রূপপুরে পারমাণবিক জ্বালানি সংযোজন
বাংলাদেশের জ্বালানি খাতে নতুন যুগের সূচনা: ফকির মাহবুব আনাম
- আপডেট সময় : ১২:৪৬:২৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬ ১৬ বার পড়া হয়েছে

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রথম ইউনিটের ফিজিক্যাল স্টার্টআপ (ফুয়েল লোডিং) অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং ডাক, টেলিযোগাযোগ এবং আইসিটি বিভাগের মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম বলেন, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রে পারমাণবিক জ্বালানি সংযোজন ও ফিজিক্যাল স্টার্টআপ কার্যক্রম শুরুর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ জ্বালানি খাতে এক নতুন যুগে প্রবেশ করেছে। এর ফলে বাংলাদেশ শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক প্রযুক্তি ব্যবহারকারী দেশের কাতারে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান অর্জন করেছে।
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, এটি বহু বছরের পরিকল্পনা, গবেষণা, দক্ষতা উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার সম্মিলিত সাফল্য।
আজ মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) বেলা ৩টার দিকে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। এর মাধ্যমে বাংলাদেশ আনুষ্ঠানিকভাবে পারমাণবিক বিদ্যুৎ ক্লাবে যুক্ত হলো।
মন্ত্রী আরও বলেন, শিল্পায়ন ও আধুনিকায়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে নিরবচ্ছিন্ন, নির্ভরযোগ্য ও পরিবেশবান্ধব জ্বালানি অপরিহার্য। পারমাণবিক শক্তি সেই প্রয়োজন পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এবং দেশের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা ও শিল্পখাতকে আরও শক্তিশালী করবে।তিনি জোর দিয়ে বলেন, পারমাণবিক শক্তি ব্যবহারের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সরকারের অঙ্গীকার। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করে প্রকল্পের প্রতিটি ধাপে নিরাপত্তা, সুরক্ষা ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা হয়েছে।
ফকির মাহবুব আনাম প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে রাশিয়া প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন, আইএইএ মহাপরিচালক, রোসাটমের মহাপরিচালককে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রথম ইউনিটের ফিজিক্যাল স্টার্টআপ (ফুয়েল লোডিং) অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ, রোসাটমের মহাপরিচালক এলেক্সি লিখাচভ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আনোয়ার হোসেন। অনুষ্ঠানে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার মহাপরিচালক রাফায়েল গ্রসির পূর্বে ধারণকৃত বক্তব্য প্রচার করা হয়।

উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ বলেন, এই প্রকল্প কেবল একটি অবকাঠামো নয়; এটি আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও দেশীয় সক্ষমতার বাস্তব প্রতিফলন। ধারণা থেকে বাস্তবায়ন পর্যন্ত দীর্ঘ যাত্রা পেরিয়ে বাংলাদেশ আজ একটি নতুন প্রযুক্তিগত সক্ষমতা অর্জন করেছে।
তিনি আরও বলেন , রাশিয়ার সহায়তা, প্রযুক্তি ও অর্থায়ন এবং আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা-এর কারিগরি সহযোগিতা প্রকল্পটিকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করেছে।
রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক সংস্থা রোসাটম-এর মহাপরিচালক বলেন, রূপপুর প্রকল্প বাংলাদেশ–রাশিয়া সহযোগিতার এক উজ্জ্বল উদাহরণ। বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও প্রকল্পের কাজ সফলভাবে এগিয়ে চলেছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ এবং রোসাটম-এর মধ্যে সমন্বয় প্রকল্পের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
আইএইএ র মহাপরিচালক পূর্বে ধারণকৃত বক্তব্যে বলেন, বাংলাদেশ পারমাণবিক বিদ্যুৎ এর মাইলফলক অর্জন করেছে এবং শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক শক্তি ব্যবহারে যুগান্তকারী পদক্ষেপ।
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব বলেন, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র কেবল একটি অবকাঠামোগত প্রকল্প নয়; এটি বাংলাদেশের সক্ষমতা, আত্মবিশ্বাস এবং প্রযুক্তিগত অগ্রগতির একটি প্রতীক। দ্রুত শিল্পায়ন, নগরায়ন এবং ক্রমবর্ধমান বিদ্যুৎ চাহিদা পূরণে নিরবচ্ছিন্ন ও পরিচ্ছন্ন জ্বালানি নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি। পারমাণবিক শক্তি সেই প্রেক্ষাপটে একটি টেকসই ও কার্যকর সমাধান, যা জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার করার পাশাপাশি কার্বন নিঃসরণ কমাতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
বক্তব্য শেষে মন্ত্রী, উপদেষ্টা, সচিব সুইচ টিপে ফুয়েল লোডিং কার্যক্রম উদ্ধোধন করেন যার মাধ্যমে বাংলাদেশ ৩৩তম পারমাণবিক শক্তি ব্যবহারকারী দেশ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়।
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়, ফুয়েল লোডিং কার্যক্রম শেষ হলে বিভিন্ন পরীক্ষা নিরীক্ষা শেষে আগস্টের শুরুতে জাতীয় গ্রিডে ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ যোগ হবে। পরবর্তীতে বিভিন্ন ধাপে জানুয়ারিতে সম্পূর্ণ সক্ষমতায় ১ম ইউনিটের বিদ্যুৎ গ্রিডে যুক্ত হবে। অনুষ্ঠানে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়, আইএইএ, রোসাটম, বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন, বাংলাদেশ পারমাণবিক শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ, এনপিসিবিএলের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন





















