ঢাকা ০৬:১৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬, ৭ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মধুপুরে শিশু ফাতেমা হত্যা:

মূল আসামি আব্বাস আটক, স্বর্ণের দুল উদ্ধার, ক্রেতাও গ্রেপ্তার

মধুপুর করেসপন্ডন্ট, শালবনবার্তাটোয়েন্টিফোর.কম
  • আপডেট সময় : ১২:১৫:৪২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬ ৫৯ বার পড়া হয়েছে

টাঙ্গাইলের মধুপুরে পাঁচ বছর বয়সী শিশু ফাতেমা হত্যার মূল আসামি আব্বাসকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গাজীপুর ও ময়মনসিংহসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে এক সপ্তাহের মাথায় শনিবার সন্ধ্যায় টাঙ্গাইল শহরের কলেজ মোড় এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও মধুপুর থানার ওসি (তদন্ত) আনোয়ার হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, হত্যার পর ফাতেমার কান থেকে ছিনিয়ে নেওয়া প্রায় দুই আনা ওজনের স্বর্ণের দুল আব্বাসের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে উদ্ধার করা হয়েছে। ধনবাড়ী পৌর শহরের সাগরিকা জুয়েলারি থেকে দুলগুলো রোববার সকালে উদ্ধার করা হয়। একই সঙ্গে চোরাই মাল কেনার অভিযোগে জুয়েলারি দোকানের মালিক পালান সরকারকে আটক করে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
এর আগে এ ঘটনায় নিহতের চাচাতো ভাই আব্বাসকে প্রধান আসামি করে ফাতেমার মা জুঁই খানম বাদী হয়ে দায়ের করা মামলায় আরও দুই এজাহারভুক্ত আসামি—আব্বাসের ছোট ভাই আলমাছ ও তার সহযোগী আলম—কে গ্রেপ্তার করা হয়। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশ অভিযান অব্যাহত রাখে।
নিহত ফাতেমা মির্জাবাড়ী ইউনিয়নের ভবানীটেকী নেংড়াবাজার এলাকার বাসিন্দা মো. আবু সামার মেয়ে। সে স্থানীয় একটি মাদরাসার প্রথম স্তরের শিক্ষার্থী ছিল। তার বাবা পেশায় একজন টেইলার মাস্টার।
পুলিশ ও পারিবারিক সূত্র জানায়, গত ১১ এপ্রিল আছর নামাজের পর ফাতেমা নিখোঁজ হয়। পরদিন এলাকার একটি ভুট্টা ক্ষেত থেকে তার মরদেহ উদ্ধার হয়। নিহতের মামা জনি খান জানান, ঘটনার সময় ফাতেমার কানে স্বর্ণের দুল ও গলায় রূপার মালা ছিল। অভিযোগ রয়েছে, মাদকাসক্ত চাচাতো ভাই আব্বাস প্রলোভন দেখিয়ে শিশুটিকে নিয়ে গিয়ে গহনা ছিনিয়ে হত্যার পর মরদেহ ফেলে রেখে যায়। ঘটনার পর পরই আব্বাস এলাকা থেকে গা ঢাকা দেন। আব্বাসকে প্রধান আসামি করে ফাতেমার মা জুঁই খানম বাদী হয়ে মধুপুর থানায় মামলা করেন।

ঘটনাটি এলাকায় গভীর শোক, উদ্বেগ ও ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। স্থানীয়রা দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

মধুপুরে শিশু ফাতেমা হত্যা:

মূল আসামি আব্বাস আটক, স্বর্ণের দুল উদ্ধার, ক্রেতাও গ্রেপ্তার

আপডেট সময় : ১২:১৫:৪২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬

টাঙ্গাইলের মধুপুরে পাঁচ বছর বয়সী শিশু ফাতেমা হত্যার মূল আসামি আব্বাসকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গাজীপুর ও ময়মনসিংহসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে এক সপ্তাহের মাথায় শনিবার সন্ধ্যায় টাঙ্গাইল শহরের কলেজ মোড় এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও মধুপুর থানার ওসি (তদন্ত) আনোয়ার হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, হত্যার পর ফাতেমার কান থেকে ছিনিয়ে নেওয়া প্রায় দুই আনা ওজনের স্বর্ণের দুল আব্বাসের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে উদ্ধার করা হয়েছে। ধনবাড়ী পৌর শহরের সাগরিকা জুয়েলারি থেকে দুলগুলো রোববার সকালে উদ্ধার করা হয়। একই সঙ্গে চোরাই মাল কেনার অভিযোগে জুয়েলারি দোকানের মালিক পালান সরকারকে আটক করে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
এর আগে এ ঘটনায় নিহতের চাচাতো ভাই আব্বাসকে প্রধান আসামি করে ফাতেমার মা জুঁই খানম বাদী হয়ে দায়ের করা মামলায় আরও দুই এজাহারভুক্ত আসামি—আব্বাসের ছোট ভাই আলমাছ ও তার সহযোগী আলম—কে গ্রেপ্তার করা হয়। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশ অভিযান অব্যাহত রাখে।
নিহত ফাতেমা মির্জাবাড়ী ইউনিয়নের ভবানীটেকী নেংড়াবাজার এলাকার বাসিন্দা মো. আবু সামার মেয়ে। সে স্থানীয় একটি মাদরাসার প্রথম স্তরের শিক্ষার্থী ছিল। তার বাবা পেশায় একজন টেইলার মাস্টার।
পুলিশ ও পারিবারিক সূত্র জানায়, গত ১১ এপ্রিল আছর নামাজের পর ফাতেমা নিখোঁজ হয়। পরদিন এলাকার একটি ভুট্টা ক্ষেত থেকে তার মরদেহ উদ্ধার হয়। নিহতের মামা জনি খান জানান, ঘটনার সময় ফাতেমার কানে স্বর্ণের দুল ও গলায় রূপার মালা ছিল। অভিযোগ রয়েছে, মাদকাসক্ত চাচাতো ভাই আব্বাস প্রলোভন দেখিয়ে শিশুটিকে নিয়ে গিয়ে গহনা ছিনিয়ে হত্যার পর মরদেহ ফেলে রেখে যায়। ঘটনার পর পরই আব্বাস এলাকা থেকে গা ঢাকা দেন। আব্বাসকে প্রধান আসামি করে ফাতেমার মা জুঁই খানম বাদী হয়ে মধুপুর থানায় মামলা করেন।

ঘটনাটি এলাকায় গভীর শোক, উদ্বেগ ও ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। স্থানীয়রা দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।