ঢাকা ১০:৫১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১০ জানুয়ারি ২০২৬, ২৭ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

স্বামীর বিরুদ্ধে স্ত্রীকে হত্যা করে ঝুলিয়ে রাখার অভিযোগ

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট শালবনবার্তাটোয়েন্টিফোর.কম
  • আপডেট সময় : ১০:৩০:৫৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৯ জানুয়ারি ২০২৬ ১০০৫ বার পড়া হয়েছে

টাঙ্গাইল জেলার মধুপুর উপজেলার কুড়ালিয়া ইউনিয়নের ধলপুর বেপারি পাড়া এলাকার আলমগীর নামের এক স্বামীর বিরুদ্ধে তন্নি আক্তার ওরফে শান্তা(২৭) নামের স্ত্রীকে খুন করে ঝুলিয়ে রাখার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার পর স্বামীসহ দ্বিতীয় স্ত্রী পালিয়েছে। পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে।

এ ঘটনায় হত্যা মামলা রুজু এবং স্বামীর বড় ভাই, এক বোন ও এক ভাবী কে আটক করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। মধুপুর থানার ওসি জাফর ইকবাল এমন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
প্রতিবেশী ও পুলিশ সূত্র জানায়, গত রাতে বাড়ি থেকে ঝগড়া-বিবাদের শব্দ শোনা যায়। সকালে শান্তার মৃত্যুর বিষয়টি জানাজানি হলে তারা ঘরের ভেতরে বিছানার ওপর শান্তা আক্তারের রক্তাক্ত লাশ পড়ে থাকতে দেখেন। পরে মধুপুর থানা পুলিশকে খবর দেওয়া হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে।
ঘটনার সাথে জড়িত সন্দেহে আলমগীরের বড় ভাই আলহাজ উদ্দিন, বোন আলেয়া আন্না, ভাবী হাসনা বেগমকে পুলিশ আটক করেছে।

পারিবারিক সূত্র জানায়, আলমগীর ধলপুর গ্রামের জনৈক আবদুল খালেকের ছেলে। গত ১২/১৪ বছর আগে জামালপুর সদর উপজেলার গুড়াদাব ইউনিয়নের নিশিন্তাপাড়া গ্রামের দর্জি সবুজ মিয়ার মেয়ে শান্তাকে সে বিয়ে করে। সংসারে তাদের দুই মেয়ে রয়েছে। এর মধ্যে গত ৭ মাস আগে পরকীয়া করে আলমগীর দ্বিতীয় বিয়ে করে তাকে ঘরে তুলে। এ নিয়ে সংসারে অশান্তি শুরু হয়। শান্তার উপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করে। নতুন বিয়ের তিন মাসের মাথায় স্বামী আলমগীরের কাছ থেকে ডিভোর্স পেয়ে দুঃখে কষ্টে বাড়িতে চলে যায়। তিনদিন পর আলমগীর শান্তাদের বাড়িতে গিয়ে তাকে নিয়েই সংসার করবে, দ্বিতীয় স্ত্রীকে ছেড়ে দিবে এমন প্রতিশ্রুতিতে সবাইকে আশ্বস্ত করে শান্তাকে দ্বিতীয়বারের মতো কাবিনে বিয়ে করে বাড়িতে নিয়ে আসে। কিন্তু গত দুই মাসে দ্বিতীয় স্ত্রীকে না ছেড়ে বাড়িতেই রেখে দেয়ায় অশান্তি নতুন করে শুরু হয়। এমনি পারিবারিক কলহের জেরে বৃহস্পতিবার রাতে আলমগীর হোসেন তার দ্বিতীয় স্ত্রীকে নিয়ে দেশীয় অস্ত্র (ছুরি) দিয়ে শান্তা আক্তারের গলা ও বা হাতের রগ কেটে হত্যা করে। ঘটনা ধামাচাপা দিতে পরিবারের অপরাপর স্বজনদের সহায়তায় লাশ ঘরে ঝুলিয়ে রাখার অভিযোগ উঠেছে আলমগীরসহ পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে।
নিহত শান্তা আক্তারের বাবা সবুজ, মা শাহনাজ অভিযোগ করেন, শ্বশুরবাড়ির লোকজন পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যা করেছে।
ওসি জাফর ইকবাল জানান, শান্তার বাবা সবুজ বাদী হয়ে হত্যা মামলা করেছেন। আটকদের আদালতে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার পর থেকেই স্বামী আলমগীর হোসেন দ্বিতীয় স্ত্রীসহ পলাতক রয়েছে। তাদের আটক করার চেষ্ট চলছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!

স্বামীর বিরুদ্ধে স্ত্রীকে হত্যা করে ঝুলিয়ে রাখার অভিযোগ

আপডেট সময় : ১০:৩০:৫৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৯ জানুয়ারি ২০২৬

টাঙ্গাইল জেলার মধুপুর উপজেলার কুড়ালিয়া ইউনিয়নের ধলপুর বেপারি পাড়া এলাকার আলমগীর নামের এক স্বামীর বিরুদ্ধে তন্নি আক্তার ওরফে শান্তা(২৭) নামের স্ত্রীকে খুন করে ঝুলিয়ে রাখার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার পর স্বামীসহ দ্বিতীয় স্ত্রী পালিয়েছে। পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে।

এ ঘটনায় হত্যা মামলা রুজু এবং স্বামীর বড় ভাই, এক বোন ও এক ভাবী কে আটক করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। মধুপুর থানার ওসি জাফর ইকবাল এমন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
প্রতিবেশী ও পুলিশ সূত্র জানায়, গত রাতে বাড়ি থেকে ঝগড়া-বিবাদের শব্দ শোনা যায়। সকালে শান্তার মৃত্যুর বিষয়টি জানাজানি হলে তারা ঘরের ভেতরে বিছানার ওপর শান্তা আক্তারের রক্তাক্ত লাশ পড়ে থাকতে দেখেন। পরে মধুপুর থানা পুলিশকে খবর দেওয়া হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে।
ঘটনার সাথে জড়িত সন্দেহে আলমগীরের বড় ভাই আলহাজ উদ্দিন, বোন আলেয়া আন্না, ভাবী হাসনা বেগমকে পুলিশ আটক করেছে।

পারিবারিক সূত্র জানায়, আলমগীর ধলপুর গ্রামের জনৈক আবদুল খালেকের ছেলে। গত ১২/১৪ বছর আগে জামালপুর সদর উপজেলার গুড়াদাব ইউনিয়নের নিশিন্তাপাড়া গ্রামের দর্জি সবুজ মিয়ার মেয়ে শান্তাকে সে বিয়ে করে। সংসারে তাদের দুই মেয়ে রয়েছে। এর মধ্যে গত ৭ মাস আগে পরকীয়া করে আলমগীর দ্বিতীয় বিয়ে করে তাকে ঘরে তুলে। এ নিয়ে সংসারে অশান্তি শুরু হয়। শান্তার উপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করে। নতুন বিয়ের তিন মাসের মাথায় স্বামী আলমগীরের কাছ থেকে ডিভোর্স পেয়ে দুঃখে কষ্টে বাড়িতে চলে যায়। তিনদিন পর আলমগীর শান্তাদের বাড়িতে গিয়ে তাকে নিয়েই সংসার করবে, দ্বিতীয় স্ত্রীকে ছেড়ে দিবে এমন প্রতিশ্রুতিতে সবাইকে আশ্বস্ত করে শান্তাকে দ্বিতীয়বারের মতো কাবিনে বিয়ে করে বাড়িতে নিয়ে আসে। কিন্তু গত দুই মাসে দ্বিতীয় স্ত্রীকে না ছেড়ে বাড়িতেই রেখে দেয়ায় অশান্তি নতুন করে শুরু হয়। এমনি পারিবারিক কলহের জেরে বৃহস্পতিবার রাতে আলমগীর হোসেন তার দ্বিতীয় স্ত্রীকে নিয়ে দেশীয় অস্ত্র (ছুরি) দিয়ে শান্তা আক্তারের গলা ও বা হাতের রগ কেটে হত্যা করে। ঘটনা ধামাচাপা দিতে পরিবারের অপরাপর স্বজনদের সহায়তায় লাশ ঘরে ঝুলিয়ে রাখার অভিযোগ উঠেছে আলমগীরসহ পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে।
নিহত শান্তা আক্তারের বাবা সবুজ, মা শাহনাজ অভিযোগ করেন, শ্বশুরবাড়ির লোকজন পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যা করেছে।
ওসি জাফর ইকবাল জানান, শান্তার বাবা সবুজ বাদী হয়ে হত্যা মামলা করেছেন। আটকদের আদালতে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার পর থেকেই স্বামী আলমগীর হোসেন দ্বিতীয় স্ত্রীসহ পলাতক রয়েছে। তাদের আটক করার চেষ্ট চলছে।