আজ মহান মে দিবস
- আপডেট সময় : ০৫:২২:৩২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১ মে ২০২৬ ২৬ বার পড়া হয়েছে

আজ শুক্রবার মহান মে দিবস। আজকের এই দিবস আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস হিসেবেও পরিচিত। নানা কর্মসূচিতে প্রতি বছর ১ মে বিশ্বব্যাপী পালিত হয়। এটি শ্রমজীবী মানুষের অধিকার, ন্যায্য মজুরি এবং মানবিক কর্মপরিবেশের দাবির এক ঐতিহাসিক স্মারক। এই দিনের পেছনে রয়েছে শ্রমিকদের দীর্ঘ সংগ্রাম, ত্যাগ এবং আন্দোলনের ইতিহাস।
মে দিবসের সূচনা ঘটে Haymarket Affair-এর মধ্য দিয়ে। ১৮৮৬ সালের ১ মে যুক্তরাষ্ট্রের Chicago শহরে হাজার হাজার শ্রমিক দৈনিক ৮ ঘণ্টা কাজের দাবিতে ধর্মঘট শুরু করে। সে সময় শ্রমিকদের ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা, কখনো কখনো ১৬ ঘণ্টা পর্যন্ত কাজ করতে বাধ্য করা হতো। তাদের এই অমানবিক পরিস্থিতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদই ছিল আন্দোলনের মূল উদ্দেশ্য।
৩ মে এবং ৪ মে আন্দোলন আরও তীব্র হয়ে ওঠে। ৪ মে শিকাগোর হে মার্কেট স্কোয়ারে এক সমাবেশ চলাকালে হঠাৎ একটি বোমা বিস্ফোরিত হয়। এর পরপরই পুলিশ গুলি চালায়। এই সংঘর্ষে বেশ কয়েকজন শ্রমিক ও পুলিশ নিহত হন। পরবর্তীতে অনেক শ্রমিক নেতাকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং কয়েকজনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। এই ঘটনাই ইতিহাসে “হে মার্কেট ট্র্যাজেডি” নামে পরিচিত।
এই আত্মত্যাগ বিশ্বব্যাপী শ্রমিক আন্দোলনকে শক্তিশালী করে তোলে। ১৮৮৯ সালে Second International নামক আন্তর্জাতিক শ্রমিক সংগঠন ১ মে-কে আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস হিসেবে ঘোষণা করে। এরপর থেকেই বিশ্বজুড়ে এই দিনটি শ্রমিকদের অধিকার প্রতিষ্ঠার প্রতীক হিসেবে পালিত হয়ে আসছে।
বাংলাদেশেও মে দিবস যথাযোগ্য মর্যাদায় পালন করা হয়। এই দিনে বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠন র্যালি, আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক কর্মসূচির আয়োজন করে। শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার, নিরাপদ কর্মপরিবেশ এবং সামাজিক মর্যাদা নিশ্চিত করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করা হয়।
মে দিবস আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, শ্রমিকদের অধিকার কখনো সহজে অর্জিত হয়নি; বরং তা এসেছে সংগ্রাম ও আত্মত্যাগের মাধ্যমে। তাই এই দিনটি শুধু একটি দিবস নয়, বরং এটি ন্যায়বিচার, সমতা এবং মানবাধিকারের জন্য চলমান সংগ্রামের প্রতীক।
পরিশেষে, মহান মে দিবস আমাদেরকে শ্রমের মর্যাদা দিতে, শ্রমিকদের অধিকার রক্ষা করতে এবং একটি ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠনে অনুপ্রাণিত করে।











