ঢাকা ০৬:১৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ ২০২৬, ৩ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

চৈত্রের শুরুতেই ঝড়-বৃষ্টিতে লণ্ডভণ্ড মধুপুর: ব্যাপক ক্ষতিতে কলা চাষিরা

মধুপুর করেসপন্ডেন্ট শালবনবার্তাটোয়েন্টিফোরডটকম
  • আপডেট সময় : ০২:২৫:১৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ ২০২৬ ৬৭ বার পড়া হয়েছে

চৈত্রের শুরুতেই আকস্মিক ঝড়-বৃষ্টিতে টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলায় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে কলাসহ বিভিন্ন ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ঝড়ে ঘরের দেয়াল ধসে পড়ে একই পরিবারের দুই শিশু আহত হয়েছে।
রবিবার (১৫ মার্চ) রাত সাড়ে ১০টার দিকে শুরু হওয়া দমকা হাওয়া ও স্বল্পস্থায়ী বৃষ্টিতে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় এ ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটে।
আহতরা হলেন শোলাকুড়ী ইউনিয়নের মধ্যপাড়া গ্রামের দিনমজুর আকতার হোসেনের ছেলে পরান হোসেন (৬) ও মেয়ে আরিফা (১৩)। তারা যথাক্রমে প্রথম ও ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী। বর্তমানে তারা ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঝড়ের সময় আকতার হোসেনের ঘরের ওপর একটি আমগাছ উপড়ে পড়ে। এতে ঘরের চাল ও মাটির দেয়াল ধসে ঘুমন্ত শিশুদের ওপর পড়ে যায়। এতে দুই ভাইবোনের পা ভেঙে যায় এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত লাগে। দিনমজুর হওয়ায় তাদের চিকিৎসার ব্যয় বহন করা পরিবারটির জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে।
এদিকে ঝড়ে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন কলা চাষিরা। উপজেলার অরণখোলা, বেরিবাইদ, শোলাকুড়ী, ফুলবাগচালা ও আউশনারা ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রাম ঘুরে দেখা গেছে, অসংখ্য কলা গাছ ভেঙে মাটিতে লুটিয়ে পড়েছে। এতে কৃষকদের স্বপ্ন এক রাতেই ভেঙে চুরমার হয়ে গেছে।
অরণখোলা ইউনিয়নের আমলিতলা এলাকার নতুন কৃষি উদ্যোক্তা শাহীন আলম জানান, তার প্রায় দুই হাজারের বেশি কলা গাছ ছিল, যার অধিকাংশই ঝড়ে ভেঙে গেছে।
একই এলাকার কৃষক সোলাইমান বলেন, ঋণ নিয়ে কলা চাষ করেছিলেন। কিন্তু ঝড়ে সব শেষ হয়ে যাওয়ায় এখন ঋণের টাকা পরিশোধ করা নিয়েই দুশ্চিন্তায় পড়েছেন।
বেরিবাইদ ইউনিয়নের জাঙ্গালিয়া এলাকার কৃষক শরীফ মিয়া জানান, তার প্রায় চার হাজার কলা গাছের অধিকাংশই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একই এলাকার নাছির উদ্দীন ও রুবেল মিয়ার বাগানও ঝড়ে তছনছ হয়ে গেছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, চৈত্রের শুরুতেই এমন ঝড় অস্বাভাবিক। রাতের অন্ধকারে ক্ষয়ক্ষতির পুরো চিত্র বোঝা সম্ভব হয়নি। তবে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ক্ষতির পরিমাণ অনেক বেশি।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রকিব আল রানা বলেন, ঝড়ের কারণে কলা বাগানে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। মাঠ পর্যায়ে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে। ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
তিনি আরও জানান, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পুনর্বাসনের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!

চৈত্রের শুরুতেই ঝড়-বৃষ্টিতে লণ্ডভণ্ড মধুপুর: ব্যাপক ক্ষতিতে কলা চাষিরা

আপডেট সময় : ০২:২৫:১৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ ২০২৬

চৈত্রের শুরুতেই আকস্মিক ঝড়-বৃষ্টিতে টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলায় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে কলাসহ বিভিন্ন ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ঝড়ে ঘরের দেয়াল ধসে পড়ে একই পরিবারের দুই শিশু আহত হয়েছে।
রবিবার (১৫ মার্চ) রাত সাড়ে ১০টার দিকে শুরু হওয়া দমকা হাওয়া ও স্বল্পস্থায়ী বৃষ্টিতে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় এ ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটে।
আহতরা হলেন শোলাকুড়ী ইউনিয়নের মধ্যপাড়া গ্রামের দিনমজুর আকতার হোসেনের ছেলে পরান হোসেন (৬) ও মেয়ে আরিফা (১৩)। তারা যথাক্রমে প্রথম ও ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী। বর্তমানে তারা ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঝড়ের সময় আকতার হোসেনের ঘরের ওপর একটি আমগাছ উপড়ে পড়ে। এতে ঘরের চাল ও মাটির দেয়াল ধসে ঘুমন্ত শিশুদের ওপর পড়ে যায়। এতে দুই ভাইবোনের পা ভেঙে যায় এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত লাগে। দিনমজুর হওয়ায় তাদের চিকিৎসার ব্যয় বহন করা পরিবারটির জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে।
এদিকে ঝড়ে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন কলা চাষিরা। উপজেলার অরণখোলা, বেরিবাইদ, শোলাকুড়ী, ফুলবাগচালা ও আউশনারা ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রাম ঘুরে দেখা গেছে, অসংখ্য কলা গাছ ভেঙে মাটিতে লুটিয়ে পড়েছে। এতে কৃষকদের স্বপ্ন এক রাতেই ভেঙে চুরমার হয়ে গেছে।
অরণখোলা ইউনিয়নের আমলিতলা এলাকার নতুন কৃষি উদ্যোক্তা শাহীন আলম জানান, তার প্রায় দুই হাজারের বেশি কলা গাছ ছিল, যার অধিকাংশই ঝড়ে ভেঙে গেছে।
একই এলাকার কৃষক সোলাইমান বলেন, ঋণ নিয়ে কলা চাষ করেছিলেন। কিন্তু ঝড়ে সব শেষ হয়ে যাওয়ায় এখন ঋণের টাকা পরিশোধ করা নিয়েই দুশ্চিন্তায় পড়েছেন।
বেরিবাইদ ইউনিয়নের জাঙ্গালিয়া এলাকার কৃষক শরীফ মিয়া জানান, তার প্রায় চার হাজার কলা গাছের অধিকাংশই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একই এলাকার নাছির উদ্দীন ও রুবেল মিয়ার বাগানও ঝড়ে তছনছ হয়ে গেছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, চৈত্রের শুরুতেই এমন ঝড় অস্বাভাবিক। রাতের অন্ধকারে ক্ষয়ক্ষতির পুরো চিত্র বোঝা সম্ভব হয়নি। তবে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ক্ষতির পরিমাণ অনেক বেশি।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রকিব আল রানা বলেন, ঝড়ের কারণে কলা বাগানে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। মাঠ পর্যায়ে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে। ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
তিনি আরও জানান, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পুনর্বাসনের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হবে।