে। তারা অবিলম্বে মাটি ভরাট বন্ধ, সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে সমাধান এবং আদিবাসীদের ভূমি অধিকারের স্বীকৃতি দাবি করেন।
সমাবেশ শেষে একটি সংক্ষিপ্ত বিক্ষোভ মিছিল মহাসড়কের আশপাশ প্রদক্ষিণ করে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে টাঙ্গাইলের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা ড. আবু নাসের মোহাম্মদ মোহসিন হোসেন মোবাইল ফোনে বলেন, আদিবাসীদের উত্থাপিত দাবি অযৌক্তিক ও ভিত্তিহীন। তিনি জানান, শুষ্ক মৌসুমে গড়গড়িয়া লেকে পানি থাকে না। তাই লেকটি পুনরুদ্ধার ও সংরক্ষণের লক্ষ্যে সংস্কার কাজ শুরু করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, সম্প্রতি সংস্কার কাজের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জয়েনশাহী আদিবাসী উন্নয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইউজিন নকরেকসহ গারো নেতৃবৃন্দ, বন সংশ্লিষ্ট সংগঠনের প্রতিনিধি ও রাজনৈতিক নেতারা উপস্থিত ছিলেন। সংশ্লিষ্ট স্থানে কোনো ব্যক্তির মালিকানাধীন জমি নেই এবং উপস্থিত সবার সম্মতিতেই কাজ শুরু করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।