শ্রদ্ধাঞ্জলি
এমএ রউফ ভাই প্রয়াণের এক বছর
- আপডেট সময় : ০৯:৪৪:১৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ৬২ বার পড়া হয়েছে

মধুপুরের প্রান্তিক সাংবাদিকতার ইতিহাসে এক উজ্জ্বল নাম এম এ রউফ। তিনি শুধু একজন সংবাদকর্মীই নন, ছিলেন এ জনপদের সাহসী কণ্ঠস্বর, সংস্কৃতি-মনস্ক সংগঠক এবং আলোকিত সমাজ গড়ার কারিগর।
১৯৯০-এর দশকে পাক্ষিক ‘মধুসাহিত্য’ প্রকাশের মাধ্যমে তিনি স্থানীয় সাংবাদিকতা ও সাহিত্যচর্চায় নতুন দিগন্তের সূচনা করেন। পরবর্তীতে সেটিকে পাক্ষিক ‘মধুবাণী’ সংবাদপত্র হিসেবে প্রকাশ করে মধুপুরে নিবন্ধিত প্রথম সংবাদপত্রের গৌরব অর্জন করেন। উপজেলা পর্যায়ে এমন উদ্যোগ সে সময় ছিল সত্যিই সাহসী ও দৃষ্টান্তমূলক। এম এ রউফ নামের আগে ‘সাংবাদিক’ শব্দটি তাই কেবল পেশাগত পরিচয় নয়, ছিল তাঁর জীবনদর্শনের অংশ।
সাংবাদিকতার পাশাপাশি সাহিত্য ও সংস্কৃতি বিকাশে তাঁর অবদান স্মরণীয়। মধুপুরে প্রথম বইমেলা চালুর অন্যতম কারিগর হিসেবে তিনি নতুন প্রজন্মকে বইমুখী করতে নিরলস পরিশ্রম করেছেন। নির্লোভ, নিরহংকার ও সাদামাটা জীবনযাপনের জন্য তিনি সবার কাছে ছিলেন শ্রদ্ধার পাত্র। মধুপুর পৌর শহরে অনেকে সম্মানের আসনে রেখে তাঁকে ‘বস্’ বলে ডাকতেন—যা ছিল তাঁর নেতৃত্ব ও গ্রহণযোগ্যতার স্বীকৃতি।
দেশে বিদেশে অবস্থানকরা ভক্ত ভাব শিষ্যরা তাঁর প্রয়াণে ব্যথিত হয়েছেন। কষ্ট পেয়ে স্মৃতি সাঁতরিয়ে তাঁকে স্মরণ ও বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করেছেন। এমনি একজন আমাদের মধুপুরের কৃতি সন্তান সুইডিশসহ বিভিন্ন ভাষার কবি ও সাহিত্যিক নাট্যকার আনিসুর রহমান। তিনি সুইডেন থেকে প্রথম মৃত্যু বার্ষিকীতে প্রয়াত এমএ রউফ ভাই কে স্মরণ করতে গিয়ে লিখেছেন,
“এম এ রউফ, আমাদের রউফ ভাই, সকল বিতর্ক ছাপিয়ে দেশের প্রান্তিক সাংবাদিকতায় মধুপুরের অগ্রণী কণ্ঠস্বর হিসেবে আলোচনায় বারবার ফিরে আসবেন! আমি তাঁর কাজ কাছে থেকে পর্যবেক্ষণ করার সুযোগ পেয়েছিলাম! তাঁর কিছু কাজের সঙ্গে আমার সমর্থন ও সহমত থাকেনি অনেক সময়! এটা তিনি বুঝতেন! এই বাস্তবতাকে তিনি তারুণ্যের দ্রোহ হিসেবে দেখতেন! তাঁর সঙ্গে নানা বিষয়ে নৈতিক অবস্থানে আমার ভিন্নতা থাকলেও তারুণ্যের প্রাক্কালে কৈশোরে স্কুলের ছাত্র থাকা অবস্থায় তাঁর কাছ থেকে সংবাদমাধ্যম বিষয়ে জানার সুযোগ পেয়েছিলাম! তিনি আমার যে কোন উদ্যোগে উদার উৎসাহে সায় দিতেন! তাঁর স্মরণে আজ এই ঋণ কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ করছি!”
আমাদের এই এমএ রউফ ভাই। গত বছর ২২ ফেব্রুয়ারি তিনি আমাদের ছেড়ে অনন্তের পথে পাড়ি জমান। তাঁর প্রস্থান মধুপুরের সাংবাদিকতা ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে এক অপূরণীয় শূন্যতার সৃষ্টি করেছে। মৃত্যুবার্ষিকীতে আমরা গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করি এই আলোকিত মানুষকে।
মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, দুই মেয়ে, এক ছেলে, অসংখ্য স্বজন, শিষ্য ও শুভাকাঙ্ক্ষী রেখে গেছেন। তাঁর কর্ম, আদর্শ ও সাহসী উচ্চারণ প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে অনুপ্রেরণা হয়ে বেঁচে থাকবে।
শালবনবার্তাটোয়েন্টিফোর ডট কমের পক্ষ থেকে এম এ রউফের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকীতে গভীর শ্রদ্ধা।




















