ঢাকা ০৭:৫১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২৬ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

টাঙ্গাইল -১

স্বতন্ত্র প্রার্থীর নারী কর্মীদের ভোট চাইতে বাধা, হেনস্তার অভিযোগ, প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন

ধনবাড়ী করেসপন্ডেন্ট শালবনবার্তা২৪. কম
  • আপডেট সময় : ০৬:৪৬:৫৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ২৩ বার পড়া হয়েছে

টাঙ্গাইল -১ (মধুপুর ও ধনবাড়ী) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) আসাদুল ইসলাম আজাদের নারী কর্মীদের ভোট প্রার্থনায় বিএনপির ধানের শীষের কর্মীেদর বিরুদ্ধে বাধা দেয়া এবং শারীরিক হেনেস্তার অভিযোগ উঠেছে। এর প্রতিবাদে শনিবার বেলা দুইটার দিকে ধনবাড়ী পৌর শহরের কর্নেল আজাদ সমর্থক গোষ্ঠী কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলন করেন হেনেস্থার শিকার নারী কর্মীরা। এতে সভাপতিত্ব করেন সংগঠেনর কেন্দ্রীয় কমিটির আহবায়ক আবুল কালাম আজাদ।

সংবাদ সম্মেলনে হেনেস্তার শিকার নারী কর্মী মীরা খন্দকার অভিযোগ করেন, শনিবার সকাল ১০ টার দিকে ধনবাড়ী পৌর এলাকার ৪ নং ওয়ার্ডের নবাব বাড়ির শাহী মসজিদের দক্ষিণ এলাকায় ভোটাদের কাছে স্বতন্ত্র প্রার্থী লে.কর্নেল (অব.) আসাদুল ইসলাম আজাদের তালা মার্কায় ভোট চাইতে গেলে ধানের শীষের কর্মী বিএনপি নেতা পলাশ তাদের বাধা দেন। ফোন করে আরও কর্মী ডেকে এনে প্রায় এক ঘন্টা তাদের কাজে অব্যাহতভাবে বাধা সৃষ্টি করেন এবং ১১ টার দিকে ছাত্রদল নেতা সাগর,বিএনপির জাহাঙ্গীর, বাবলা, ইনসানসহ অনেকে তাদের হেনস্তা করেন। বাজে গালিগালাজ করেন। গায়ের ওড়না টেনে নেন, হিজাব খুলে ফেলেন। বোরখা ধরে টানাটানি করেন। তালায় ভোট না চেয়ে ধানের শীষে ভোট চাওয়ার হুকুম দেন। একই দিনে একই উপজেলা ধনবাড়ীর পাইস্কা ইউনিয়নের কয়ডা এলাকার ধুঁকেরকুলে প্রচার কাজে গিয়ে আয়েশা, রিমারা স্থানীয় বিএনপি কর্মীদের দ্বারা প্রচারে বাধাগ্রস্ত হয়েছেন। তারা অভিযোগ করেন, দুইদিন আগে বৃহস্পতিবার বটতলাতে তাদের সাথে খারাপ আচরণ করেছেন আব্দুল করিম নামের স্থানীয় ব্যক্তি। তিনিও বিএনপি করেন।

লিপি সরকার নামের এক নারী কর্মীর অভিযোগ, তালা মার্কার নির্বাচন করার কারণে তার স্বামী ফরিদের ধনবাড়ীর পরিবহণ সেক্টরের চাকির থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। বিলাসপুরের কাশেম, লাভলু খারাপ আচরণ, হুমকি ধমকি দিয়েছেন।

সংবাদ সম্মেলনের সভাপতি আবুল কালাম আজাদ জানান, একই দিন(শনিবার) মধুপুর উপজেলার কুড়ালিয়ার ধলপুর,কুড়াগাছার মালির বাজার নারী কর্মীদের বাধা প্রদান, শোলাকুড়িতে মোজাম্মেল মাস্টারের কাছ থেকে নারী এজেন্টদের সংগৃহিত কাগজপত্র ছিনিয়ে নিয়েছেন স্থানীয় এক কৃষক দলের নেতা। গোলাবাড়ীতে অফিস ভাংচুর, ব্যানার ছিঁড়ে ফেলার ঘটনা ঘটেছে। ধনবাড়ীর লক্ষীপুরে প্রার্থীর স্ত্রীর প্রচার কাজে বাধা দেয়া হয়েছে।

তিনি সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কাছে নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ দাবি করেন। প্রতিপক্ষ প্রার্থী ও তার কর্মীদের সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে সহাবস্থানে থাকার প্রত্যাশা করেন। অন্যথায় জনগণকে সাথে নিয়ে এ কর্মকান্ডের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ করার হুশিয়ারী দেন।

স্বতন্ত্র প্রার্থী লে.কর্নেল (অব.)আসাদুল ইসলাম আজাদের বড় ভাই আশরাফুল ইসলাম মাসুদ জানান, এ সব বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে লিখিতভাবে অভিযোগ দেয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

এদিকে ধনবাড়ী বিএনপির নেতাকর্মীরা উপজেলা কার্যালয়ে সাংবাদিকদের ডেকে নিয়ে তালার পক্ষের সংবাদ সম্মেলনের জবাবে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। সেখানে উপস্থিত উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম মহব্বত,

ধনবাড়ী পৌর বিএনপি’র সভাপতি এসএম ছোবহান, বিএনপি কর্মী ইছা, পলাশ, বাবলাসহ অন্যান্যরা জানান, তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ অসত্য, ভিত্তিহীন। এলাকায় টাকা দিয়ে ভোট কেনার অপচেষ্টাকে থামানো হয়েছে। নারীদের নাজেহাল করার কোনো ঘটনা ঘটেনি।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!

টাঙ্গাইল -১

স্বতন্ত্র প্রার্থীর নারী কর্মীদের ভোট চাইতে বাধা, হেনস্তার অভিযোগ, প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন

আপডেট সময় : ০৬:৪৬:৫৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

টাঙ্গাইল -১ (মধুপুর ও ধনবাড়ী) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) আসাদুল ইসলাম আজাদের নারী কর্মীদের ভোট প্রার্থনায় বিএনপির ধানের শীষের কর্মীেদর বিরুদ্ধে বাধা দেয়া এবং শারীরিক হেনেস্তার অভিযোগ উঠেছে। এর প্রতিবাদে শনিবার বেলা দুইটার দিকে ধনবাড়ী পৌর শহরের কর্নেল আজাদ সমর্থক গোষ্ঠী কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলন করেন হেনেস্থার শিকার নারী কর্মীরা। এতে সভাপতিত্ব করেন সংগঠেনর কেন্দ্রীয় কমিটির আহবায়ক আবুল কালাম আজাদ।

সংবাদ সম্মেলনে হেনেস্তার শিকার নারী কর্মী মীরা খন্দকার অভিযোগ করেন, শনিবার সকাল ১০ টার দিকে ধনবাড়ী পৌর এলাকার ৪ নং ওয়ার্ডের নবাব বাড়ির শাহী মসজিদের দক্ষিণ এলাকায় ভোটাদের কাছে স্বতন্ত্র প্রার্থী লে.কর্নেল (অব.) আসাদুল ইসলাম আজাদের তালা মার্কায় ভোট চাইতে গেলে ধানের শীষের কর্মী বিএনপি নেতা পলাশ তাদের বাধা দেন। ফোন করে আরও কর্মী ডেকে এনে প্রায় এক ঘন্টা তাদের কাজে অব্যাহতভাবে বাধা সৃষ্টি করেন এবং ১১ টার দিকে ছাত্রদল নেতা সাগর,বিএনপির জাহাঙ্গীর, বাবলা, ইনসানসহ অনেকে তাদের হেনস্তা করেন। বাজে গালিগালাজ করেন। গায়ের ওড়না টেনে নেন, হিজাব খুলে ফেলেন। বোরখা ধরে টানাটানি করেন। তালায় ভোট না চেয়ে ধানের শীষে ভোট চাওয়ার হুকুম দেন। একই দিনে একই উপজেলা ধনবাড়ীর পাইস্কা ইউনিয়নের কয়ডা এলাকার ধুঁকেরকুলে প্রচার কাজে গিয়ে আয়েশা, রিমারা স্থানীয় বিএনপি কর্মীদের দ্বারা প্রচারে বাধাগ্রস্ত হয়েছেন। তারা অভিযোগ করেন, দুইদিন আগে বৃহস্পতিবার বটতলাতে তাদের সাথে খারাপ আচরণ করেছেন আব্দুল করিম নামের স্থানীয় ব্যক্তি। তিনিও বিএনপি করেন।

লিপি সরকার নামের এক নারী কর্মীর অভিযোগ, তালা মার্কার নির্বাচন করার কারণে তার স্বামী ফরিদের ধনবাড়ীর পরিবহণ সেক্টরের চাকির থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। বিলাসপুরের কাশেম, লাভলু খারাপ আচরণ, হুমকি ধমকি দিয়েছেন।

সংবাদ সম্মেলনের সভাপতি আবুল কালাম আজাদ জানান, একই দিন(শনিবার) মধুপুর উপজেলার কুড়ালিয়ার ধলপুর,কুড়াগাছার মালির বাজার নারী কর্মীদের বাধা প্রদান, শোলাকুড়িতে মোজাম্মেল মাস্টারের কাছ থেকে নারী এজেন্টদের সংগৃহিত কাগজপত্র ছিনিয়ে নিয়েছেন স্থানীয় এক কৃষক দলের নেতা। গোলাবাড়ীতে অফিস ভাংচুর, ব্যানার ছিঁড়ে ফেলার ঘটনা ঘটেছে। ধনবাড়ীর লক্ষীপুরে প্রার্থীর স্ত্রীর প্রচার কাজে বাধা দেয়া হয়েছে।

তিনি সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কাছে নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ দাবি করেন। প্রতিপক্ষ প্রার্থী ও তার কর্মীদের সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে সহাবস্থানে থাকার প্রত্যাশা করেন। অন্যথায় জনগণকে সাথে নিয়ে এ কর্মকান্ডের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ করার হুশিয়ারী দেন।

স্বতন্ত্র প্রার্থী লে.কর্নেল (অব.)আসাদুল ইসলাম আজাদের বড় ভাই আশরাফুল ইসলাম মাসুদ জানান, এ সব বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে লিখিতভাবে অভিযোগ দেয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

এদিকে ধনবাড়ী বিএনপির নেতাকর্মীরা উপজেলা কার্যালয়ে সাংবাদিকদের ডেকে নিয়ে তালার পক্ষের সংবাদ সম্মেলনের জবাবে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। সেখানে উপস্থিত উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম মহব্বত,

ধনবাড়ী পৌর বিএনপি’র সভাপতি এসএম ছোবহান, বিএনপি কর্মী ইছা, পলাশ, বাবলাসহ অন্যান্যরা জানান, তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ অসত্য, ভিত্তিহীন। এলাকায় টাকা দিয়ে ভোট কেনার অপচেষ্টাকে থামানো হয়েছে। নারীদের নাজেহাল করার কোনো ঘটনা ঘটেনি।